ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

এতদিন এসএমএস বিড়ম্বনার যাঁতাকলে থাকা গ্রাহকগণ ঈদানিং আমাদের দেশের মুঠোফোন সংযোগ কেম্পানীগুলোর নতুন আরেকটি বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন আর সেটা হল সার্ভিস বিড়ম্বনা! বিষয়টিকে আরেকটু খোলাশা করে বলি। আমি একটি জিপি সংযোগ ব্যবহার করি। দুই দিন আগে আমার মোবাইলে একটি এসএমএস আসে যে বাডি ট্র্যাকার নামে একটি সার্ভিস একটিভ রাখতে হলে আমার একাউন্টে ২.৫০টাকার মত ন্যূনতম রাখতে হবে এবং সার্ভিসটি একটিভ না রাখতে চাইলে আবার আর একটি এসএমএস পাঠাতে হবে। আকাশ থেকে পড়লাম! আমি তো সার্ভিস একটিভই করিনাই ডিএকটিভ করব কোন দু:খে। যাই হোক জলদি স্টপ লিখে এসএমএস পাঠিয়ে দিলাম নির্ধারিত নম্বরে সার্ভিসটি ডিএকটিভ করার জন্য, ভাবলাম ল্যাঠা চুকে যাক।

গতকাল একটি এসএমএস আসল যে,বাডি ট্র্যাকার সার্ভিসটি পুননবায়নের জন্য আমার একাউন্ট থেকে ২.৫০+ভ্যাট কেটে নেয়া হয়েছে! আমার অবাক হবার ক্ষমতা চইলা গেল(!) ক মামারা করি কি!! খালি বুঝতাছি যে সব কিছু ছিরা ফালাইতে মন চাইতাছে! দিলাম কল ১২১ এ। শুরু হইল “বাংলায় শুনতে চাইলে…ফর ইংলিশ…..বগর বগর…” ৩ মিনিট পর কাষ্টমার ম্যানেজারের মিষ্টি গলা “হ্যালো…বলছি” আর লাইন গেল কেটে! আর কি পরানে মানে! গুষ্ঠি উদ্ধার কইরা দিলাম আবার কল। আবার ৪ মিনিট….! কইলাম, ম্যাডাম আমি তো এইসব বাডি ট্র্যাকার-ফ্যাকার একটিভ-ই করিনাই তয় এইটা হইল কেমনে! তারপরআবার “ষ্টপ” এসএমএস পাঠানোর পরো আমার টাকা কাটলেন ক্যান??? উনি মিষ্টি কইরা কইলেন “স্যার, নাম্বার কি এটাই? আপনি একটিভ করেননি? একটু অপেক্ষা করুন দেখছি……১৫ সেকেন্ড পর….আচ্ছা আপনি ষ্টপ কি বড় হাতের অক্ষরে লিখেছিলেন নাকি ছোট হাতের….ক্যাচর.. ক্যাচর …আর টিকতে না পাইরা বললাম ফালতুমি কর ছাইড়া দেন! আরো কিছু মুখে আইসা পড়ার আগে দিলাম লাইনটা কাইটা! দেখি আমার ১০ টাকা নাই!!! ছিলই ১১.৫০ টাকা… এই টাকায় বান্ধবীর লগে ২০ মিনিট কথা কইতে পারি! রাগে দু:খে দেখি অটো চোখে পানি চইলা আসল!….এটা হল আমার অভিগ্গতা।

এবার বলি আরেকটি অভিজ্ঞতা যা গত মাসে হয়েছিল আমার এক কাছের বড় ভাইয়ার। গ্রামীন ফোন থেকে তার মুঠোফোনে এসএমএস আসল য়ে, তিনি ১৫ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্রাউজিং ফ্রি পেয়েছেন। তো তিনি একটু অবাক মিশ্রিত খুশি হয়ে আমাকে বিষয়টি জানালেন। যাইহোক ব্যাপারটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। কয়েক দিন আগে তার ফোনে আবার এসএমএস এসেছে যে, ইন্টারনেট প্যাকেজ এক্টিভেট রাখার জন্য তার একাউন্ট থেকে ৩৩ টাকা কেটে নেয়া হয়েছে! অথচ তিনি কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ এক্টিভেট-ই করেননি। কাস্টমার কেয়ার এ কল দেয়ার পর স্মার্ট(!) কাষ্টমার ম্যানেজার বললেন, ” দেখুন স্যার বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে আমরা সবাইকে ইন্টারনেটের “টাচ” এ রাখার জন্য এই (অ)কাজটি করি!”

এখন প্রশ্ন হল, যে গ্রাহকটি কোন এসএমএস পাঠিয়ে কোন নির্দিষ্ট সার্ভিস ক্রয় করেননি সেই নির্দিষ্ট সার্ভিস ডিএকটিভেট করার জন্য তাকে এসএমএস পাঠাতে হবে কেন?? তার অনুমতি ছাড়া তার ব্যালেন্স হতে টাকা কেটে নেয়ার এখতিয়ার মুঠোফোন সংযোগ কোম্নানিগুলোকে কে দিয়েছে?? আজ একজন রিক্সাচালক বা একজন শ্রমিক অথবা একজন কৃষকের হাতে পর্যন্ত মোবাইল আছে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বললেই চলে। তারা একটি মোবাইলের লাল এবং সবুজ বোতাম ছাড়া অন্য কোন ব্যবহার জানেননা। এছাড়া তারা অধিকাংশই ইন্টারনেট অপশনযুক্ত ফোন ব্যবহার করেন এমনটি ভাবা নিশ্চই স্মার্ট(!) কাষ্টমার ম্যানেজারদের পাশাপাশি মুঠোফোন সংযোগ কোম্পানীগুলোর এমন নির্বোধের মত ধারনা থাকা অনুচিত। না তারা নির্বোধ নন।

এমনি ভাবে চলছে কারন এটা হল আনইনফর্মড গ্রাহকদের পকেট থেকে জোচ্চোরির মাধ্যমে বিদেশী এসব মুঠোফোন সংযোগ কোম্নানিগুলোর অর্থ হাতিয়ে নেবার একটা হীন অপচেষ্টা! আমি মনে করি এর চেয়ে অনেক ভালো পথ হবে আপনাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেকের হাতে একটা করে থালা দিয়ে তাদের রাস্তায় বসিয়ে দিন। অন্তত আমরা সেখানে যা দান করব তা আমরা নিজেরা জানব। এভাবে চুরির পথ বেছে নেয়ার কি প্রয়োজন??????