ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

এই সব দিনরাত্রিতে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন। যখন শ্রাবণ মেঘের দিনে কিংবা কোনো নক্ষত্রের রাতে কোথাও কেউ নেই শোনাবে আমায় জোৎস্না ও জননীর গল্প। তবু দূরে কোথাও আকাশ ভরা মেঘ, আর মেঘ বলেছে যাবো যাবো, তখন কৃষ্ণপক্ষের মাঝে দাঁড়িয়েও দেখছি অনন্ত নক্ষত্র বীথি। তোমাদের এই নগরে আমি দ্বিতীয় মানব কি না জানিনা, তবে এই নন্দিত নরকেও খোঁজ মিলবে মহাপুরুষের। হয়তো আমিই হবো অমানুষ, তবুও দ্বিতীয় জীবনের স্বাদ নিতে বহুব্রীহি জীবনের অপেক্ষায় আমি এবং আমার হরতন-ইশকাপনের চাল দিচ্ছি।শঙ্খনীল কারাগারের মধ্যে শ্যামল ছায়া খুঁজে দেখো, দেখবে পেন্সিলে আঁকা পরি আছে, আছে ময়ূরাক্ষী আর মধ্যাহ্নের মাতাল হাওয়া। তবুও তোমার মনে হবে দরজার ওপাশে আছে জনম জনমের লিলুয়া বাতাস আর আছে দ্বারুচিনি দ্বীপ কখনো বা মনে হবে রূপালী দ্বীপ, যেখানে লীলাবতীকে খুঁজবে তুমি একা একা। অচিনপুরে তোমার প্রিয় পদরেখা ফেলে সূর্যের দিন আনতে চাও, অপেক্ষা করো বৃষ্টি ও মেঘমালা এড়িয়ে বাদল দিনের দ্বিতীয় কদম ফুল নিয়ে আনন্দ বেদনার কাব্য শোনাতে দিনের শেষে পাবে তার দেখা। হেথায় চক্ষে আমার তৃষ্ণা, এখানে শুধু আমি ও কয়েকটি প্রজাপতি, আজ আমি কোথাও যাবোনা, তবে আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ দিতে দ্বিধা নেই। তুমি জলকন্যা হতে পারো, হতে পারো একজন মায়াবতী, আবার মানবী কিংবা মৃন্ময়ী। আমার চলে যায় বসন্ত, শীত ও অন্যান্য গল্প শেষ হয়, তবু মনে পড়ে না তুমি আমায় ডেকেছিলো ছুটির দুপুরে। আমি কি সেই অয়োময়? দুই দুয়ারীর গল্প শুনে চলে যাই আমার ছেলেবেলায়, আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই। জানিনা কে কথা কয়। শুধু মানি আমার আপন আঁধারে আমি নিমজ্জিত। শুনেছি আজ চিত্রার বিয়ে, আবার আজ হিমুর বিয়ে। আমার তন্দ্রাবিলাস নেই, নেই সমুদ্রবিলাস, শুধু আমার আছে জল। অন্য ভূবনে হারালে ফেরা ভুলে যাই, খুঁজি মিসির আলি আপনি কোথায়? হিমুর হাতে কয়েকটি পদ্মফুল দেখি। আবার নীল অপরাজিতা দেখে ভাবি আমিই মিসির আলি! বলপয়েন্ট হোক আর কাঠপেন্সিল, হোক সেটা রংপেন্সিল, হতে পারে ফাউন্টেইন পেন। তোমাদের জন্য রূপকথা লেখা হবে। দেখা না দেখা এই জীবনের বিরহগাথা ঠাঁই পাবে সেখানে, উঠে আসবে জয়জয়ন্তী। স্বরলিপিটুকু শিখেছি, মন্দ্রসপ্তক বুঝিনি, তাই মেনে নিয়েছি কেউ হয়তো ছোঁয়াবে না এই প্রাণে আগুনের পরশমনি, যখন নামিবে আঁধার।