ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমরা খুবই দূঃখিত মিস্টার প্রনব মুখোপধ্যায় । অতিথি পরায়নতার ঐতিহ্য থাকার পরও আজ আপনার মত অতিথিকে আমরা যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছি। ভারতের প্রথম বাঙ্গালী প্রেসিডেন্ট পদধারী হিসেবে আপনি যখন অতিথি হয়ে এসেছেন, তখন দাও দাও আগুনে জ্বলছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে লাশের মিছিল, শহর থেকে শহরে আতংক আর উদ্বেগ।

এত উদ্বেগ আর আতংকের মধ্যে একজন অতিথি হিসেবে আপনিও স্বস্থিতে থাকার কথা নয়। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিলোনা। যাদের হাত ধরে আমাদের স্বাধীনতা এসেছে সেই প্রতিবেশি ভারতের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে আপনার আগমনে ১৬ কোটি বাংলাদেশী বাঙ্গালী আজ ফুল হাতে রাস্তার দুপাশে দাড়িয়ে থাকার ছিল । কিন্তু আপনি যখন স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পা রাখেন তখন এটি এক আতংকের জনপদ।

আমরা যেমনই থাকিনা কেন ঐতিহ্য অনুযায়ী ঘরে অতিথি আসলে হাসি খুশীতে ভরে উঠতো আমাদের বাড়ী। এখনো আমরা এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আজকে যেন সব উল্টা পাল্টা হয়ে গেছে। আপনার মত একজন অতিথির আগমন সত্বেও ঐতিহ্য ভুলে আমরা হতভম্ব, নির্বাক।

কেন এমন হলো ? এই প্রশ্নের উত্তর খুজে পেলাম আপনার দেশের মিডয়ার কাছে । তারা প্রচার করেছে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানী সেনাদের এই দেশের সহযোগীদের ফাসি নিশ্চিত করতে শাহবাগে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে তার পর থেকে মূলত এই পরিস্থিতি। আপনার দেশের মিডিয়া থেকে আমরা আরো জানতে পেরেছি শাহবাগের এই আয়োজনে আপনারাও সহযোগী।

আপনাদের মিডিয়া যাই বলুক আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি কোন ভাবেই গৃহযুদ্ধ নয়। বড়জোরে গৃহবিবাদ হতে পারে। কারন সরকার পরিবর্তন হওয়ার সময়টিতে এই রকম বিবাদে আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি। তবে এবারের বিবাদের মূল্য কিছুটা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে, এই টুকুই।

গত কয়েক বছর সরকার পরিবর্তনের সময় ’কারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে, ’কিভাবে পালন করবে সেসব নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল অথবা জোটের মধ্যে বিবাদ হয়। আর বিবাদের ইস্যূ কিন্তু ভিন্ন। এবারের বিবাদ ৪২ বছর আগের ইস্যূ নিয়ে।

আপনাদের মিডিয়াকে যদি বিশ্বাস করি তাহলে আমাদের বুঝতে বাকি থাকেনা যে কারা এই বিবাদের রসদ যুগিয়ে চলেছে। তবে বিবাদের ইন্ধন যে জায়গা থেকে আসুক না কেন, এটা আমাদের ব্যর্থতা যে ৪২ বছরেও আমরা ১৬কোটি বাংলাদেশী বাঙ্গলীরা একটি জায়গায় একমত হতে পারেনি। এই একমত হতে না পারার জন্য আপনাদের নিরন্তর চেষ্টা প্রচেষ্টার বিষয়টি আমাদের মধ্যে গুজবের আকারে বেশ প্রচলিত আছে । তবে আপনাদের সরাসরি দোষারোপ করার চেয়েও শৃংখলা দায়িত্ববোধ আর দেশপ্রেমের প্রয়োজনীয়তায় আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ন।

আমাদের এবারের বিবাদের ইন্ধন যেই জায়গা থেকে আসুকনা কেন বিবাদের ফল দাড়াচ্ছে যে আপনাকে ঠিকভাবে আমরা আতিথেয়তা করতে পারেনি। যা আমাদের ঐতিহ্যের সাথে একবারেই মিলেনা। অতিথি হিসেবে তো নই ,জামাই বাবু হিসেবে আপনি যে যত্ন আত্তিটা পাওয়ার দাবিদার ছিলেন তাও পেলেননা।

তবে জামাই বাবু মনে রাখবেন আমাদের বিবাদ ঠিকই মিটে যাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হবোই ইনশাআল্লাহ । গত বিশ বাইশ বছরে এত বিবাদ বিসম্বাদের পরও আমরা কিন্তু থেমে নেই। অনেক এগিয়েছি। আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও আমাদের সামনে আছে। রসদ যুগিয়ে আমাদের মধ্যে যে যতই বিবাদ লাগাক না কেন বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা সগর্বে উডবেই।

যা হোক একটা কথা আমরা ভালোভাবে বিশ্বাস করি –’প্রতিবেশি ভালো না থাকলে আমরাও ভালো থাকতে পারিনা। আর দুনিয়ার অনেক কিছু পরিবর্তন করা গেলেও প্রতিবেশী কিন্তু অপরিবর্তনীয় । তাই প্রতিবেশীর সুবিধা অসুবিধা মাথায় রাখা হচ্ছে বুদ্ধিমানদের কাজ।’

ইতিহাস বলে, দিল্লীর সাথে ঢাকার খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিলোনা। আমাদের ঈশাখারা দিল্লীর আকবরদের সাথে সবসময় লড়াই করে গেছেন। সেই লড়াই এর মাত্রা এবং ধরন পরিবর্তন হয়েছে মাঝে মাঝে। কিন্তু একবারেই শেষ হয়ে গেছে সেরকম আমাদের কাছে মনে হচ্ছেনা। আমরা আবারো দুখিঃত এই বিষয়টি আপনাকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য, কারন আজকে যে আপনি আমাদের অতিথি।

আপনাকে আশ্বস্থ করতে চাই, পূর্ব পূরুষরা অনেক রক্ত, ঘাম, শ্রমের বিনিময়ে যে দেশ আমাদের দিয়ে গেছেন তা সূখী সমৃদ্ধ বিশ্ব দরবারে মথা উচূ করা একটি দেশে পরিনত হবেই ইনশাআল্লাহ।