ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
zia_Mujib

জনাব ইবনে গোলাম সামাদ সাহেবের প্রিয় ডট কমে লেখা একটি আর্টিকেল পরলাম। তিনি লিখেছেন, “শেখ মুজিব হত্যায় জিয়ার উদ্যোগ ছিল না।” পুরো আর্টিকেলটি পড়ে একটু হাসলাম। হাসলাম এজন্যেই যে, যারা আজকে জিয়াউর রহমানকে নির্দোষ করার জন্য লেখালেখি করছে ততই সত্য বের হয়ে আসছে ততই দিবালোকের মত স্পষ্ট হচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল।

জনাব ইবনে গোলাম সামাদ সাহেবের একটি আর্টিকেলের কিছু অংশ আমি হুবুহু তুলে ধরছি।

“দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ১৫ আগস্টের কিছু ক্রোড়পত্র পড়লাম। এগুলো পড়ে মনে হতে পারে, শেখ মুজিব হত্যা হতে পেরেছিল জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা অনুসারে। তাই বর্তমান আলোচনার অবতারণা। শেখ মুজিব যখন নিহত হন, তখন কে এম সফিউল্লাহ ছিলেন প্রধান সেনাপতি। জিয়া ছিলেন উপপ্রধান সেনাপতি। তার কমান্ডে সেনাবাহিনী পরিচালিত হতো না। তাই সেনা বাহিনীর কোনো কৃতকর্মের জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে না। কে এম সফিউল্লাহ সেনা বাহিনীতে প্রধান দায়িত্বে ছিলেন ২৪ আগস্ট, ১৯৭৫ পর্যন্ত। তাকে টপকে জিয়া সেনা বাহিনীতে নেতৃত্ব দিতেন, এ রকম কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি কে এম সফিউল্লাহ। ঢাকা ব্রিগেডের পরিচালক ছিলেন শাফায়াত জামিল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি জিয়াকে এসে বলেন, শেখ মুজিব খুন হয়েছেন, এখন কী করা প্রয়োজন। জিয়া তাকে বলেন, আমরা হলাম সেনা বাহিনীর লোক। প্রেসিডেন্ট নিহত হয়েছেন কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট বেঁচে আছেন। তিনি এখন প্রেসিডেন্ট হবেন। তিনি আমাদের যে নির্দেশ দেবেন, তাই আমরা করব।

জিয়ার নিজের কথায়- President is dead, so what? Vice President is there, you should uphold the sanctity of the constitution, Get your troops ready immediately. জিয়া শাফায়াত জামিলকে বিদ্রোহীদের সাথে সহযোগিতা করতে উপদেশ দেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। ক্ষমতা দখল করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। পরিণত হন প্রেসিডেন্টে।…

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি; কিন্তু তখন নেতৃত্ব চলে গিয়েছিল তার হাত থেকে খন্দকার মোশতাকের হাতে- যেটা আমার কাছে মনে হয়েছিল খুবই স্বাভাবিক। তখন যদি তিনি সাহস করে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করতেন এবং সেনা বাহিনীকে ডাকতেন, তবে দেশের ইতিহাস নিশ্চয়ই ভিন্ন রূপ নিত; কিন্তু সেটা করতে পারেননি। এখন বলা হচ্ছে, জিয়া সামরিক বাহিনীকে উত্থানে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন; কিন্তু শাফায়াত জামিলের কথা সত্য হলে বলতে হবে, জিয়া চেয়েছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের নির্দেশ মানতে। প্রধান সেনাপতি সফিউল্লাহ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জিয়া সামরিক অভ্যুত্থানের কথা জানতেন না। তিনি এই সামরিক অভ্যুত্থানের কথা প্রথম জানতে পারেন তার কাছ থেকে এবং জিয়া প্রায় সারা দিন তার পাশেই ছিলেন। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার প্রথম সংবাদ পরিবেশন করে আধাসরকারি মার্কিন বেতারকেন্দ্র ভয়েস অব আমেরিকা (VOA) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। এত আগে ভয়েস অব আমেরিকা কী করে মুজিব হত্যার খবর পেতে পেরেছিল, সেটা হয়ে আছে প্রশ্নেরই বিষয়। অনেকে মনে করেন, শেখ মুজিব হত্যার সাথে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য-সহযোগিতা। এ সম্পর্কে বলার মতো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো আমাদের হাতে নেই।”

