ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

প্রায়ই সংবাদ কিংবা কলাম পড়তে গিয়ে চোখে পড়ে ‘বাংলাদেশে শিক্ষার হার’ এবং বরাবরের মত ধাক্কা খাই, থমকে দাঁড়াই, আটকে থাকি কিছুক্ষণ, একটি গোপন দীর্ঘশ্বাসের সাথে পেপার পড়া শুরু করি আবার। সেই গোপন দীর্ঘশ্বাসের গোপন কথা বলতেই আজ আমার লেখা।

শিক্ষা একটি বৃহত্তর ধারনা। সাধারণভাবে কোনো জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই হল শিক্ষা। বৃহত্তর ধারণায় শিক্ষা হল মানুষের অভ্যন্তরে অন্তর্নিহিত গুনাবলীর বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে বিবিধ চর্চা বা অনুশীলন। শিক্ষা হতে পারে আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগত উপায়ে, হতে পারে অনানুষ্ঠানিক কিংবা উপানুষ্ঠানিক উপায়ে। তবে যে উপায়েই হোক না কেন, শিক্ষার লক্ষ্য হল মানবের মানবিকতার সার্বিক বিকাশ সাধন। যেহেতু শিক্ষা অনানুষ্ঠানিক উপায়ে হতে পারে; কাজেই যিনি কখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পান নি, তিনিও শিক্ষিত হতে পারেন কিন্তু সাক্ষর হতে পারেন না। কারন সাক্ষর হতে হলে, চিরাচরিত ধারনা অনু্যয়ী- সহজ ভাষায় লেখা বই পড়ে বুঝতে পারতে হবে, সহজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় হিসাব করতে পারতে হবে, সহজ ভাষায় নিজের মনের কথা লিখে প্রকাশ করতে পারতে হবে। ‘শিক্ষার হার’ কথাটিই অবাস্তব, কারন নিরক্ষর-সাক্ষর নির্বিশেষে সবাই কম-বেশি শিক্ষিত। যিনি নিরক্ষর, তিনি তার পরিবেশ থেকে, আশেপাশের মানুশ থেকে নিয়মিত শিখছেন। নিরক্ষর বলেই তার মানসিক বিকাশ থেমে নেই। কাজেই প্রায়ই আমরা যাকে শিক্ষার হার বলে থাকি তা আসলে সাক্ষরতার হার।

শিক্ষা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হবার আগে শিক্ষা ও সাক্ষরতার পার্থক্য আমার বোধগম্য ছিল না; সেজন্যি তখন গোপন দীর্ঘশ্বাসও ছিল না। যেহেতু সাংবাদিকগন শিক্ষা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নন, কাজেই ত্বাত্তিক ধারনাগত প্যাচে পড়ে তারা তাদের বক্তব্যের ভুল উপস্থাপনা করতেই পারেন। তবে আজকের সংবাদপত্র যেহেতু জ্ঞনীয় পরিভ্রমনের একটি বড় মাধ্যম, তাই সাংবাদকর্মীগনের আর একটু বেশি সচেতনতা বোধকরি আমাদের সকলেরই কাম্য।

রেফারেন্সঃ শিক্ষাকোষ (পৃষ্ঠা-৭৩২, ৮৩৮)