ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

সারাদিনের ব্যস্ততায় ভুলেই গেছিলাম আজ বন্ধু দিবস।কাজ শেষে বাসায় ফিরছি এমন সময় টেলিফোনে একটা ক্ষুদে বার্তা পেলাম। বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা আসলো দূরে থাকা একজন কাছের বন্ধুর কাছ থেকে। বার্তা পেয়ে খুবই ভাল লাগল।পার্থ বড়ুয়ার একটা গান মনে পড়ে গেলো বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ!আমাদের দুজনের কত কথা হত এক সময়,কত কত হাসি ঠাট্টা, খুনসুটি ইত্যাদি ইত্যাদি।আড্ডায় আড্ডায় কত রাত যে নির্ঘুম কেটে গেছে সেই হিসাব নেই। সবই এখন নস্টালজিয়া!প্রতিষ্ঠা আর পসার মানুষকে একদিকে যেমন অনেক কিছু দিয়ে যায়,আবার অনেক কিছু নিয়েও যায়। আরাম আয়েস আর জৌলুস দিয়ে কেড়ে নিয়ে যায় ছোট ছোট কিছু মানবিক সুখ। যেমন, আমার খুব কাছের এই বন্ধুর সাথে গত তের বছরে মাত্র একদিন দেখা হয় তাও কিনা মাত্র দু’ঘন্টার জন্য।ভাবি,বছরে ৩৬৫ দিন হিসাবে এই ১৩ বছরে আরো কতগুলো মধুর স্মরনীয় মুহূর্তই না কাটানো যেত!তাও ভাল, প্রযুক্তির কল্যানে দুই আলাদা আলাদা মহাদেশে বসবাকারী দুজনের মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয়। এক সময় নিয়মিত কথা হত,এখন দু’দেশের সময়ের ফারাক আর উত্তরোত্তর ব্যস্ততা বাড়াতে আজকাল দুজনের খুব কমই কথা হয়! আগে ছোট বড় অনেক কিছুই শেয়ার করতাম আমরা।ভাল লাগা না লাগা, স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন,প্রথম প্রেম,প্রথম চুম্বন ইত্যাদি ইত্যদি সহ দুটি মনের এমন কোন কথা নেই যা বলা হয়নি।যেকথা বাবাকে বলা যায়না,মাকে বলা যায়না এমন কি সারা জীবনের সাথী স্ত্রীকে বলা যায়না ,বন্ধুকে অকপটে বলা যায়। বন্ধু সুখের ভেলায় আর দুখের সাগরে পাশাপাশি থাকে। আমাদের এখন শারীরিকভাবে হয়ত পাশে থাকা হয়না,কত কিছুই তো আর বলা হয়ে উঠে না। তবুও অনুভূতিতে এতটুকু ধুলো জমে যায়নি।বন্ধু তো চিরকালেরই বন্ধু। যেখানেই হোক যতদূরেই হোক সে আছে, ভাল আছে-এটাই বা কম কিসের। বন্ধু দিবসে সব বন্ধুদের শুভেছা।