আমি লেখককে বলতে চাই, আপনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন নিহত হন, তখন কে এম সফিউল্লাহ ছিলেন প্রধান সেনাপতি। তাই সেনা বাহিনীর কোনো কৃতকর্মের জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করা যেতে পারে না। আপনারই লেখায় বিষয়টির উত্তর আছে। ঢাকা ব্রিগেডের পরিচালক ছিলেন শাফায়াত জামিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি জিয়াকে এসে বলেন, শেখ মুজিব খুন হয়েছেন, এখন কী করা প্রয়োজন। জিয়া তাকে বলেন, আমরা হলাম সেনা বাহিনীর লোক। প্রেসিডেন্ট নিহত হয়েছেন কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট বেঁচে আছেন। তিনি এখন প্রেসিডেন্ট হবেন। তিনি আমাদের যে নির্দেশ দেবেন, তাই আমরা করব। আপনার মাথায় কি এটা আসলোনা যে, সফিউল্লাহ ছিলেন প্রধান সেনাপতি তাহলে শাফায়াত জামিল কেন জিয়াউর রহমানের কাছে যাবে? আর উনিও তো বিষয়টি ঠাণ্ডা মাথায় বলে দিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশ চালাবেন। বাহ কি সুন্দর কথা একজন সম্মানিত প্রেসিডেন্টকে সপরিবারে খুন করা হয়েছে, দেশে যেন কিছুই হয়নি! জিয়াউর রহমানের দ্বারা এটাই তো বলা স্বাভাবিক, কারণ উনিই তো সব কিছুর মুল।

লেখক আরো বলেছেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি; কিন্তু তখন নেতৃত্ব চলে গিয়েছিল তার হাত থেকে খন্দকার মোশতাকের হাতে- যেটা আমার কাছে মনে হয়েছিল খুবই স্বাভাবিক। তখন যদি তিনি সাহস করে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করতেন এবং সেনা বাহিনীকে ডাকতেন, তবে দেশের ইতিহাস নিশ্চয়ই ভিন্ন রূপ নিত; কিন্তু সেটা করতে পারেননি। আপনার কাছে কেন? আপনাদের মত সবার কাছে বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হবে এটাই তো স্বাভাবিক। খন্দকার মোশতাক যেমন ইতিহাসে মীরজাফর হয়ে ইতিহাসে বেঁচে আছে তেমনি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কেন হলোনা?

ইতিহাস বড়ই নির্মম, সত্য কখনো চাপা থাকেনা, থাকবেও না। খুনি ফারুক-রশিদ সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে সরাতে হলে খুন করা ছাড়া তাদের সামনে কোনো গত্যন্তর ছিল না। তারা জিয়াউর রহমানের কাছে সমর্থন চাইলে তিনি নীরব সম্মতি দেন, সহায়তার ইঙ্গিত করেন। খুন করার পর যারা সাক্ষাতকার দিয়ে বেড়ায়, তারা এখন কিভাবে অস্বীকার করবে? দিবালোকের মত স্পষ্ট বিষয়টাকে ঘোলা করে আর কোন লাভ নেই। বর্তমান যুগের শিক্ষিত জনগন এখন অনেক বুঝে। আজকের সচেতন জনগন ওদের মায়াকান্না আর শুনতে চায়না। ওরা যতই জিয়াউর রহমানকে নির্দোষ করার জন্য লেখালেখি করছে ততই সত্য বের হয়ে আসছে এবং ততই দিবালোকের মত স্পষ্ট হচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল। আমি চাই ওরা আরও লেখালেখি করুক, সভা সেমিনার করুক এভাবেই সত্য বের হবে এবং জনগনের নিকট আরও স্পষ্ট ভাবে প্রমান করছে এবং করবে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল।

তথ্য সুত্রঃ
০১/ http://www.jugantor.com/current-news/2014/08/16/135467
০২/ http://blog.priyo.com/ibne-golam-samad/42561.html

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
লেখক_অন্যধারা প্রকাশন
Sahidul_77@yahoo.com