ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

বিডিনিউজের পাতা খুলতেই কয়েকটি হেডলাইন চোখে পড়ল,

বর্ষণে পাহাড় ধস চট্টগ্রামে নিহত ১১
চট্টগ্রামে তড়িতাহত হয়ে ৩ জনের মৃত্য
বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা
চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ
ফেইসবুকে দেখলাম সহপাঠী হাসান মনসুরের আপডেট , আমরা আজ সত্যিই উদ্বিগ্ন। প্রবল বর্ষণে আমাদের প্রিয় চট্টগ্রাম – পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে কমবেশি আমরা সবাই হতাশ।………।

দেশে আমাদের চট্টগ্রামের বাসায় ফোন দিলাম। শুনলাম আমাদের এক আত্মীয়ার কথা। ভদ্রমহিলা একা স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় থাকেন।বাসার খাট,সোফা সব পানিতে তলিয়ে গেছে।জানতে চাইলাম,কেউ সাহায্য করতে গেছে কিনা।বলল,রাস্তায় পানি না কমা পর্যন্ত কেউই যেতে পারছেনা!

মোটামুটি এতটুকু থেকেই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ অনুমান করা যায়। সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে আসছি এই সমস্যাগুলি। বছর বছর ভোগান্তি বাড়ছে বই কমছেনা।ছোটবেলায় শুনেছি চীনের দুঃখ হোয়াং হো আর চট্টগ্রামের দুঃখ চাক্তাই খাল। এই চাক্তাইয়ের খাল খনন,জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির কথা,ইত্যাদি ইত্যাদি সেই স্বৈরাচার এরশাদের(যদিও উনি স্বৈরাচার বললে কস্ট পান,তবুও রাজাকারকে রাজাকার আর স্বৈরাচারকে স্বৈরাচার বলবই) আমল থেকেই শুনে আসছি। সব দলই এগুলোকে নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি হিসেবে বলে থাকেন কিন্তু বাস্তব অবস্থার কোন উন্নতি নাই।অনেক কথা হয়,আলোচনা হয়। কিন্তু কাজ তেমন কিছুই হয়না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন,চট্টগ্রামের উন্নয়নের ভার তিনি নিজের কাধে নিয়েছেন। চট্টগ্রাম গত নির্বাচনে উনাকে অনেকগুলো আসন দিয়েছে,দেশের জন্য বিরাট একটা রাজস্ব ও সরবরাহ করে যাচ্ছে। তাই চট্টগ্রামের মানুষকে এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের জন্য আশু ব্যবস্থা নেয়া হোক।। চট্টগ্রামের অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল পদক্ষেপ নেয়া হোক। এই ব্যাপারে শীগ্রই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।