ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 
10_BNP+Office_Gulshan_050115_0005

ট্রাক চাপা কিংবা বালু অথবা ইট চাপা দেওয়ার জন্য নহে, বিএনপিকে ধানের শীষের পরিবর্তে ট্রাক প্রতীক গ্রহনে বাধ্য করার জন্য খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে সরকার বারবার ট্রাক অনিয়া রাখিতেছে। প্রতিবেশী নেতা অমিত শাহ’র টেলিফোন নষ্ট থাকায় এই বিষয়টি এতদিন জানা যায়নি। টেলিফোন সচল হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে ট্রাক সংস্কৃতি চালু হওয়ার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।
প্রতিবেশি এই নেতা সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের বিনামূল্যে সার বিতরন করায় দেশে ধানের উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পাইয়াছে, এখন দশটাকা কেজিতে চাল বিক্রি হওয়াতে বিএনপি ’ধানের শীষ’কে আর তাদের প্রতীক হিসেবে রাখিতে চাচ্ছেনা। তাছাড়া তরুণ সমাজ ফার্ষ্টফুডে আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের কাছে ধান কিংবা চালের আবেদন আগের মত নাই। নানামুখী টানাপোড়েনে দশম সংসদ নির্বাচনে যুৎসই কোন প্রতীক পছন্দ করিতে না পারায় বিএনপি তত্ববধায়ক সরকারের অজুহাতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে নাই। এতে ভোটাররা কেন্দ্রে না আসায় আওয়ামী লীগ দশম নির্বাচনকে শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার নির্বাচনই মনে করে।

আ্ওয়ামী লীগের হাতে গোয়েন্দ তথ্য আছে যে প্রতীক পছন্দ করতে না পরলে বিএনপি ভবিষ্যতেও কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করিবে না। আওয়ামী লীগ নিজেরা যেহেতু পানির বাহন ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে সেহেতু দেশে একই ধরনের অভিন্ন মুল্যবোধের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করার জন্য বিএনপিকে সড়ক পথের বাহন ‘ট্রাক’ প্রতীক গ্রহনে বাধ্য করিতে চাহিতেছে। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ট্রাক প্রতীক গ্রহনে বাধ্য হইলে আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশ- বিদেশে বুঝানো সক্ষম হইবে যে, এই দলটি দাঙ্গ- হাঙ্গামা প্রিয় ঘাতকদের দল, সেইজন্য তারা ঘাতক ‘ট্রাক’কে নির্বাচনের প্রতীক হিসেবে পছন্দ করিয়াছে।

সরকারের এই ইচ্ছার বিষয়টি ২০১৩ সালের ২৯ডিসেম্বর খালেদার বাসার সামনে ট্রাক স্থাপন করিয়া বিএনপিকে জানাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। নতুন করে নির্বাচনের দাবি উঠায় সরকারও পুরানো ছক বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান লইয়াছে। সরকারের তৎপরতা উপলদ্ধি করিয়া সংঘাত এড়ানোর জন্য বিএনপির একাংশ ট্রাক প্রতীক গ্রহনের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা শুরু করিয়াছে। এই অংশের মতে, সরকারের এই উদেশ্য বাস্তবায়ন হলেও বিএনপির তেমন ক্ষতি হইবে না। কারন প্রতিদিন ট্রাক চাপায় এখানে সেখানে মানুষ মারা গেলেও দেশে এর তেমন কোন প্রতিবাদ হয়না, এতে স্পষ্ট যে ট্রাকের অনেক জনপ্রিয়তা রহিয়াছে। তাছাড়া পদ্মা সেতু চালু হলে দেশে ট্রাকের চলাচল আরো বৃদ্ধি পাইবে। পাশাপাশি ট্রানজিট চালু থাকায় প্রতিবেশী দেশের বিশাল বিশাল ট্রাক দেশের এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অপর প্রান্ত দিয়ে বাহির হয়, বিএনপি ট্রাক প্রতীক গ্রহন করিলে প্রতিবেশী দেশও খুশি হইবে।

তবে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কোন ক্রমে সরকারের এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হইতে দিবে না বলে সিদ্ধান্ত লইয়াছে। সেজন্য মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হইয়াছে অবরোধ কর্মসূচীতে যত বেশি সম্ভব ট্রাক পোড়ানোর জন্য। এছাড়াও দলীয় মুখপাত্রকে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে, “বিএনপিকে ‘ট্রাক মার্কা’ নির্বাচন করতে বাধ্য করিতে চাহিতেছে” জাতীয় বিবৃতি দিয়ে দেশ এবং বিশ্ববাসীর সামনে সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেওয়ার জন্য।