ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বেশ কিছু দিন যাবত আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কথা বলে আসতেছিলেন যে, ১৯৯১-এর সাধারণ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাকিস্তানের এক সংস্থা থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন । কথাটা অনেকে হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন । এখানে উল্লেখ্য বিষয় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে উদ্দেশ্যে করে একটি কথা বলেছেন, বিদেশ থেকে যারা টাকা এনে নির্বাচন করে তাদের সেই দেশে চলে চাওয়া উচিত ।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমি অনুরোধ করব উনাদের সেই দেশে চলে যেতে বলবেন না। কারণ হিসেবে আমি বলব, এ ক্ষেত্রে আমাদের নবী করীম (সঃ) এর আদর্শ হল , যখন তিনি বিধর্মীদের নিকট সত্যের বানী নিয়ে যেতেন তখন তারা আমাদের নবী করীম (সঃ) কে এমন কষ্ট যাতনা দিয়েছে যে, ফেরেস্তেরা এসে নবী করীম (সঃ) কে বলেছেন হে আল্লহর নবী আপনি শুধু হুকুম দেন ওদেরকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে নেই। তখন নবী করীম (সঃ) বলতেন আমি তা বলবনা কারণ ওরা যদি না থাকে তাহলে আমি আমার সত্যের বানী নিয়ে কার কাছে যাব। তাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমি অনুরোধ করব আপনি ওদের সামনে এমন আদর্শ স্থাপন করেন যেন আপনাকে দেখে ওরা শেখে।

এবার আসি পাকিস্তান থেকে টাকা গ্রহনের কথায় । আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধী দলীয় নেত্রীর টাকা গ্রহনের কথা যখন বলতেছিলেন তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সরাসরি তা নাকচ করে দিয়ে উল্টো অভিযোগ করেন।

এখানে টাকা গ্রহণের পত্রিকার রেফারেন্স নিন্মে দেয়া হল –
“বিএনপিকে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন সাবেক আইএসআই প্রধান_পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের আইএসআই) সাবেক এক প্রধান স্বীকার করেছেন, ১৯৯১-এর সাধারণ নির্বাচনের সময় সংস্থাটি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তহবিল জোগান দিয়েছে।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন বলে শুক্রবার জানা গেছে।

পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসআইর সাবেক প্রধান আসাদ দুররানি গত বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টের জারি করা সমনের উত্তরে এ স্বীকারোক্তি দেন।
গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে আইএসআইর এখতিয়ার সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এ সমন জারি করে।

ইসলামাবাদ ভিত্তিক নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানায়, গত বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খানের দায়ের করা এক দশকেরও পুরনো এক মামলার শুনানিতে আসাদ দুররানিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এ সম্পর্কে ভারতের ইন্ডিয়া টুডে মন্তব্য করে, ‘গোয়েন্দা সংস্থার এখতিয়ার সম্পর্কে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে সাবেক আইএসআই প্রধান এ স্বীকারোক্তি দেন।”
সমকাল _শনিবার_ ১৭ মার্চ ২০১২_অনলাইন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের উল্টো অভিযোগ –

এখানে আমি ভিভিন্ন পত্রিকার রেফারেন্স উল্যেখ করছি , শনিবার (১৭/০৩/১২) দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ইকোনোমিস্টে ছাপা হয়েছে- ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে বস্তায় বস্তায় টাকা এনে নির্বাচনে জিতেছে। এখন সেই সত্য ঢাকতে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে।”
BDNEWS24.COM (17.03.12)

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনশ্রুতি আছে ভারতের কাছ থেকে বস্তা বস্তা টাকা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।
প্রথম আলো অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১৭-০৩-২০১২।

জনাব মির্জা ফখরুল সাহেব আপনার এ অভিযোগের কোন ভিত্তি আছে বলে মনে হয় না।

এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নিকট জনগণের প্রশ্ন__

১. আপনি কি টাকা নেয়ার কথা সত্যি জানতেন না?
২. না কি জেনেও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন?

প্রথম উত্তর যদি না হয়, তাহলে আমি বলব একটি দলের গুরুত্ব পূর্ণ একটা পদে থাকার পরও যদি আপনি না জেনে মিডিয়ার কাছ থেকে জানতে হয় তাহলে এরকম দলের রাজনীতি না করাই ভাল।

দ্বিতীয় উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে মিথ্যা বিবৃতির জন্য জনগণের নিকট আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত।

সব শেষে আমি বলব যদি আপনারা টাকা নিয়েই থাকেন তাহলে জনগনের সামনে ঘোষণা দিন এবং জনগণের নিকট ক্ষমা চান নইলে বাংলার জনগন আপনাদের ক্ষমা করবেনা।