ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখছি যা অনেকের কাছেই খুবই সাধারণ। “সাইবার ক্রাইম”। আমরা সবাই এটা সম্পর্কে কম বেশি জানি। সাইবার ক্রাইম কথাটা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বা যা মনে পরে তা হল- আজ অমুক সাইবার গ্রুপ অমুক ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে, অমুকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রধান মন্ত্রীকে হুমকি বা গালি দিয়ে বিচারের সম্মুখীন হয়েছে, কিংবা কারো ব্যাঙ্গার্ত্তক ছবি আপলোড করে পুলিশের বারী খেয়েছে, এছাড়াও তথ্য চুরি, এমএলএম প্রতারণা আরও অনেক কিছুই। কিন্তু একটা বিষয় আমরা সবাই এড়িয়ে যাই বা গুরুত্তের সাথে নেই না, তা হল মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মিথ্যা বা ভুল ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া এবং ইতিহাস বিকৃত করা। এবং এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা। আমরা আজকাল অনেক উঠতি তরুণ-তরুণীর কাছেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও ব্লগের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং পূর্বতিহাস সম্পর্কে জানাটা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠতে দেখছি। সেক্ষেত্রে ঐ তরুণ তরুণীদের টার্গেট করে অনেক অসাধু ব্যক্তি বা দলই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তরুন্দের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে বাঁধা প্রদানের জন্য মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে। আবার অনেকেই ঐ সব তরুণদের সরলতারও সুযোগ নেয়। যেমন উদাহরণ হিসেবে আমরা প্রায়ই দেখি ফেসবুকের অনেক জনপ্রিয় পেইজে একটা মিথ্যা ছবি আপলোড করে এর মিথ্যা ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুঝানোর চেষ্টা করে অমুক খারাপ আর অমুক ভাল, এই দলে যোগ দিন এই দলে যোগ দেয়াই মঙ্গল।

আবার প্রায় দেখা যায় অনেক জনপ্রিয় ব্লগে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্বে ঘটে যাওয়া অনেক বিষয় নিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হল ইতিহাস বিকৃত করে ব্যক্তি বা দলীয় ফায়দা লোটা। সাথে কিছু ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মিথ্যা সংবাদ তো আছেই। যা তরুণদের শুধু বিভ্রান্তই না পথ ভ্রষ্টও করে দেয়।

সুতরাং আমাদের উচিৎ আরও সচেতন হওয়া আর ঐ সকল মিথ্যাচারী মিডিয়া, ব্যক্তি, দল এবং লেখকদের পরিহার করা ও তরুণদের অবগত করা, আর সজাগ দৃষ্টি রাখা ও সতর্ক থাকা যাতে কেউ কখনও ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং সঠিক ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে।