ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

একবার মনে হয় লিখি আবার মনে হয় লিখে কী হবে, এক তো সুন্দর করে লিখতে পারিনা উপরন্তু যারা পড়েন তাদের কোনও ক্ষমতা নেই তা প্রয়োগে, যাদের ক্ষমতা আছে তারা এ পথই মাড়ায় না। তা না হলে এ ব্লগের সব লিখা দিয়ে এতদিনে উন্নয়নের একটা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়ে যেত। প্রতিটি ব্লগারের লেখার পিছনে কিন্তু প্রচ্ছন্ন একটা আর্তি থাকে তা হচ্ছে দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠন ও দেশের উন্নয়ন। আমরা সবাই জানি কাজ হচ্ছে না তারপরও লিখে যাচ্ছি নিরন্তর। অথচ সমাজের ভাল মানুষগুলোও ক্ষমতায় গিয়ে ডিরেইল্ড হয়ে যাচ্ছে , তার উদাহরন তো হাতের কাছে অনেক আছে।

জনসংখ্যা আজ অনেক দেশেই সম্পদ কিন্তু আমরা তাকে কাজে লাগতে পারছি না। কারণ আমরা কোনও ক্ষেত্রেই কোনও বিষয়কে একটা সিস্টেমে আনতে পারিনি ফলে তা চালু বা প্রয়োগ করা যায়নি। সিঙ্গাপুরে আমাদের কোনও মানুষকে রাস্তা নোংরা বা ময়লা আবর্জনা ফেলতে দেখেছেন?

আমাদের প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে এমনভাবে অত্যন্ত সুশৃংখল ও নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেন যে কল্পনাও করা যায় না ওরা এই মাটির সন্তান। কিন্তু তারাই দেশে আসার সময় প্লেনে উঠেই সবকিছু ম্যাসাকার করে দেন। সৌদি আরবে আমাদের কর্মীদের নিখুঁত কাজের মান আর তাদের প্রশংসনীয় ভূমিকা দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারিনি, অথচ দেশে আসার সময় প্লেনে তাদেরই কাণ্ড দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছি । প্লেনের টয়লেট ব্যাবহার নিয়ে সৌদি বিমানবালাদের টয়লেট পরিষ্কার করতে করতে গলদঘর্ম অবস্থা দেখে দেশের ইজ্জতের প্রশ্নে আমি অত্যন্ত বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। প্লেনে উঠে বোর্ডিং কার্ড অনুযায়ী সীট না পেয়ে টয়লেটের পাশের সিট এ আমি আর আমার স্ত্রীকে বসতে হয়েছিল বলে বিষয়টি ভাল ভাবে অবজার্ভ করতে পেরেছিলাম। সৌদি বিমান বালার একটি কথা এখনো কানে বাজে , আমরা শেষ দিকে প্লেনে ঢুকতেই সে যা বলল তার ভাবার্থ এই যে , কোনও সিট নম্বর নেই যেখানে খুশি বস। ঢাকায় প্লেন থেকে নামার সময় প্রতিটি সিটের নিচে ময়লা আবর্জনা দেখে মনে হল বোয়িং 747 থেকে কমপক্ষে এক ট্রাক ময়লা ভাগাড়ে ফেলতে হবে। একই সত্তা , শুধু মাত্র পরিবেশ ও নিয়মের পার্থক্যের কারণে আচরণ এর ভিন্নতা লক্ষণীয়।

গত বিএনপির সরকারের সময় একটি মারাত্বক লঞ্চ দুর্ঘটনার পর সর্গীয় নৌ মন্ত্রী জনাব আকবর ম্যাজিস্ট্রেট মুনির চৌধুরীকে (বর্তমানে ডাইরেক্টর পরিবেশ অধিদপ্তর ) ঢাকা সদরঘাট টার্মিনালে পোস্টিং দিয়েছিলেন। মুনির চৌধুরীর সততা আর কঠোর মনোভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের ফলে নৌ দুর্ঘটনা অনেক কমে গিয়েছিল (সে সময়ের ডাটা নিলে তা পরিষ্কার বোঝা যাবে)। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে তিনি যখন হাওয়া ভবনের বংশীবাদকের লঞ্চ কোকো কে জরিমানা করলেন (প্রচন্ড চাপ সত্বেও ) , নির্ভীক এই সৈনিকের সাথে শুরু হল ভয়াবহ অসহযোগিতা। তাকে বসার চেয়ার টেবিল পর্যন্ত দেয়া হইনি। না খেয়ে সদর ঘাটের টার্মিনালে সারাদিন দাড়িয়ে তাকে অফিস করতে হয়েছে , এর পর যা হয় তাই হল যথারীতি বদলী (সকলের জানার জন্য বলি বর্তমান পদেও তাকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে) আই ঘটে যাওয়া মারাত্মক লঞ্চ দুর্ঘটনা দেখে বারবার মনে হয়েছে , এ দেশের সকল অনিয়ম দূর করতে দরকার মুনির চৌধুরীর মত নির্ভীক সৈনিকদের দায়িত্ব দেয়া হউক তাদেরকে স্বাধীন ভাবে , চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি , এক বছরের মধ্যে দেশের চেহারা বদলে যাবে।

আমাদের মত খাদ্যে ভেজাল এই ধরণীর কোনও দেশেই দেয়া হয় না, অথচ আমরা কী নির্বিকার ভাবে তা হজম করে নিচ্ছি ক্যানসার রোগী আজ প্রতি ঘরে ঘরে। প্রতিটি শাক সবজি ফল মূলে ক্যামিক্যালস মিশানও হচ্ছে। নামে মাত্র লোক দেখানো ভেজাল বিরোধী অভিযান করা হয়। আমি একা ঢাকা বা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর দায়িত্ব নেব সঙ্গে থাকবে ফোর্স ও পরীক্ষা করার কিটস। স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দিতে হবে। আমি হলফ করে বলতে পারি এক বছরের মধ্যে ওই শহর থেকে ভেজাল দূর করতে পারব। শুধু তাই নয় 64 জেলায় আমি আমার পরিচিতি ৬৪ জন অফিসারদের যাদের কাজ হবে সারা দেশ থেকে খাদ্যে ভেজাল দূর করা এবং তা স্থায়ীভাবে। কিন্তু আমি জানি সে সুযোগ আমরা কোনদিন পাব না। আমরা সবাই ধিক ধিক করে কষ্টে পুড়ে মরছি , আমার সোনার দেশ কবে মাথা তুলে দাঁড়াবে , লাখও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়িত হবে। কোথায় সেই হ্যামিলনের বংশীবাদক যার প্রতীক্ষায় আমরা।