ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

মাগো ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে।
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাঁতে ধরতে জানি,
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

বাস্তবে আজ গানটির এই কথার কি আর ভিত্তি আছে? নাই। আজকের বাঙলা মায়ের সন্তানরা ঘরে বসে মিডিয়ায় শত্রুর আক্রমণ দেখতে সক্ষম কিন্তু রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে অক্ষম। যখন দিল্লিতে গণধর্ষণে এক তরুণীর মৃত্যু হয়, ঘটে সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়, তখন বিবেকের তাড়নায় ফেসবুক টুইটার ব্লগ গুলা লেখকের লেখার ঝলকানিতে ভোরে যায়। ওঠে নিন্দার ঝড়। আর যখন নিজ দেশের টাঙ্গাইলে গণধর্ষণের শিকার হয়ে এক কিশোরী পাগল হয়ে যায় এবং সাভারে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় অবুঝ শিশুকে, তখন আর এই লেখকদের লেখা বিকশিত হয় না। মানব্বন্ধনের বা রাস্তায় কোন কর্মসূচীর কথা তো নাই বললাম। আজকের এই কৌতূহলী সন্তানরা টিভিতে রাত ৯টার প্রাইম নিউজ দেখে রাজনীতিবিদদের কাঁদাছোড়াছুড়ির রাজনীতি দেখে ছিছি মন্তব্য করেই মনে করে আমার দায়িত্ব শেষ। ভাবে এই প্রাইম নিউজই বুঝি গড়ে দেয় বর্তমান সামাজিক আর রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ। যখন সীমান্তে বিদেশি সৈন্য এর হাঁতে একের পর এক আমাদের ভাই-বোনদেরকে হত্যা ও নির্যাতন করা হয় এবং অক্ষম করে দেয়া হয় এক একটি পরিবারকে, নিভিয়ে দেয়া হয় ওই পরিবারের সুখের দ্যুতি, আর লাথি মারা হয় আমাদের স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্তে, তখন আর ওই শান্তি প্রিয় সন্তানদের বিবেকে নাড়া দেয়না। আবার কিছু জ্ঞানী সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট বা ব্লগে এক দুই পাতা লিখিয়েই মনে করে দায়িত্ব পালন শেষ, তাদের প্রতিবাদ ওর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। যখন ঐ বন্ধুভাবাপন্য দেশের সীমান্ত রক্ষীরা ফেলানি নামের এক নিষ্পাপ কিশোরীকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের যৌবনের খায়েশ মিটায় আর ধর্ষণ, নির্যাতন এবং সবশেষ হত্যা করে বাঁশের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে এসে সীমান্তের ঐ কাঁটাতারের বেড়ার উপর ফেলে রাখে, তখন কোথায় থাকে আমাদের মানবতা, তখন কি বলে আমাদের বিবেক। তখন কি আমারা পারি এর যথাযথ প্রতিবাদ জানাতে। পারি কি আমরা রাস্তায় নেমে এর নিন্দার ঝড় তুলতে। আমরা পারিনা রাস্তায় নেমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে। আমরা পারিনা ক্ষমতায় থাকা সরকার দলীয় নেতার “সীমান্তে হত্যা ছিল, আছে এবং চলবে। এ নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না” এমন মন্তব্যের পরও তার সঠিক জবাবদিহিতা আদায় করতে। জনগণের জান মালের নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। এবং নিজের মৌলিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়া জনগণের দায়িত্ব। জনগণ যখন তার মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার না থাকে এবং রাষ্ট্রের শাসক গোষ্ঠীর উপর চাপ সৃষ্টি না করে তবে শাসক গোষ্ঠীরা তাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বহিরাষ্ট্রের কাছে স্বার্থ বিলিয়ে দেয় আর জনগণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে এটাই স্বাভাবিক।

সীমান্তে আর কত আমাদের ভাই বোনদের হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেব আমরা। আর কত বেহায়া কুত্তার মতন সহ্য করব আমরা। আমরা বাঙ্গালীরা কি মানুষ না। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণভ্যূথান, ৭১রে মুক্তিযুদ্ধ, ৯০তে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আমরা ই করেছিলাম। হত্যা, জুলুম, নিপীড়ন আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার আছে দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের। ঐ সকল প্রতিবাদী বাঙ্গালির রক্তই আমাদের গায়ে। ঘুমিয়ে যায়নি আমাদের প্রতিবাদী সত্ত্বা। তবে কেন চুপ করে সহ্য করছি এ জুলুম, অত্যাচার। প্রয়োজনে আবার যুদ্ধে যাব। রক্ষা করব আমাদের বোনের ইজ্জত, সুরক্ষিত রাখব আমার স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে। আজ ফেলানি হত্যা দিবশ। সীমান্তে ঐ কাঁটাতারের উপর ফেলানি ঝুলছেনা ঝুলছে গোটা বাংলাদেশ। বাঙ্গালীরা আর কত দেখবি!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!