ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গ্রামের নাম কলিগ্রাম। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরথানার বিলচান্দা মৌজার ঘটনা। কলির যুগ শেষ হলেও কলির সন্ধান মিলেছে কলিগ্রামে। মালো বংশের পাঁচ ভাই ভোগ করে আসছে কয়েক কাঠা বাড়ীর জমি। জানা ছিলো এটা তাদের বাপ-দাদাদের জমি। হঠাৎ করেই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত জতিন্দ্রনাথ এর বড় ছেলে বিধান বৈদ্য, নিপেন্দ্রনাথ ও জিতেন্দ্রনাথ বৈদ্য বললো তোমাদের বাড়ীর সাত শতাংশ জমি আমারদের। এটা ২০০৯ সালের ঘটনা। পাঁচ ভাইয়ের ঘুম নাই। হঠাৎ এ কি কথা ? বৈঠক শালিশ হলো। গ্রাম আদালতে বিচারে দাবীদাররা মেনে নিলেন, বললেন এটা তোমাদেরই জমি। তবে আমাদের পূর্বপুরুষরা এ জমি তোমাদের কাছে বিক্রি করলেও দলিল করে দেয় নাই। এখন জমির দাম চড়া। আমাদের টাকা দিতে হবে। পাঁচ ভাই গরু ছাগল বিক্রি করে টাকা দিলেন। জমির দাবীদাররা গ্রাম্য আদালতে লিখিত দিলেন এ জমির মালিকানা তারা আর দাবী করবে না। বছর খানেক যাওয়ার পর আবার এক সুর জমি আমার, আমাকে আরো টাকা দিতে হবে। আবার শালিশ বৈঠক। এবারও সহজ সমাধান কিছু টাকার বিনিময়ে। কিছু দিন আগের ঘটনা। দাবীকরা সেই জমিটুকু সে নাকি অন্য আর একজনের কাছে বিক্রী করে দিয়েছে। দলিলও নাকি করে দিয়েছে। এবার ঘুম নাই। এখন পাঁচ ভাইয়ের একভাই জীবিত। বাকীরা মারা গেছেন। তাদের সন্তানেরা লেখাপড়ায় বেশিদুর আগায় নি। এই সুযোগে জমি দখল করাটা বেশ সহজ। জীবিত এক ভাইয়ের মাথায় বাজ পড়েছে। মামলা মোকদ্দমা করা ছাড়া উপায় নাই। আর মামলার খরচ চালানোর টাকাও নাই। জমির দাবীদার প্রভাবশালী ব্যক্তির তো প্রভাবের শেষ নেই। তার সাথে আছে টাকা আর গরীবের বসবাসের শেষ জমিটুকু কেড়ে নেওয়ার মতো প্রভাব আর প্রতিপত্তি। জীবিত একভাই রুহিদাস মালো বললেন ‘এ নিয়া তিনবার টাকা নিছে ওরা আমাগো কাছ থেকে। ৬২ সালে, ৬৮ সালে আর ২০০৯ সালে। জমির পুরোনো দলিল আমাগো কাছে আছে। তিনবার টাহা নেওয়ার পরও আমাদের দলিল কইরা দেয় নাই ওরা। জমির নতুন পর্চা আমাদেগা নামে। এই দেহেন আমাগো পর্চা। খতিয়ান ১১১৪, বিলচান্দা, জেএল নং- ২০৬, দাগ নং ৪০৩, ৭ শতক। গোপালগঝ্ঞ, মুকসুদপুর। বিলচান্দা মৌজা। ওরা গ্রাম আদালতে লিখিত দিছে আর এই জমির মালিকানা দাবী করবে না। এহন হুনি জমি আর এক জনে কিনে নিছে ওই বিধান বৈদ্য, নিপেন্দ্রনাথ ও জিতেন্দ্রনাথ বৈদ্যর কাছ থেকে। ১৯৬৮ সালে ঠান্ডারাম বৈদ্য এই জমি বাবার কাছে বেইচ্চা দিছে। আমরাও দুইবার কিনলাম তার পরও জমি আমাদের নাই। আমাগো থাহার শেষ জমিডা যাতে ওরা কাইড়া নিতে না পারে হেই ব্যবস্থা করেন ভাই।’

ভুক্তভুগী রুহিদাস মালো- ০১৯১৬ ৫৫৮ ০২৭
রিপন মালো- ০১৭১০ ১৩১ ২৬৭

প্রতিবেদক: রতন জাকারিয়া