ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব


প্রখ্যাত সাংবাদিক, সম্পাদক ও কলামিস্ট জহুর হোসেন চৌধুরী

আজ ২৭শে জুন | বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জগতে প্রখ্যাত সাংবাদিক, সম্পাদক ও কলামিস্ট জহুর হোসেন চৌধুরীর ( ২৭ জুন ১৯২২-১১ ডিসেম্বর ১৯৮০ ) জন্মদিন |

পঞ্চাশ-ষাট দশকে মানিক মিয়া, আব্দুস সালাম ও জহুর হোসেন চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের হতভাগ্য মেহনতি মানুষের জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন তা আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাসের স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় | জহুর হোসেন চৌধুরী তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় সংবাদপত্র জগতে ব্যয় করেছেন | তার সাংবাদিক জীবনের সূচনা হয় প্রয়াত হাবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত ‘বুলবুল’ পত্রিকায় | তিনি ১৯৫১ সালে ” সংবাদ “-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫৪ সালে সম্পাদক নিযুক্ত হন | মুক্তিযুদ্ধে সংবাদ-এর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ | প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল | তৎকালীন সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংবাদ নির্ভীক খবর পরিবেশন ও আন্দোলনের দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছে | যার কারণে মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী ঢাকার বংশালস্থ সংবাদ অফিস পুড়িয়ে দিয়েছিল |

ছাত্রজীবন থেকেই জহুর হোসেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন | সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে পঞ্চাশের দশকে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যুক্ত হন | কর্মদক্ষতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার গুণে তিনি অল্প দিনের মধ্যে সকলের নজর কাটতে সক্ষম হন | এরপর তিনি ন্যাপের প্রাদেশিক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন | তৎকালীন পাক-চীন মৈত্রী সমিতি এবং পাক-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও সদস্যও ছিলেন তিনি | এছাড়া সাবেক পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পূর্ব পাকিস্তান প্রেস ক্লাবেরও তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা | ষাটের দশকে তিনি নেপথ্যে থেকে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থীদের মধ্যে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্যে ঐক্য মোর্চা গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন |

দৈনিক সংবাদের পাতায় তিনি ‘দরবার-ই-জহুর’ নামে যে কলাম লিখতেন, তা খুবই জনপ্রিয় ছিল | এসব নিবন্ধেরই বাছাই করা সঙ্কলন ” দরবার-ই-জহুর ” নামে ১৯৮৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় |

১৯৮১ সালে তিনি মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন | দৈনিক সংবাদ তার স্মরণে প্রবর্তন করেছে ” জহুর হোসেন স্মৃতিপদক ” |

***
তথ্য প্রাপ্তি : দৈনিক সংবাদ ও ছবি নেট থেকে