ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
index

সাড়ে সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী , রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি” – রবীন্দ্রনাথের এই বানী অনেক আগেই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ হয়তো ভুলেও চিন্তা করেননি আমার এই বাংলায় এমন বড় মাপের একজন নেতা হবেন এবং বিশ্বের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে যার নাম লেখা থাকবে।

১০ই জানুয়ারী ১৯৭২ সাল। বঙ্গবন্ধু প্রত্যাবর্তন করলেন ঢাকায়। এয়ারপোর্টে নামলেন, ফুলে ফুলে সিক্ত তিনি, আর আবেগ আপ্লুত। তার দেশ স্বাধীন, বাঙালি আজ মানুষ। বঙ্গবন্ধু প্রথম কথাটিই বললেন, “কবিগুরু তুমি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হলে, দেখে যাও তোমার বাঙালি আজ মানুষ”।

১ বৈশাখ ১৪১১ বুধবার মোতাবেক ১৪ এপ্রিল ২০০৪ সাল। বিবিসি বাংলা সার্ভিসের শ্রোতা জরিপে বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি থকে ২২ মার্চ , ২০০৪ পর্যন্ত বিবিসি ৩৩ দিন তাদের বাংলা সার্ভিসের অগনিত শ্রোতার মধ্যে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির উপর জরিপ চালায়।

পহেলা বৈশাখের দিন বিবিসির প্রভাতি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে প্রচারিত হওয়ার পর বাংলার মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। এই উল্লাসে বিএনপি এবং জামাত নাখোশ। তাঁদের মতে বঙ্গবন্ধু কেন এক নম্বরে উঠে এলেন।  বিএনপি এবং জায়ামাতের আজ্ঞাবহ কিছু সুশীল ব্যক্তি এটি নিয়ে মিথ্যা ও নোংরা রাজনীতি করতে গিয়ে ও বার বার ব্যর্থ হয়েছে। বিবিসির জরিপে বঙ্গবন্ধুর নাম এক নম্বর উঠে আসায় আবারো প্রমানিত হলো ইতিহাসের সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না।

হালে এ নিয়ে বিএনপির কথিত কাণ্ডারি তারেক জিয়া নোংরামিতে মেতে উঠেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকেই অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তিনি হাজার হাজার মানুষের মনে কষ্ট দিয়েই ক্ষান্ত হননি। তাঁর বাবা অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকারীকে বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট বানিয়েছেন। কতটুকু অশিক্ষিত হলে এমন কিন্ভূতকিমাকার কথা বলতে পারে।

আমি বলি, আরে ভাই ইতিহাস জানতে তো আর বড় বড় ডিগ্রী লাগে না। লোকে বলে আপনি অশিক্ষিত, মূর্খও, অর্বাচীন, কুলাঙ্গার আরও কত কি। আমি বলি এ জন্যে আপনার ব্যারিস্টারী ডিগ্রী লাগবেনা। শুধু আপনার সদিচ্ছার প্রয়োজন। সত্য ইতিহাস পড়ুন এবং জানুন। তাহলে আপনাকে আর অশিক্ষিত, মূর্খও, অর্বাচীন, কুলাঙ্গার এ সব গালি শুনতে হবেনা।

 

MAKING OF A NATION – BY PROF. NURUL ISLAM এর লেখা এই বইটির ১৬৬-১৬৯ পৃষ্ঠায় খুব সুন্দর করে লেখা আছে জিয়া কিভাবে জড়িত ছিল। রাশিয়া ও  আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্হা বিষয়টি বঙ্গবন্ধুকে জানানোর পর ১ আগষ্ট ১৯৭৫ জিয়াকে বহিস্কার করার সিদ্বান্ত নেন । প্রফেসর নুরুল ইসলাম ছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী । যেহেতু বঙ্গবন্ধু জিয়াকে সেনাবাহিনীতে নতুন একটি ব্রিগেড গঠনের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন তাই কাজ শেষ করতে জিয়া নুরুল ইসলাম সাহেবের কাছ থেকে ১৫ দিন সময় চেয়ে নেন আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অনুরোধে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ থেকে জিয়াকে বহিস্কার করার সিদ্বান্ত নেন এবং মন্ত্রনালয় থেকে জিয়াকে জানিয়েও দেয়া হয় । এই ১৫ দিনেই যে জিয়া বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলবেন এটা যদি প্রফেসর নুরুল ইসলাম বুঝতে পারতেন তাহলে এই ঘটনা ঘটত না । ২০০১ সালে ২৯ জুলাই দৈনিক জনকন্ঠে প্রফেসর নুরুল ইসলামের একটি লেখা প্রকাশিত হয় । জিয়া সবচেয়ে বড় কুলাঙ্গার এবং বিষাক্ত কীট। ইতিহাস বড়ই নির্মম। কাউকে ক্ষমা করেনা। আপনার পিতা যে অপরাধ করেছিলেন তা তো এক ভাবে না এক ভাবে প্রকাশ হতে হবে। আপনিই সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আপনারা যতই বাড়াবাড়ি করছেন ততই সত্য বেরিয়ে আসছে এবং আমরা যারা অজানা ছিলাম তারা সকলেই আজ অবগত হচ্ছি।

আপনাদের কল্যাণেই আজ আমরা জানতে পারছি, বঙ্গবন্ধু ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ হলে তারেক ‘অবৈধ সন্তান’: ছাত্রলীগ (তথ্যঃ নতুন বার্তা ডট কম )। আপনাদের কল্যাণেই আজ আমরা জানতে পারছি, আপনার পিতা বাই চান্স মুক্তিযোদ্ধা। (তথ্যঃ বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম )

সবশেষে আমি বলতে চাই সত্য গোপন থাকেনা, মিথ্যা চাপা থাকেনা। সত্য আজ ওদের অগোচরেই বেরিয়ে যাচ্ছে। ওদের কল্যাণেই আজ প্রমাণ হচ্ছে, ওরাই প্রমাণ করছে জিয়াউর রহমান বাই চান্স মুক্তিযোদ্ধা!

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
লেখক_ অন্যধারা ডটকম
Sahidul_77@yahoo.com