ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে মার্চ মাস একটি ঐতিহাসিক মাস।এই মাসেই শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবস আর এই মাসেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মদিন।পাকিস্তানের হানাদারদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ এ এই মাসেই শুরু হয়েছিল এদেশের মুক্তিপাগল মানুষের সশস্ত্র প্রতিরোধ তথা স্বাধীনতার সংগ্রাম।এই মাসে বাংলেদেশ মায়ানমার সাথে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমানা নিয়ে যে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালত অব্দি গড়ায় তার চূড়ান্ত রায়ে জয় পেয়েছে। এই মাসে এদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১২। স্বাগতিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশ লড়াই করে খেলে যদিও পাকিস্তানের সাথে হেরেছে,কিন্তু পরের খেলায়ই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার সামনের সারিতে চলে আসে। এর পর আজ ২০মার্চ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে খেলে চার বারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকাকে ৫ উইকেটে হারায়।ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, বাংলাদেশ সুযোগ্য দল হিসাবেই এই প্রথম বারের মত এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে।এই জয় কোনো বিশেষ তারকা ক্রিকেটারের জয় নয়, এই জয় দল হিসাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়।বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষদের জয়।

প্রথম আলো পত্রিকায় তাৎক্ষনিকভাবে(২০-০৩-১২, রাত) “আজকের রাত, উৎসবের রাত” শিরোনামে লিখেছে

শুরুটা হয়েছিল কালবৈশাখীর আভাস দিয়ে। মিরপুরের সেই কালবৈশাখী ছিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বীরত্বপূর্ণ জয়েরই যেন আভাস। বাংলাদেশের টাইগাররা শ্রীলঙ্কার ওপর দিয়ে বয়ে দিয়েছেন সেই ঝড়। এ জয়ে রাজধানী ঢাকা শহর মাতিয়ে দিয়েছেন উত্সবের রঙে। জয়ের জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার প্রহর শেষে বাংলাদেশ মেতেছে। আর সেই জয় উদযাপনে গাড়িতে নয় হেঁটে ছুটছেন সবাই। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলছে সড়ক মহাসড়ক। রাস্তায় মানুষের মুখে মুখে স্লোগান বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।মিছিলে ছুটে চলা অনেকে হয়তো বুঝতে পারছে না অর্জনটা আসলে কি? কী অঘটন কিংবা কেমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বাংলাদেশের সোনার ছেলেরা। কিন্তু তারা বুঝতে পেরেছেন কিছু একটা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সেটিকে উদযাপন করতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন তারা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রকাশ করছেন সেই আনন্দের। পুরো ঢাকার মানুষ ছুটছেন টিএসসির দিকে। তাদের স্লোগানে, উল্লাসে, আনন্দ নৃত্যে আজকের রাত হবে উত্সবের রাত।

আগামী বৃহস্পতিবার স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে বিশ্বক্রিকেটে শক্তিশালী দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষই চায়,আমাদের দামাল ছেলেরা আবার একাত্তরের মত গর্জে উঠুক!অস্ত্র হাতে যুদ্ধের ময়দানে নয়,ব্যাট আর বল হাতে ক্রিকেটের ময়দানে আর একটা বিজয় গাঁথা রচনা করুক।পুরো দেশ আগামী দুই দিন তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে।এই স্বাধীনতার মাসে আরো একটি দিন হোক ঐতিহাসিক!