ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ১৫টি নতুন রাস্ট্রের জন্ম নেয়।এই রাস্ট্রগুলো হচ্ছে রাশিয়া,বেলারুশিয়া,ইউক্রেন,মালদোভা,কাজাকস্তান,কিরঘিজিয়া,তুর্কিমিনিস্তান,উজবেকিস্তান,তাজিকিস্তান,আর্মেনিয়া, আজারবাই্জান,জর্জিয়া,লাতভিয়া,এস্তোনিয়া,লিথুনিয়া।এই দেশগুলির মধ্যে রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও বিস্তৃত সীমানা নিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ।এককেন্দ্রিক এই বিশ্বে এখনো পারমানবিক শক্তিধর এ দেশটির বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রয়েছে ভিন্ন মত।যেমন ইরান বা সিরিয়া ইস্যু।তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন এই দেশটিতে আগামী ৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে খোদ আমেরিকা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আগ্রহের কমতি নেই।পৃথিবীর নামী দামী প্রায় সব পত্রিকাগুলিতেই এই নির্বাচন নিয়ে খবরাখবর ছাপা হচ্ছে।বিশেষকরে গতবছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।ক্ষমতাশীন ইউনাইটেড রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে বিরোধীপক্ষের বিশাল সমাবেশ এখন পুতিনবিহীন রাশিয়া এর আন্দোলনে রুপ নিয়েছে।বিগত নির্বাচনে পুতিনের দলের জনপ্রিয়তা নীচে নেমে এসেছে।২০০৭ সালের নির্বাচনের ৬৪% থেকে ৪৯% আর সীটসংখ্যা(মোট ৪৫০) ৩১৫ থেকে ২৩৮এ এসে দাড়িয়েছে।দ্বিতীয় দল হিসাবে কমিউনিস্ট পার্টি অব রাশিয়া ৯২টি(আগের চাইতে ৩৫টা বেশী),তৃতীয় দল ৬৪টি(আগের চাইতে ২৬টি বেশী),চতূর্থ দল লিবারেল ডেমোক্রেট ৫৬টি(যা আগের চাইতে ১৬টি বেশী)।তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই দলগুলির উল্লেখয়োগ্য কেউ পুতিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সাথে নেই।তবে পুতিনবিরোধীরা নির্বাচনের এই ফলাফলকে পুতিনের বিরুদ্ধে জনগনের রায় হিসাবে দেখছে।
আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান প্রার্থীরা হচ্ছেনঃ ক্ষমতাশীন ইউনাইটেড রাশিয়ার প্রার্থী দুইবারের প্রেসিডেন্ট(২০০০,২০০৪)ও রাশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরিভিচ পুতিন,কমিউনিস্ট পার্টি অব রাশিয়ার প্রার্থী গেন্নাদি আন্দ্রেভিচ যুগানভ(১৯৯৬,২০০০,২০০৮ এ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রধান প্রতিদন্দ্বী), লিবারেল ডেমোক্রেট দলের ভ্লাদিমির ভোলফভিচ জিরিনভস্কি(১৯৯৬,২০০০,২০০৮ এর নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী), এ জ়াস্ট রাশিয়ার সের্গেই মিখাইলভিচ মিরনভ(রাশিয়া সংসদ এর উচ্চতর কক্ষের সাবেক স্পীকার) ও রাশিয়ার তৃতীয় ধনী,পুতিনবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মিখাইল দিমিত্রভিচ প্রখারভ।বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাসে পুতিন এগিয়ে আছে।৫০% এর অধিক ভোট পেয়ে প্রথম দফা নির্বাচনেই পুতিন বিজয়ী হবেন বলেই বিভিন্ন পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে। মোটামুটি পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী পুতিন ৫৮.৬%,কমিউনিস্ট যুগানভ ১৪.৮%,লিবারেল ডেমোক্র্যাট জিরিনভস্কি ৯.৪%,আলিগার্খ প্রখারভ ৮.৭% ও সাবেক সিনেটর মিরনভ ৭.৯% ভোট পাবেন বলে ধারনা করা যাচ্ছে।
ইয়েলেতসিৎ উত্তর এক যুগ ধরে রাশিয়াতে রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নে পুতিনের ব্যাপক ভুমিকা রয়েছে।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।গত বছর ডিসেম্বরে দীর্ঘদিন পর বিশ্ব বানিজ্য সংগঠন(WTO) এর সদস্যপদ লাভ করেছে।অনেকে এটাকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুতিনের বিজয় বলেই মনে করে।অতীতের তুলনায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সত্তেও বড় বড় শহরগুলোতে পেনশনভোগী ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।এই শ্রেণীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থন আছে পুতিনের।২০০৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে নব্য ধনীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ সমাজের সাধারন মানুষের প্রসংশা অর্জন করেছে। সর্বোপরি স্তিতিশীল রাশিয়ার জন্যে বিকল্প কেও নেই বলে পুতিনপন্তীদের প্রচারের প্রতি দেশের একটা বিরাট অংশের সমর্থন আছে।আবার বিরোধীদের প্রচারনায় উঠে আসছে দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,নির্বাচন কারচুপি,একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব,ব্যাপক অব্যবস্তাপনা ইত্যাদি।পুতিনের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় সরকারী প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনা হচ্ছে।বিগত সময়ে রাশিয়ার উন্নয়নে পুতিনের ভুমিকা নয়,বর্ধিত তেলের মূল্যকেই প্রধান কারন হিসাবেই দেখছে বিরোধী ভোটাররা।
কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী গেন্নাদি যুগানভ রাশিয়ান টিভিতে এক নির্বাচনী বক্তৃতায় বলেছেন,গত ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি ও বামপন্থীরা মোট ৪৫% ভোট পেয়েছে।যদি কারচুপি না হতো তবে এটা ৫৫% এ গিয়ে দাড়াতো।কিন্তু এই শক্তিগুলির একত্রীকরনের কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই বলা যায়।পুতিন বিরোধী আন্দোলনের নেতা প্রখারভের জনপ্রিয়তা নির্বাচনের শেষের দিনগুলিতে কিছুটা বাড়লেও তা শতাংশের হিসাবে দুই অংকের সংখ্যায় পৌছুয়নি।
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন,আগামী বছরগুলোতে নতুন প্রেসিডেন্টকে আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকগুলি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।আভ্যন্তরীন সমস্যাগুলির মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে-ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা,বেকারত্ব সমস্যা,অনুন্নত শহরগুলির উন্নয়ন,তেল গ্যসের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি,ক্ষুদ্র ও মাঝারী মাপের ব্যবসা ও শিল্পের উন্নয়ন, WTO এর সদস্য হিসাবে বিভিন্ন সংস্কার ইত্যাদি।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইরানের উপর মার্কিন ও ইস্রায়েলের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলা,সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি,উত্তর কোরিয়ার সাথে আমেরিকাসহ আনর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক উন্নয়ন ইত্যাদি।নতুন প্রেসিডেন্টকে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে একটি উদার ও স্বচ্ছ গনতান্ত্রিক,উন্নত দেশ হিসাবে রাশিয়ার ভাবমূর্তিকে উর্দ্ধে তুলে ধরতে হবে।