ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

পরিচালকের পিয়ন কামরুল কলাপসিবল গেইটে তালা এঁটে দেন !!! পরিচালক এবং তার পিয়ন কামরুল কি বেঁচে আছে??? তাজরিন ফ্যাশনসের কথা ই বলছি … কোথাও ফায়ার এলার্ম বেজে উঠার সাথে সাথে সতর্ক না হয়ে বরং মেইন গেইট তালা দেয়ার ঘটনা পৃথিবীর কোথাও কি কেউ শুনেছে??? এটা বাংলাদেশ – এখানে সধারন মানুষ কে এভাবেই অনায়াসে মেরে ফেলা যায় বন্দী করে !!! যদি হতো এটা নতুন এক ঘটনা, তাও কি মেনে নেয়া যেত??? মেনে নেয়ার মতো ই কি এই অস্বাভাবিক ঘটনা ??? সবাই বলছে দুর্ঘটনা !!! মানুষ গুলো এতো বোকা কেন??? সব জেনে বুঝে কি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে??? আগেও বিভিন্ন পোশাক শিল্প কারখানায় এই একি ঘটনা ঘটেছে যা থেকে কেউ শিক্ষা নিয়ে সাবধান হয়নি বরং শিখে নিয়েছে কিভাবে সাধারন গরীব মানুষ গুলোকে বন্দী করে আগুনে পুড়িয়ে মারা যায়???!!! আমরা কাকে ধিক্কার দিবো??? সরকারী দল এবং বিরোধী দল সবসময়ের মতো লাশ নিয়ে দুর্নীতি করবে আর মিথ্যা আশার বানী শুনিয়ে, মিডিয়ার সামনে ২ ফোঁটা চোখের জল ফেলে দুর্দান্ত নাটক সিনেমা করে মুহূর্তেই সব ভুলে গিয়ে শুধু বিজ্ঞের বক্তৃতা ঝেড়ে দেশপ্রেম দেখিয়ে ফেলবে কিন্তু নীরবে যারা ঝড়ে গেলো এবং যাবে তাদের স্বজন রা ই বা কতদিন কাদবে??? আদৌ কি ঘুরে দাঁড়াবে??? সেই শক্তি, সেই মনোবল, সেই বুদ্ধিমত্তা কি তাদের আছে??? তারা ও কি কিছু টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাবে না মুহূর্তে??? গরিবী এমন এ এক অভিশাপ যে সাদা কে সাদা এবং কালো কে কালো বলতে দেয় না !!!! তবে এটা ই আমাদের বাস্তব যে পোশাক শিল্প শ্রমিক দের এভাবেই খুন হতে হবে এবং তাদের দরিদ্র পরিবার গুলো কে এভাবেই বিক্রি হয়ে যেতে হবে আর খুনীরা এভাবেই পার পেয়ে আবার নতুন খুনের পরিকল্পনা আঁটতে থাকবে!!! Infinite Loop !!! কিন্তু এর ভেতর যে বাবা মা তার একমাত্র উপার্জনক্ষম বাচ্চা হারালো তার পরিনাম টা কি? সে বা তারা ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে যাবে, তাতেও অক্ষম হলে মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার বঞ্চিত হয়ে কাকলাশ হয়ে মারা যেতে থাকবে এবং যে বাচ্চাটা তার বাবা কিংবা মা কে হারালো, তার ভবিষ্যৎ টার দায়িত্ব কে নিবে??? সমাজ, দেশ, রাজনীতি, নেতা-নেত্রী গণ সবাই ২ ফোটা চোখের পানি ফেলে তাদের সলিল সমাধি গড়বেন বৈকি এবং ঐ শ্রেনীর বাচ্চা টা বাবা কিংবা মা যাকেই হারাক তার ভবিষ্যৎ কিন্তু সেই এক ই ছকে বাঁধা …বাচ্চা গুলো এখন তাদের মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত হয়ে বড় হবে – সমাজ ওদেরকে প্রবঞ্চিত করতে থাকবে এবং তারপর ১৪/১৫ বছর থেকে অন্যদের মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে থাকবে … সমাজ ও দেশ ওদেরকে যা দিয়ে বড় করবে, ওরা ও সমাজ এবং দেশ কে ওসব ফিরিয়ে দিয়ে ঋণ শোধ করবে, প্রজন্ম এভাবেই চলতে থাকবে … Infinite Loop !!!!

