ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

প্রথমেই আমি একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। ডি,এস,ই এর ওয়েব সাইটে প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আমি ১৯ এপ্রিল সাউথইস্ট ব্যাংক এর ডিভিডেন্ড আনার জন্য সকাল ১১ টায় ব্যাংকের শেয়ার ডিভিশনে যাই। লিফট নষ্ট থাকায় ৫ তলা পর্যন্ত আমাকে হেটে উঠতে হয়। সেখানে বি,ও নাম্বার লিখার জন্য একটি কাগজ চাইলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা জানান এখানে কোন কিছুতে লিখে দিলে ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট দেওয়া হবে না।ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত টোকেন এ বি,ও নম্বর লিখে দিতে হবে এবং তা পাওয়া যাবে নীচ তলায় ব্যাংকের প্রবেশ পথে। আমি লিফট বন্ধ থাকার বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করি ওয়ারেন্টটি দেওয়ার জন্য। কিন্তু কর্মকর্তা অপারগতা প্রকাশ করায় আমি আবার হেটে নীচে চলে আসি। এসে দেখি প্রচণ্ড রৌদ্রে ৩০-৪০ জনের একটি লাইন। শারীরিক অবস্থা ভাল না থাকায় ফিরে আসি। প্রায় দুই মাস অপেক্ষা করেও ওয়ারেন্ট টি না পাওয়ায় আমি আবার শেয়ার ডিভিশনে যেয়ে জানতে পারি তা কুরিয়ার-যোগে আমাকে পাঠানো হয়েছে এবং বাসার দারোয়ান তা সংগ্রহ করেছে। বাসায় ফিরে এসে খোঁজখবর করে আর উদ্ধার করতে না পেরে আবার ব্যাংকে যোগাযোগ করি। এবার কর্মকর্তা জানান যে থানায় জিডি করে তারপর যোগাযোগ করতে। অল্প কয়টি টাকার জন্য এখন পর্যন্ত আমি সমস্ত ফর্মালিটি শেষ করতে পারিনি। ইতোমধ্যে নাম বিভ্রাটের কারণে আমার নিকট ১২০৩১৯০০২১৫৯৭০২৬ বি,ও নম্বরের গ্রামীণ ফোনের একটি ডিভিডেন্ড ভুলক্রমে আমার নিকট চলে আসে এবং অনেক খোঁজাখুঁজি করেও উক্ত ডিভিডেন্ড এর মালিককে পাচ্ছি না। বর্তমানে সেটি আমার নিকট আছে এবং এর মালিকও নিশ্চয় আমার মত দুর্দশায় পতিত হয়েছেন।

এবার দেখা যাক বর্তমান নিয়মে রিফান্ড বা ডিভিডেন্ড বিতরণে কি কি সমস্যা রয়েছে

০১) সরাসরি কোম্পানি অফিস বা নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে একটি নির্দিষ্ট দিনে বিতরণ করে থাকে। বি,ও হোল্ডার সেই দিন কোন কারণে না যেতে পারলে ওয়ারেন্ট প্রাপ্তি অনির্দিষ্ট কাল পিছিয়ে যায়।
০২) অন লাইন একাউন্টে যে সকল ডিভিডেন্ড পাঠানো হয় তার কোন কাগজ পত্র না থাকায় প্রদান-কৃত করের কোন হিসাব বি,ও হোল্ডার ট্যাক্স রিটার্নে দিতে পারে না। তার সেই হিসাব প্রাপ্তির জন্য যথারীতি শেয়ার ডিভিশনে ঘোরাঘুরি করতে হয়।
০৩) ডিভিডেন্ড বিতরণে নাম সর্বস্ব কুরিয়ার সার্ভিস নিয়োগ দেওয়া হয় যাদের বিতরণে অনেক অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়।
০৪) অ-বিতরণকৃত টাকা কোথায় থাকে অথবা দেরীতে বিতরণকৃত টাকা থেকে কোম্পানি কোন ধরণের লাভ করে কিনা তা সাধারণ শেয়ারহোল্ডার-গনের নিকট স্বচ্ছ না।
০৫) কুরিয়ার সার্ভিস নিয়োগে কোম্পানির দুর্নীতির সুযোগ থাকে।
০৬) কোম্পানীসমূহের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, প্রয়োজনের চেয়ে কম সংখ্যক ডকুমেন্ট যেমন বার্ষিক রিপোর্ট ছাপিয়ে কিছুসংখ্যক শেয়ারহোল্ডারের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং বড় ধরণের দূর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়। অর্থাৎ সকল শেয়ারহোল্ডারের সমসংখ্যক বই ছাপানোর ও বিতরেণর খরচ কোম্পানী থেকে তোলা হয়।

প্রস্তাবিত বিকল্প পদ্ধতি:
প্রত্যেক বি,ও হিসাব-ধারীর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকে তার ব্রোকার হাউজের সাথে। যদি কোম্পানিসমূহ বি,ও হোল্ডারদের সকল ধরণের ডকুমেন্ট ব্রোকার হাউজ-ভিত্তিক ভাগ করে সরাসরি ব্রোকার হাউজে প্রেরণের ব্যবস্থা করে তাহলে সকল বি,ও একাউন্ট-ধারী তাদের সুবিধা-মত ডকুমেন্টটি সংগ্রহ করে নিতে পারে। যেহেতু ব্রোকারেজ হাউজের লোকজন বি,ও একাউন্ট-ধারীর সরাসরি পরিচিত সেক্ষেত্রে বিতরণে ফরমালিটিজ কম থাকবে এবং শুধুমাত্র একটি রেজিস্টারে সই রেখে বিতরণ করতে পারবে। ব্রোকারেজ হাউজ এ দায়িত্বটি পালনের জন্য কোম্পানি থেকে বিতরণকৃত প্রতিটি ডকুমেন্ট এর জন্য ৫.০০ টাকা করে পাবে। প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজ ইচ্ছে করলে এ অর্থ দিয়ে একজনকে নিয়োগ প্রদান করতে পারে তাতে কিছু বেকার ছেলের কর্মসংস্থানও হবে এবং ডকুমেন্ট না পাওয়া বা না প্রেরণ করা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব।