ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

ছোট্ট উমিদের আজ সকাল থেকে মনটা খুব খারাপ।স্কুলের একজন শিক্ষক ক্লাসের বেশ কয়েক জনের কাছে একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইল।প্রশ্নটা হচ্ছে-তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? কেও বলল ডাক্তার,কেও বলল ইঞ্জিনিয়ার,আর কেওবা শিক্ষক ইত্যাদি ইত্যাদি। উমিদের পালা আসলেই সে একটু ভড়কে গেলো।সবে মাত্র ক্লাস থ্রীতে পড়ে ও।এখনো সে জানেনা বড় হয়ে কি হবে।আসলে এভাবে কখনো ভাবেনি।খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ,স্কুল,কম্পিউটার গেম,প্রাইভেট টিউটর আরো কতকি!এগুলির ফাঁকে সময়ই পায়না এসব কিছু ভাবার।কিন্তু আজ তো তাকে বলতেই হবে।মনে মনে ভাবছে,ধ্যাত কি যে বলি?বন্ধু রানা বলেছে,ডাক্তার হবে। তাই সেও বলে দিল,স্যার বড় হলে আমি ডাক্তার হব।কিন্তু সে তো ডাক্তার হতে চায়না,তবে কি হবে সে? ভেবে ভেবে হদিস পায়না।বাসায় ফিরে আজ কিছুতেই তার মন বসেনা।আজ তাকে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুজে পেতেই হবে।রাতে খাবারের টেবিলে বসে একবার চিন্তা করলো মাকে জিজ্ঞাসা করলে কেমন হয়?না বাবাকে জিজ্ঞেস করাটাই ভাল।বাবা দেশের একজন মন্ত্রী।কত প্রভাব প্রতিপত্তি তার!নিশ্চয়ই উনি বলে দিতে পারবেন।রাত বারোটা বেজে গেল।মা বোধ হয় ঘুমিয়েই পড়েছে।কিন্তু তার ঘুম আসেনা।বাবার জন্য অপেক্ষা।রাত দুটার দিকে দরজায় কলিং বেল বাজল।শব্দ পেয়েই দৌড়ে ছুটে গেল বাবার দিকে। মন্ত্রী সাহেব এত রাত পর্যন্ত একমাত্র ছেলেকে জেগে থাকতে দেখে একটু অবাকই হল। -কিরে ঘুমোসনি? -না, বাবা -কেনো? -একটা প্রশ্ন -কি প্রশ্ন আবার এত রাতে? -বাবা,আমি বড় হয়ে কি হব? ছেলের কথা শুনে এবার বাবা হেসে দিল।কিন্তু স্বভাবসুলভ দৃঢ়কণ্ঠে জবাব দিলেন -তুমি বড় হয়ে মন্ত্রী হবে। জবাবটা বেশ পছন্দ হল উমিদের।তারপর খুব কৌতূহল নিয়ে বলল -আচ্ছা বাবা, প্রধানমন্ত্রী না কেন? এইবার মন্ত্রীসাহেবের খুব রাগ হল।ক্রুদ্ধস্বরে বলল -আরে বেডা, প্রধানমন্ত্রীর নিজের পুত আছেনা,তুই মন্ত্রীর পুত মন্ত্রীই হইবি!