স্থানীয় শাহ আমানত ডেকোরেটর্সের মালিক মোহাম্মদ বখতেয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে কখনোই নিরাপত্তা বেষ্টনী আমরা দেখিনি। গত ২৯ জুন এই ফ্লাইওভারের আরেকটি গার্ডার ভেঙে পড়েছিল। তখন গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণ কাজ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচে বাজার বসে কীভাবে? বেষ্টনী ছাড়া, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ হতে পারে না। — বহদ্দার হাটে এমন একজন মানুষ ও কি সচেতন ছিলো না যে এই অপরাধের প্রতিবাদ করতে পারতো কিংবা মিডিয়াকে জানাতে পারতো সেই প্রথমেই ??? এমন একজন প্রাণী ও কি চট্টগ্রামে ছিলো না যে এসবের প্রতিবাদ করে প্রতিহত করার ব্যাবস্থা করতে পারতো??? মানুষ হিসেবে আমাদের অবস্থান টা আসলে কোথায় ??? অনেকেই হয়তো এ বিষয়ে গল্পের ঝড় তুলেছে ঘর কিংবা দোকানের চা এর আড্ডায় কিন্তু সচেতনতা ঐ চায়ের কাপেই সীমিত ছিলো বটে !!!

দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ ও পারিশা এন্টারপ্রাইজের কোনো প্রতিনিধি দুর্ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন অনেকে — কেন উনারা যাবেন রক্তের সাগরে??? উনাদের স্বজন কেউ কি ঐ গার্ডার এর নিচে পড়ে মরেছেন??? উনাদের খুনের বিচার করার মতো কোন মানুষের বাচ্চা কি পয়দা হয়েছে পৃথিবীতে??? !!! আবারো সেই এক ই চলমান ধারা-সরকারী দল এবং বিরোধী দল সবসময়ের মতো লাশ নিয়ে দুর্নীতি করবে আর মিথ্যা আশার বানী শুনিয়ে, মিডিয়ার সামনে ২ ফোঁটা চোখের জল ফেলে দুর্দান্ত নাটক সিনেমা করে মুহূর্তেই সব ভুলে গিয়ে শুধু বিজ্ঞের বক্তৃতা ঝেড়ে দেশপ্রেম দেখিয়ে ফেলবে কিন্তু নীরবে যারা ঝড়ে গেলো এবং যাবে তাদের স্বজন রা ই বা কতদিন কাদবে??? আদৌ কি ঘুরে দাঁড়াবে??? সেই শক্তি, সেই মনোবল, সেই বুদ্ধিমত্তা কি তাদের আছে???তারা ও কি ক্ষমতা এবং কিছু টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাবে না মুহূর্তে???তবে এটা ই আমাদের বাস্তব যে সাধারন অসচেতন মানুষ দের এভাবেই খুন হতে হবে এবং তাদের পরিবার গুলো কে এভাবেই ক্ষমতার কাছে হেরে যেতে হবে কিংবা টাকায় বিক্রি হয়ে যেতে হবে আর খুনীরা এভাবেই পার পেয়ে আবার নতুন খুনের পরিকল্পনা আঁটতে থাকবে!!! Infinite Loop !!! কিন্তু এর ভেতর যে বাবা মা তার একমাত্র উপার্জনক্ষম বাচ্চা হারালো তার পরিনাম টা কি? সে বা তারা ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে যাবে, তাতেও অক্ষম হলে মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার বঞ্চিত হয়ে কাকলাশ হয়ে মারা যেতে থাকবে এবং যে বাচ্চাটা তার বাবা কিংবা মা কে হারালো, তার ভবিষ্যৎ টার দায়িত্ব কে নিবে??? সমাজ, দেশ, রাজনীতি, নেতা-নেত্রী গণ সবাই ২ ফোটা চোখের পানি ফেলে তাদের সলিল সমাধি গড়বেন বৈকি এবং ঐ বাচ্চা টা বাবা কিংবা মা যাকেই হারাক তার ভবিষ্যৎ কিন্তু সেই এক ই ছকে বাঁধা …বাচ্চা গুলো এখন বারবার বঞ্চিত হয়ে বড় হবে – সমাজ ওদেরকে প্রবঞ্চিত করতে থাকবে এবং তারপর তারা অন্যদের মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে থাকবে … সমাজ ও দেশ ওদেরকে যা দিয়ে বড় করবে, ওরা ও সমাজ এবং দেশ কে ওসব ফিরিয়ে দিয়ে ঋণ শোধ করবে, প্রজন্ম এভাবেই চলতে থাকবে … Infinite Loop !!!!