ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে চাই আজকের লেখা। আজকের লেখা কে ‘লেখা’ বলা বোধহয় ভুল হবে, বরং বলা চলে ‘একপেশে মনস্তাত্বিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ’ ।

চারপাশ থেকে ভেসে আসছে পিচ্চি বোমার শব্দ। ঠুস…ঠাস…পট…পট…। বুঝতেই পারছেন, আমি নিউক্লিয়ার বোমার কথা বলছি না, বলছি আতসবাজি আর পটকার কথা। এসব পিচ্চি বোমার ভালো দিকটি হল, এরা জনসম্পদের তেমন কোনো ক্ষতি করে না। আর খারাপ দিকটি হল- এটি কিছু মানুষের পকেটের ও বাকি সবার কানের কিঞ্চিত ক্ষতি সাধন করে। তবে কিঞ্চিত এই ক্ষতি আর ‘কিঞ্চিত’-এ সীমাবদ্ধ থাকে না তখন, যখন এর সাথে যোগ হয় ‘কড়া উত্তেজক পানীয়’ ও ‘তারস্বরে তারছেঁড়া হিন্দি/ইংরেজী গান’ কিংবা ‘বিচিত্র ভাষার রাতভর চিৎকার ও হৈ হুল্লড়’। মানুষের এই উচ্ছাস ভালোলাগে আমার। কিন্তু, প্রবাদে আছে- কুত্তার লেজ ঘি তেও সোজা হয় না। হয়ত সেজন্যি, শিক্ষা বিজ্ঞান থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে বেরসিকের মত আমি ভাবতে বসি- আজ রাতে আমরা সবাই যত টাকা খরচ করব তা দিয়ে হয়ত ১০০ টি নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যেত। আমি ভাবতে বাধ্য হই, যখন দেখি ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়েরা কড়া রোদ আর বৃষ্টিতে ভিজে খোলা মাঠে ক্লাস করে। আমি ভাবতে বাধ্য হই, যখন শুনি কোনো ৭ বছর বয়সী শিশু ৩ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে আসা-যাওয়া করে প্রতিদিন। কত বাচ্চা না খেয়ে ক্লাস করে প্রতিদিন; মাত্র একটি শার্ট ও একটি মাত্র প্যান্ট পরে কতজনের কেটে যায় স্কুল জীবন। আমরা অধোঃবদনে বলি-আমরা গরীব, মানসম্মত শিক্ষা তাই দুরাশা; অথচ আমরা বিএমডব্লিও-মার্সিডিজ চালাই, একদিনে উত্তেজক পানীয় খেয়ে খরচ করি হাজার-হাজার টাকা।

হয়ত, এমন একদিন আসবে যেদিন মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন তাঁদের আত্মারা চাইতে আসবে রক্ত-ঋনের হিসাব। কি জবাব দিব আমরা সেদিন, কি জবাব দেবে জাতি…