ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

মাথায় ঘিলুর কমতি হেতু যাদের “কে হতে চায় কোটিপতি”র হট সিটে বসে কোটি টাকা উপার্জনের ক্ষমতা নেই, অথবা ডেসটিনি, যুবক বা ইউনিপেটুর মতো জনকল্যানমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে জনতার টাকা নিজের টাকা হিসেবে মনে করার মতো সৎসাহস নেই । কিংবা, সমুদ্র পথে কক্সবাজার হতে মালয়েশিয়া নৌকায় করে মনুষ্য রফতানি করার যোগ্যতা যারা রাখেন না, তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে অতিসহজেই বিলিয়নিয়ার হয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন ।

এ জন্যে একটি প্রজেক্ট হাতে নিতে হবে ।

১। প্রজেক্টের নাম: ৫০ মেগাওয়াট ফুয়েল চালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প ।

২। অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান: যে কোন অর্থলগ্নিকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক । প্রজেক্ট বাবদ ঋনের পরিমান ৪০০ কোটি টাকা ।

৩ । মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান: সুদূর চীন দেশ গমন এবং সেখান হতে সর্বচ্চো ০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ভাঙ্গাচোরা জরাজীর্ণ মেশিনপত্র ক্রয় । যা’ জাহাজে করে আনতে এবং পোর্ট হতে ট্রাকে পরবহন করতে অধিকাংশ নাট-বলটু খুলে পড়ে যাবে ।
আমদানিকৃত মেশিনপত্র, ভুমি এবং অন্যান্য খরচ বাবদ প্রজেক্ট এর মোট মূল্য সর্বচ্চো ১০০ কোটি টাকা ।

প্রথম লাভ: অবশিষ্ট ৩০০ কোটি টাকা পকেটস্থ ও বিদেশে রফতানি ।

প্রথম ক্ষতি: রাস্তাঘাট, খানা-খন্দ থেকে নাট-বলটুগুলি সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত সময় ও পরিশ্রম বাবদ ট্রাক ড্রাইভারের অতিরিক্ত ভাড়া দাবী ।

৪ । মেশিন স্থাপন ও চুক্তি: সর্বচ্চো ০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ভাঙ্গাচোরা মেশিন স্থাপন, কিন্তু সরকারের সাথে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করতে হবে । মনে রাখবেন, এলসি ওপেন থেকে শুরু করে কাগজে-কলমে সবখানে আপনার উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট (প্রকৃত ০৮ মেও) । চুক্তির শর্তে থাকবে, সরকার কোন কারণে বিদ্যুৎ নিতে না পারলে পুরো ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাবদ ক্যাপাসিটি চার্জ সরকারকে পরিশোধ করতে হবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লাভের চাইতে বেশি । এ কাজে সরকারকে উদ্ভুদ্ধ করতে হবে যেন কোন না কোন অজুহাতে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ রাখে ।

দ্বিতীয় লাভ: উৎপাদন ক্ষমতা ০৮ মে ও অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ পাচ্ছেন ৫০ মেগাওয়াট এর ।

দ্বিতীয় ক্ষতি: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন বাবদ খরচাপাতি ।

৫ । উৎপাদন: যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা বিক্রি করতে হয়, তাহলে ক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করবেন ০৮ মেগাওয়াট, কিন্তু কাগজে কলমে তা ৫০ মেগাওয়াট দেখিয়ে বিল গ্রহণ করবেন ৫০ মেগাওয়াট এর ।

তৃতীয় লাভ: বুঝতেই পারছেন, লাভে লাভ !!! দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ।

তৃতীয় ক্ষতি: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন বাবদ খরচাপাতি ।

জনগণের লাভ: এ অর্থ যোগানের জন্য প্রতিটি ফোনকলের মিনিটপ্রতি সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ পয়সা, একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে আবাসিক ও শিল্প এলাকায় গ্যাসের দাম। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ তহবিলের জন্য রাখা হবে বিশেষ বরাদ্দ ।

আসুন আমরা সামান্য কটা টাকার জন্য নোবেল প্রাইজ নিয়ে টানাটানি না করে এ রকম অসংখ্য প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে ধনী-দরিদ্রের ব্যাবধান ঘুচিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করি ।

বি দ্র উপরে উল্লেখিত দেশপ্রেমের নমুনার সাথে কোন দেশপ্রেমিক মহান ব্যাক্তির চরিত্রের সাথে মিলে গেলে দোষ লেখকের নয় ।