ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাংঘর্ষিক বিধায় উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান রেখে বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, বিচারপতিসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সুপারিশ রিপোর্ট তৈরি করে সংসদে পেশ করেছে। এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করার পর সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।এই বিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকাল, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো বিলুপ্তির সুপারিশ প্রস্তাবিত আইনে রয়েছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব রেখে বিলে বলা হয়, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ক. মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং খ. মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে’ প্রতিস্থাপিত হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের সুপারিশ করেছে কমিটি। এজন্য সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদে নতুন একটি দফা সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকে অপরাধ বিবেচনায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে চিহ্নিত করে বিলে বলা হয়েছে, অপরাধে দোষী ব্যক্তি সংসদেও আইন দ্বারা অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দন্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দন্ডিত হবে। আদিবাসী সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশ নামে ২৩ (ক) নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হবে। সুপারিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া সংসদে নারী আসন আরও পাঁচটি বৃদ্ধি ও নির্বাচন কমিশনে সদস্য সংখ্যা ৫ করার সুপারিশ বিলটিতে করা হয়েছে। ৭ মার্চের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং এর ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুর দেয়া টেলিগ্রাম সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বিলে সুপারিশ করা হয়েছে। মুজিবনগর সরকারের ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিলে রয়েছে। এই বিলে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অনধিক ৪ নির্বাচন কমিশনার নিয়ে সর্বোচ্চ ৫ সদস্যের কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করে আলাদা অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব বিলে রয়েছে। বিলে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়গুলো রয়েছে। তবে বিশেষ কমিটিতে এই ৩ বিষয়ে ২ সদস্যের (মেনন ও ইনু ) আপত্তি দেয়া (নোট অফ ডিসেন্ট) থাকলেও বিলে তা উল্লেখ করা হয়নি।

১৯৪৯ সালে প্রবল পাকিস্তানি স্রোতের বিপরীতে বঙ্গবন্ধুরা মুসলিম লীগের বলয়বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলেন। একপর্যায়ে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ গঠন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের শরীর থেকে মুসলিম শব্দটি পরিত্যাগ করেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং মহান ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল। বঙ্গবন্ধু সব কিছুকে বিবেচনা করেই একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সৃষ্টি করেছিলেন।

যে তরুণ প্রজন্ম মহাজোটকে সরকারে এনেছে তারা শুধু যুদ্ধাপরাধের বিচারই চায়নি, একটি রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রও দাবি করেছে। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নাগরিকের ধর্মাচারণের বিরুদ্ধে নয়, পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে। ত্রিশ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বাইরে হতে পারে না।

আমাদের উচিত হবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফেরা। ইসলাম ধর্মের আন্তর্জাতিক চরিত্রকে সংরক্ষণ করা। কারণ কাঁঠাল ‘জাতীয় ফল’ হতে পারে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ‘জাতীয় পশু’ হতে পারে, ক্ষুদ্র দোয়েল ‘জাতীয় পাখি’ হতে পারে কিন্তু আন্তর্জাতিক ধর্ম পবিত্র ইসলাম জাতীয় পশুপাখির সমান্তরাল হতে পারে না, এতে ইসলামকে নীচু করা হয়েছে, অবমাননা করা হয়েছে।

***
তথ্য উপাদান : প্রথম আলো, সমকাল ও সংবাদ