ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

তেল গ্যাসের দাম বাড়াটা স্বাভাবিক এবং উচিৎ। এ ব্যাপারে আমার সমর্থন আছে। আমার প্রশ্ন হলো এর পরের পালা নিয়ে। প্রতি বৎসর তেল গ্যাস এর মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়ে যায় যানবাহনের ভাড়া। এটাও স্বাভাবিক- খরচ বাড়লে ভাড়া তো বাড়বেই।কিছুদন চলবে যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি তার পর হাতাহাতি। এক পর্যায়ে বি,আর,টি,এ বর্ধিত বাস ভাড়াকে বৈধতা দান করবে এবং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশী কেউ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর(?) ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছুদন বাসের বিভিন্ন জায়গায় একটি ভাড়ার তালিকা ঝুলানো হবে এবং এ তালিকাটি করবে বিভিন্ন গণপরিবহনের মালিক সমিতি যার নীচে আবার বি,আর,টি,এ কর্তৃপক্ষের সীল সহ স্বাক্ষর থাকবে।। যা কিছুদিন পর অদৃশ্য হয়ে যাবে। প্রথম যখন গণপরিবহনে গ্যাস বিক্রি শুরু হলো কথা ছিল গ্যাস চালিত গাড়ির ভাড়া কম হবে। তা হলো না। সি,এন,জি অটো রিক্সার ভাড়া কয়েক দফা বাড়ানো হলেও মিটারে কোন রিক্সাই চলে না। কয়েকদিন পূর্বে আমার সামনে সদরঘাটে কর্তব্যরত একজন পুলিশ নিজে অতিরিক্ত ভাড়ায় একটি সি,এন,জি ঠিক করে দিল এক ভদ্রলোকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে। বর্তমানে বাসগুলো দেড় থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। নূন্যতম ভাড়া ৫ টাকা হলেও কোথাও ৫ টাকার টিকিট পাওয়া যায় না। কে দেখবে? বি,আর,টি,এ? উত্তর হলো লোকবল কম। লোকবল কম হলেও ভাড়া বাড়ানোর সময় চার্ট তৈরীর কাজটি কিন্তু ১ দিনের মধ্যেই হয়ে যায়। এ হলো নাটকের প্রথম অংশ।

দ্বিতীয় অংশে শুরু হবে বাসের নাম বদলানোর পালা যেমন- সিটি সার্ভিস, সিটিং সার্ভিস, বিরতিহীন, গেইটলক, ডাইরেক্ট, কাউন্টার সার্ভিস এমন আরো অনেক নাম। আর এ নাম পরিবর্তনের সাথে সাথে ভাড়াও বাড়বে। প্রশ্ন ও উত্তর একটাই। এ অবস্থায় অনুমোদিত ভাড়া নিয়ন্ত্রনের কোন নজির যেহেতু কোন সরকার দেখাতে পারেনি সেক্ষেত্রে আবার ভাড়া বৃদ্ধির নৈতিক অধিকার কি সরকারের আছে?
তারপরও আমি বিনীতভাবে নিম্নলিখিত সুপারিশ গুলো রাখছি, যদি ভুলক্রমে হলেও সরকার এর কোন সহৃদয় ব্যক্তির (যদি থেকে থাকেন) চোখে পড়ে।

