ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

এ আমাদের দৈন্যতা, আমাদের ক্ষমা করবেন। আমরা শুধু নিতে জানি, দিতে জানি না। এই দেখুন না, আমরা যারা শেষ বিদায় জানাতে যেতে পারিনি, তারা সবাই টিভি’র বিভিন্ন চ্যানেলে আপনার লেখা অনিন্দ সুন্দর নাটকগুলো দেখে প্রাণভরে উপভোগ করে চলেছি।মহান আত্না আর মহামানব তো তাকেই বলে!! রাষ্ট্রীয় শোক জানাতে পারিনি কিন্তু আপনি রয়ে গেছেন কোটি কোটি মানুষের ভালবাসার মুকুট হয়ে, যেখানে থাকে সবাই অমর হয়ে।

শ্রদ্ধেয় উত্তর পুরুষ ভাই তাঁর এক ব্লগে আমাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আমি যেন সেই রহস্যময় মহান কালপুরুষের স্বপ্ন চিন্তা চেতনা বাস্তবায়নের জন্য কিছু লিখি। ক্ষমা চাচ্ছি উত্তর পুরুষ ভাই, আমি কিছু লিখতে পারিনি। আমার চিন্তা শক্তি কাজ করেনি। আজীবন মানুষের অন্তরে যিনি চান্দের আলোর পরশ দিয়ে গেছেন, লালায়িত ছিলেন চাঁদনী পশর রাতের, তিনি কেন দেখা পেলেন না চান্দের আলোর!! দিনের আলোয় তাঁকে কেন চলে যেতে হল। রহস্যময় স্রষ্টার রহস্যের জগত নিয়ে এই রহস্যময় মানুষটি যেমন লুকোচুরি খেলেছেন, যাওয়ার বেলায় স্রষ্টাও মনে হয় রহস্যময় লুকোচুরি খেলে রহস্যের মানুষটিকে রহস্যময় জগতে নিয়ে গেছেন। অজানা এক ভাইরাস বাসা বেঁধেছিল তাঁর দেহে, কে সে!! কি নাম তার!! কোথায় তার বাড়ি!! সে কি আলাদা কোন প্রাণ!! তার কি চিন্তা করার শক্তি আছে!! সেই রহস্যময় মানুষটি নিজেই বলে গিয়েছেন, তোমার চারপাশে যা ঘটছে সবসময় তার ব্যাখ্যা চাইবে না। সব ব্যাখ্যা যার কাছে আছে তিনি কখনো তা প্রকাশ করেন না। তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখেন বলে সব ব্যাখ্যা লুকানো।

চাঁদনী পশরে কে, আমায় স্বরন করে, কে আইসা দাঁড়াইছে গো আমার দুয়ারে…… তাহারে চিনিনা আমি সে আমারে চেনে…..। কাকে তিনি খুজে বেড়িয়েছেন সারা জীবন, ধরা যায়না ছোঁয়া যায়না, নিরন্তর খুঁজে বেড়িয়েছেন তাকে। শেষ মুহূর্তে কি সে ধরা দিয়েছিল!! তাঁর দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছিলো!! সময় দেয়নি, হাত ধরে নিয়ে গেছে জ্যোৎস্নায় ভরা আলোর দেশে!! চাঁদনী পশর, চাঁদনী পশর, আহারে আলো!!

রহস্যময় স্রষ্টার, রহস্যে ভরা জগতের যে রহস্যের খোঁজ আপনি আমাদের দিয়ে গেছেন তার চর্চা তো আমাদের করতেই হবে। যে আলোয় আলোকিত করেছিলেন আমাদের, সেই ভরা জ্যোৎস্নায় আপনার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। হে ম্যাজিশিয়ান, আলোর দিশারী। যে ম্যাজিক দেখিয়েছেন আমাদের জীবনে, যে আনন্দ গাঁথা বুনেছেন আপনি আমাদের অন্তরে। আপনার বিরহ ব্যাথা আর শোক রাষ্ট্রকে ছাপিয়ে তা আজ ঊর্ধ্বলোকে ধাবমান। আপনি আমাদের অন্তরে নোবেল লরিয়েট, বাঙালি জাতির গর্ব। আপনার হিমু আর মিসির আলীরা রয়ে যাবে চিরদিন সবার মাঝে। চাঁদনী পশরের আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি ঘর।

হে রহস্য জগতে বিচরণকারী, রহস্যময় কালপুরুষ, আপনি আমাদের জানাবেন কি সেই রহস্যময় অজানা ভাইরাস কি বলেছিল আপনার দুয়ারে দাড়িয়ে!! হে রহস্যময় মানব কোথায় চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে থাকবেন তা নিয়েও রহস্যের জন্ম দিয়ে গেলেন!!

হে আনন্দলোকের নায়ক, চলে গেলেন রহস্যময় না ফেরার জগতে, রেখে গেলেন আমাদের হাসি আর আনন্দের মঙ্গল যাত্রায়!!