ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের লাশ আজ সকালে তার প্রিয় শহর ঢাকায় এসেছে। শহীদ মিনারে রাখা হুমায়ুনের লাশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পুরো বাংলাদেশ। দেশের সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেল শহীদ মিনার থেকে হুমায়ুন আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন সরাসরি সম্প্রচার করছে। আমরা যারা ঢাকার বাইরে আছি তারা ইচ্ছা করলেও আমাদের প্রিয় এই সাহিত্যিকের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছিনা। তবে আমাদের পরিচিত কয়েকজন গতরাতেই ঢাকা গেছেন হুমায়ুন আহমদকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত শহীদ মিনার দেখে অভিভূত হচ্ছি যে কতো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তবে হুমায়ুনের লাশ দাফনের স্থান নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে তা কিছুটা হলেও অশোভন মনে হচ্ছে। কারন হুমায়ুনের লাশ কোথায় দাফন হবে তা নিয়ে তার আত্মীয় স্বজনদের বারবার প্রশ্নের মুখোমুখি করছে টেলিভিশন সাংবাদিকরা।

টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বিমান বন্দরে হুমায়ুন আহমদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে সাংবাদিকরা বারবার জিজ্ঞেস করছিলো কোথায় দাফন হবে? শাওন বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে কথা বলতে পারছিলো না। তারপরও শাওনের সামনে থেকে মাইক্রোফোন সরানো হয়নি, এবং বন্ধ হয়নি প্রশ্ন করাও ।

কোথায় দাফন করা হবে এই নিয়ে শাওন তার মতামত দিয়েছে স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু সাংবাদিকরা এই নিয়ে শাওনকে বারবার প্রশ্ন করছেন, যাতে এক ধরনের পারিবারিক বিরোধ বিরোধ গন্ধ খুজে পাওয়া গেল। আর মিডিয়া যেন এই বিরোধকে সংবাদের পুঁজি হিসেবে কাজে লাগাতে ব্যস্ত।

একই ভাবে হুমায়ুন আহমদের দুই ভাই জাফর ইকবাল এবং আহসান হাবিবকেও সাংবাদিকরা একই ভাবে ছেঁকে ধরেছে, কোথায় দাফন হবে হুমায়ুন আহমদের। তারাও পারিবারিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত শাওনের ইচ্ছার সাথে এক হয়নি। এখানেও সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করে গেছে।

তবে সব মিলিয়ে বুঝা যাচ্ছে হুমায়ুনের কবর দেয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আর কয়েকটি টেলিভিশন যেভাবে লেগে আছে তাতে হুমায়ুনের চলে যাওয়ার চেয়েও কোথায় কবর দেয়া হবে তাই যেন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।

কোন কোন টেলিভিশন চ্যানের তো আবার রাজধানীর কবরস্থানগুলোতে রিপোর্টার পাঠিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি সরাসরি সম্প্রচার করছে। কবর খোঁড়া শুরু হলো কিনা? লোকজন খন্তা কুড়াল নিয়ে কবর খোড়া শুরু করলো কিনা তাও এখন সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে!

প্রিয় হুমায়ুন আহমদকে কোথায় কবর দেয়া হবে সেটা তার পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এই সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা হয়তো বিলম্ব হচ্ছে, হতে পারে পরিবারের সব সদস্য এক রকম চিন্তা নাও করতে পারেন, তাতে আমরা ভক্তদের খুব একটা লাভ ক্ষতি কি? হ্যা ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী যত তাড়াতাড়ি সমাহিত করা যায় তত ভালো।

মানছি ভক্তদের জানার আগ্রহ আছে কোথায় সমাহিত করা হবে হুমায়ুনকে। আর মিডিয়ার দায়িত্ব হচ্ছে সেই আগ্রহ মিটানোর। তবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্লিজ শোকাহত পরিবরাকে বিব্রত করবেননা। আমরা যারা হুমায়ুনকে ভালোবাসেন তারা এই ভালোবাসা তার পরিবারের প্রতি দেখান, তাদেরকে ক্ষতবিক্ষত করবেননা।