ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় ব্লগার বন্ধুগণ কেমন আছেন সবাই ? আমার মনে হয় ভাল থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। নিশ্চয়ই আমার মত আপনারাও নিজেদের নিয়া ও আপনার পরিবারের সদস্য নিয়া ভিত। মনে আনেক দুঃখ ও অনিশ্চয়তা নিয়া লিখতে বসলাম। মনে বার বার প্রশ্ন জাগে কি হচ্ছে আমাদের সোনার বাংলাতে ? যেখানে আমার জন্ম, যেখানে আমার বড় হাওয়া, যেখানে আমার ভবিষ্যৎ সেটা কি নিরাপদ ? যারা নিরাপদ রাখবে তারা আমাদের জন্য কতটুকু নিরাপদ ? সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমার মনে এইসব প্রশ্নের জন্ম দিয়াছে। আমার মন আমাকে জিজ্ঞেস করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ ও র‍্যাব কি জনগনের রক্ষা করার জন্য নাকি পিটিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্য ? আমি আমার মনকে কোন উত্তর দিতে পারি না আর দিব বা কি করে বাস্তবতা তো উত্তর দেয়ার সুযোগ রাখে নাই। বরিশালের লিমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কাদের ওদের কি অপরাধ ? তারা কি ছাত্র বলে হয়রানির শিকার হচ্ছে নাকি এর পিছনে অন্য কোন কারন রয়েছে ? লিমনের জীবন থেকে মূল্যবান সময় কেড়ে নিল র‍্যাব সাথে করে নিল তার একটি পা তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হোল না। কি অপরাধে লিমনের আজ আমন দশা ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কাদেরকে নিয়াও পুলিশের কত নাটক। একবার বলে বাসাবো বিশ্বরোড এ ডাকাতি করার সময় তাকে ধরা হয় আবার বলে সেগুনবাগিচা থেকে সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় আটক করে আবার বলল সেগুনবাগিচা কোন একটি বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে জনতা তাকে ধরিয়ে দেয়। একেক সময় পুলিশের একেক রকম বক্তব্য। তাহলে আসল সত্য কোণটা ? কেন এত হয়রানি ? আবার কিছু দিন আগে সাভার এর আমিনবাজারে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ছয় ছাত্রকে পুলিশ না জেনে ডাকাত বলে আখ্যায়িত করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হোল। পুলিশ কেন আজ জনতার বিপরিতে অবস্থান করছে ? আমরা সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি পুলিশের কাছেও জিম্মি ? আমরা কি আমাদের দেশে স্বাধীন না ? নাকি নিজের ঘরে নিজে প্রবাসি হয়ে আছি ? একজন মানুষ তার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে কিন্তু ঘরে ফিরে আসবে কি না তা বলা মুশকিল কারন সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই অনিশ্চয়তা জন্ম দেয়। পুলিশ যদি কোন মানুষকে সন্দেহ করে তখন তাকে জানার জন্য যত পরীক্ষা করার করতে পারে কিন্তু এইসব কিছু না করে তাকে মেরে অঙ্গহানি করে দেয়। এটা পুলিশের কেমন আচরণ ? কেন এই বর্বরতা জনগনের বিরুদ্ধে ? এইসব কিছু যখন দেখি, শুনি তখন মনে প্রশ্ন আসে “পুলিশ জনগনের বন্ধু” এটা কি শুধু বলার জন্যই থাকবে ? আমরা কি বাস্তবে কখনও পুলিশকে বন্ধু হিসাবে পাব না ? যাই হোক এত কিছুর পরও মানুষের জীবন থেমে থাকে না। সময় বহমান তাই চলে যাবে কিন্তু আমরা এইসব ঘটনা ভুলবো না। তবে এগুলো মনে রেখে নিজেদের সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পুলিশ, র‍্যাব তথাপিও অন্যসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমাদের বন্ধু হিসাবে দেখতে চাই এবং আমরা এটাও বিশ্বাস করতে চাই যে তারা আমাদের জন্য নিরাপদ আমরা তাদের সেবায় নিরাপদ। আমাদের মনে যাতে পুলিশ, পুলিশ নামের ভয় এর জন্ম না দেয় এই আশাবাদ ব্যক্ত থাকল। পরিশেষে সবার জন্য থাকল শুভকামনা। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ……।