০১) বিভিন্ন রুটের স্টপেজ থেকে স্টপেজ এর দুরত্ব বি,আর,টি,এ এর ওয়েব সাইটে অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হোক।
০২) প্রতিটি বাস বে তে নির্দিষ্ট লাইনের বাসের জন্য রাস্তায় মার্ক করে নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা হোক।
০৩) প্রতিটি বাসের দরজার পাশে নির্ধারিত স্টপেজ গুলোর নাম স্পষ্ট করে লিখার ব্যবস্থা নেয়া হোক যাতে যেখানে সেখানে বাসটি দাড়িয়ে যাত্রী উঠাতে বা নামাতে না পারে।
০৪) প্রতিটি বাসে চলন্ত অবস্থায় নিদিষ্ট ফি এর বিনিময়ে ফিটনেস ও ক্যাটাগরি স্টিকার প্রদান করবে (যেমন নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে এ, বি, সি,) এই ক্যাটাগরি অনুসারে বাসের কি,মি প্রতি ভাড়া নির্ধারিত হবে।সরকার শুধু কি,মি প্রতি ভাড়া ঠিক করবে হিসাব যাত্রীরাই করতে পারবে।স্টিকার টি সামনের কাচে লাগানো থাকবে এবং ফিটনেস প্রদানকারী টিমের পরিচিতি ও তারিখ উল্লেখ থাকবে যা যাত্রীরা দেখতে পাবে।এ আয় থেকেই ব্যয় নির্বাহ করার পরিকল্পনা থাকতে হবে। এ জন্য কোন গণ পরিবহনকে বি,আর,টি,এ অফিসে যেতে হবে না (প্রকৃত পক্ষে যায়ও না, ফিটনেস কিভাবে পাওয়া যায় অনেকেই জানেন) এবং কোথাও দাড় করাতে হবে না। সরকার কর্তৃক বিশেষ ধরনের স্টিকার সরবরাহের মাধ্যমে এর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।এ কাজটি অবশ্যই যাত্রীদের উপস্থিতিতে চলন্ত বাসে করতে হবে, অনিয়ম হলে যে কোন যাত্রীর অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
০৫) ট্রাফিক পুলিশ কোন গণপরিবহন চেক বা চালকের অনিয়মের জন্য বা অন্য কোন কারণে রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখতে পারবে না। তাকে বাসে উঠে যাত্রীদের সামনে সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত বিভিন্ন অংকের টিকিটের মাধ্যমে সরাসরি জরিমানা আদায় করবে।জরিমানা না দিলে কেস করতে পারবে।
০৬) যাত্রী ও টিকিট বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় প্রতিটি বে তে একজন পুলিশ মোতায়েন করতে হবে।
০৭) বাসের প্রতিটি সিটের জন্য বর্গমিটারে জায়গা বরাদ্দ থাকতে হবে।যাতে করে ঘিঞ্জি করে অতিরিক্ত সীট বসানো না হয়।
০৮) প্রতিটি টিকিটের গায়ে এবং প্রতিটি কাউন্টারে একটি ব্যানারে বিভিন্ন স্টপেজের দূরত্ব ও ভাড়ার পরিমান লিখতে হবে। টিকিটগুলো স্টপেজ টু স্টপেজ আলাদা হবে (অর্থাৎ আরামবাগ/মতিঝিল/প্রেসক্লাব টু কলাবাগান/শুক্রাবাদ/আসাদগেইট হবে না।)
০৯) টিকিট ছাড়া কোন যাত্রী বাসে উঠলে/ অথবা অতিরিক্ত ভ্রমণ করলে তাকে আইনপ্রয়োগকারী ট্রাফিক/পুলিশের হাতে সোপর্দের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং পুলিশের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
১০) গণপরিবহণের সকল কাগজপত্র প্রদানে দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে/চালক লাইসেন্স প্রদান সহজলভ্য করতে হবে (দিনে দিনে)এবং লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের মাসিক টার্গেট নির্ধারণ করে দিতে হবে।
১১) ১৫ মিনিট পর পর বাস ছাড়তে সক্ষম এমন পরিবহণ সার্ভিসকেই অনুমতি দিতে হবে অর্থাৎ অল্প সংখ্যক বাস নিয়ে কোন সার্ভিস চলতে দেয়া ঠিক নয়।

গণপরিবহন যত উন্নত হবে রাস্তায় রিক্সা ও প্রাইভেট কারের সংখ্যা কমবে, যানজট কমবে, মালিকরা লাভবান হবেন, এ খাতে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন, সরকারের বড় একটি রাজস্ব আদায়ের ও ব্যবস্থা হতে পারে কারণ অনেক দেশেই এটি একটি বড় রাজস্ব খাত।

***
ফিচার ছবি: ব্লগ.ডেফোডিলভার্সিটি.এডু.বিডি