ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

আরব দেশে এবং রাজধানী ছাড়িয়ে এখন প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট নগরীতে নতুন প্রসার ঘটেছে এক নতুন ধূমপান জাতিয় এক ধরনের মাদক শীশা” বা আধুনিক ফ্লেভার্ড হুক্কা। শীশা এক প্রকারের হুঁক্কা যা অনেক আরব দেশেই জনপ্রিয়। সম্প্রতী এই ধূমপান জাতিয় জিনিসটির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে । এক সময় জমিদার টাইপের কিছু লোকজন নিজেদের অবস্থাকে লোক সমাজে প্রদর্শনের জন্য ভাব নিয়ে গরর গরর শব্দ করে দামী হুক্কা খেত। সিলেট প্রবাসী অধ্যুষীত হওয়ায় অনেক আগে থেকেই প্রবাসী দের দেখাদেখি এর সাথে কয়েক জনের পরিচয় থাকলেও নগরীর কোন রেন্টুরেন্ট এই নেশা দ্রব্যটিকে ব্যবসা হিসেবে শুরু করেনি। সম্প্রতি শীশা এর প্রভাব নগরীর কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ব্যবহার দেখা গেছে । এখন অনেক রেস্তোরাঁই খাবারের পাশাপাশি শীশার ব্যবস্থাও রাখে। এই জিনিসটির প্রতি তুরুণ এবং তরুণীদের আকর্ষণ বেশী লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর কয়েকটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায় কিছু তরুণ একটি টেবিলে গোল হয়ে বসে শীশায় তান দিচ্ছে এবং কিছু কিছু টেবিলে তরুণদের সাথে তরুণিদেরও দেখা গেছে একসাথে শীশা খেতে। নগরীর যে সব রেস্টুরেন্ট গুলোতে শীশা পাওয়া যায় সেই রেস্টুরেন্টগুলোতে তরুণ আথবা তরুণীদের একসাথে প্রবেশ হতে দেখলেই রেস্টুরেন্ট কতৃপক্ষ জিজ্ঞেস করে শীশা খাবেন। অনেকেই বন্ধুদের সামনে কৃতিত্ব দেখানোর জন্য এই শীশার প্রতি আসক্ত হয়ে পরছে । শীশা খাওয়া তাদের কাছে বন্ধুদের সাথে আড্ডা জমিয়ে তুলে বলে মনে করে সবাই। কিন্তুু তাদের কেউ বুঝতে পারে না শীশা কতটা মারাতœক। আরো আশংকার বিষয়, অস্বাভাবিক হারে ছেলেদের সাথে সাথে উঠতি মেয়েরাও শীশার সাথে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই শীশা সেবনকারীদের অধিকাংশই মনে করে যে, হুক্কা/শীশা সিগারেটের তুলনায় কম বিষাক্ত । এ পর্যন্ত শীশা নিয়ে করা প্রতিটি গবেষণাতেই দেখা গেছে শীশা পান স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই ক্ষতিকর এবং এর ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, রোগব্যাধি, মুখের ক্যান্সার ও আরও কিছু রোগ যেমন যক্ষ্মা ও হেপাটাইটিস-এ এর সংক্রমণ হতে পারে।” সচেতন অভিভাবক মহল খুবই চিন্তিত ব্যাপারটা নিয়ে । নগরীতে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট যেমন- ধূপাদীঘির পারে অবস্থিত অলিভট্রি, উপশহরের রোজভিউ হোটেলে
৪০০-৫০০ টাকার মধ্যেই শীশা পাওয়া যাচ্ছে !এই যেসব ছেলে মেয়েরা কোনোদিন সিগারেট পর্যন্ত স্পর্শ করেনি, অথচ এদেরই ব্যাপক একটি অংশ ঘর থেকে টাকা এনে শীশা পানে করছে!

শীশার তথ্য অনুসন্ধানে যে ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া গেল তা হল–

১) সীসার ৪টা স্তর। বেজ, পাইপ, বওল আর মাউথপিস। বওলটাকে এলুমিনিয়ামের কভার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় আর সেই ফয়েলের মাঝে উত্তপ্ত কয়লা রাখা হয়। যা কিনা ভেতরের টোব্যাকো (তামাক) পুড়াতে সাহায্য করে। এটা সবার জানার কথা, কয়লা পুরে কার্বন মনো অক্সাইড হয়, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে চরম ক্ষতি করে। মৃত্যুর কারণ হতে পারে ।
২) এই ধোয়া বেজ এ রাখা সুগন্ধী (যেমনঃ স্ট্র্যবেরী, নারিকেল, চকলেট, গোলাপ) পানির ভেতর হয়ে আসে এবং তা মাউথপিসের সাহায্যে সোজা পাকস্থলিতে পৌছে।

৩) সম্প্রতি এক সংবাদ অনুযায়ী, এক ঘণ্টা শীশা খাওয়া একশো সিগারেট খাওয়ার সমান।

৪) ক্ষতির দিক দিয়ে শিশা বা সিগারেট দুটো জিনিসই ক্ষতিকর। সিগারেটে যেখানে ১-৩% নিকোটিন থাকে, সেখানে সীসাতে ব্যাবহৃত তামাক থেকে ২-৪% নিকোটিন থাকে। সুত্রঃ ড. কেনেথ, আমেরিকা একাডেমী অফ পেডিয়াট্রিক্স এর প্রেসিডেন্ট।

৫) ইয়েমেন এর একটি প্রসিদ্ধ হাসপাতালের কার্ডিয়াক স্পেশালিস্ট ড. আহমেদ আল-মোতাররেব বলেন, “ একবার পুর্ণ ভাবে সীসা গ্রহন করা ৬০টি সিগারেট গ্রহন করবার সমান”। সুত্রঃ ঔড়ঁৎহধষ ড়ভ চবৎরড়ফড়হঃড়ষড়মু (ঘড়া. ২০০৫)

৬)অতি উৎসাহী কিছু মানুষ যুক্তি দেখায়, “এটা তো পানির মধ্যে দিয়ে আসে। সব কিছু তো শোষন হয়ে যায়” কিন্তু আমাদের জানা দরকার নিকোটিন পানিতে প্রকৃতভাবে দ্রবীভুত হয় না”!

৭) সুগন্ধী, ঠান্ডা ধোয়া এবং প্রবল বিশ্বাস যে এটি ক্ষতিকর নয়, এগুলোই শীসার প্রতি মোহের একমাত্র কারণ। (সুত্রঃ ড. আল খামেরী, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।)

সরকারকে অবীলম্বে শীশাকে নিষিদ্ধ করা উচিত এবং এধরনের একটি ক্ষতিকর জিনিস থেকে নিজেকে এবং বন্ধুকে সড়িয়ে আনা আমাদের কর্তব্য।