ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সন্ধ্যা হয়ে আসছে, শেষ হচ্ছে না নেতাদের বক্তব্য। সাধারণত ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার উপর চাপ থাকে সন্ধ্যা ৭টার প্রাইম বুলেটিনে প্রধান বিরোধীদলের একটি নিউজ ধরানোর। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ছ’টার পরও মধ্যম সারির নেতারা বক্তব্য রেখে চলেছেন। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার পালা শুরু হবার পর তারা প্রত্যেকেই বললেন, “কথা শুনবো মহাসচিবের, আমরা বক্তব্য দিবো না, শুধু একটা কথা বলবো, বক্তব্য দেবেন মহাসচিব” আর তারপর তাদের দীর্ঘতর ভাষণ আর যেনো শেষই হতে চায়না। আকাশও চাইছে নামাবে বৃষ্টি, দু’এক ফোঁটা দিয়েছেও উপহার। এরই মধ্যে আবার সদ্য কারামুক্ত নেতাদের হাতে ফুল তুলে দেয়ার পালা, তালিকা ধরে সেইসব ফুল তুলে দেয়া নেতাদের নামের ঘোষণা। এতসব শেষে সাতটা বাজার কিছুক্ষণ আগে পালা আসলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের।

তিনি শুরুতেই খুব কম কথায় গুছিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেন। এরপরই বললেন, “একটি গল্প বলেই শেষ করবো আমি, যে গল্পটি এর আগেও আপনাদের বলেছি”। এই কথা বলে গল্প বলা শুরু করলেন তিনি, “একজন মানুষ জীবনের প্রতি খুব বিরক্ত, হতাশ। জীবনে বেঁচে থাকার সমস্ত আশা-ভরসা শেষ হয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আত্মহত্যা করবেন। লোকটি নদীর ধারে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন, নদীতে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবেন। এমন সময় আজরাইল এসে হাজির। আজরাইল জিজ্ঞেস করলো, তুমি কী করছো? লোকটি উত্তর দিলেন, আমি আত্মহত্যা করতে চাই, আমার জীবনের কোন মূল্য নেই। আজরাইল তখন বললো, তুমি তো এখান থেকে লাফ দিলে মরবে না, কারণ তোমার মৃত্যুর তো এখনো সময় আসেনি। লোকটি তখন বললেন, কিন্তু আমি বেঁচে থেকে কী করবো? আমার তো পরিবার চালানোর মতো অবস্থা নেই, আমি নি:শেষ হয়ে গেছি। তখন আজরাইল বললো, শুনো, তুমি বাড়িতে ফিরে গিয়ে ডাক্তারি শুরু করো। লোকটি অবাক হয়ে বললো, আমি কীভাবে ডাক্তারি করবো, আমি তো চিকিৎসার কিছুই জানিনা। আজরাইল তখন বললো, তোমার জানার দরকার নেই, রোগি আসলে তুমি যদি দেখো আমি রোগির পায়ের কাছে তাহলে বুঝবে রোগি বেঁচে থাকবে। তাই যে ঔষুধই দাও না কেনো রোগি সুস্থ্য হয়ে উঠবে। আর যদি দেখো আমি রোগির মাথার কাছে তাহলে বুঝবে এই রোগির মৃত্যুর সময় এসে গেছে। তাহলে আর কোন চিকিৎসা দরকার নেই। এই কথা শুনে সেই লোক বাড়ি ফিরে গিয়ে শুরু করলো ডাক্তারি। খুব কম সময়েই প্রসার ঘটলো তার সুনামের। অনেক টাকাপয়সা করে ফেললেন। গাড়ি-বাড়িও হয়ে গেছে। একদিন রাতে চেম্বার থেকে কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরলেন সেই লোক। খাওয়া-দাওয়া সেড়ে বিছানায় শুয়েছেন তিনি, এরই মধ্যে হাজির হল আজরাইল, তার মাথার কাছে। তিনি তো মাথার কাছে আজরাইলকে দেখে হতচকিত হয়ে প্রথমে সালাম দিতে গিয়ে হঠাৎ করে থেমে তাড়াতাড়ি পা ঘুড়িয়ে আজরাইলের দিকে দিয়ে দিলেন। মাথা আজরাইলের দিকে ছিলো কিন্তু তিনি পা আজরাইলের দিকে দেয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন, আজরাইল আবার মাথার দিকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এভাবে তিনি বিছানায় ঘুরপাক খেতে থাকলেন। কিন্তু কোন লাভ হলোনা। আজরাইল তখন বললো, ওহে! কোনো লাভ নেই তোমার সময় চলে এসেছে, যতই ঘুরপাক খেতে থাকো কোন লাভ নেই তোমার মৃত্যুর সময় হয়েছে”।

এরপর মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রী আর সরকারকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “সময় হয়ে এসেছে, যতই ঘুরপাক খেতে থাকেন লাভ হবে না, ক্ষমতা ছাড়তেই হবে”।