ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দেশের গত কয়েক মাসের আলোচিত ঘটনাগুলো হচ্ছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ, সাগর- রুনি হত্যাকাণ্ড, সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএস ও রেল জেনারেল ম্যানেজার ইউসুফ মৃধার টাকাসহ হাতে নাতে ধরা খাওয়া আর বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম হওয়া অথবা নিখোঁজ হওয়া…………..

বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ এবং রেলওয়ের ঘটনায় কম বেশি শাস্তি পেয়েছেন দুই মন্ত্রী আবুল হোসেন ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। এই দুইজন শাস্তি পেয়েছেন কারন তারা দূর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন অথবা ব্যর্থ হয়েছেন দূর্নীতি রোধ করতে এমন অভিযোগে।

দুর্নীতির সাথে এই দুই মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখনো আদালত অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রমাণিত হয়নি। তাই ধরে নিচ্ছি মন্ত্রীদ্বয় তাদের অধীনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন সেজন্য তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

কিন্তু অপর দুটি ঘটনায় ব্যর্থতার জন্য কারো শাস্তি হয়েছে এমন খবর এখনো পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সময় সাগর- রুনি হত্যা ও ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা নিয়ে এখনো মাঝে মাঝে কথা বলেন। তারা বলেন, ঘটনা দুটির রহস্য উম্মেচনের চেষ্টা চলছে।

কিন্তু তারা যে ব্যর্থ এই সত্যটি স্বীকার করে কেউ দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। তবে পুলিশ আদালতে স্বীকার করেছে সাগর- রুনি’র হত্যা রহস্য উদঘাটনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পুলিশ ব্যর্থ হলে তাদের কি শাস্তি হবেনা…..?

অপরাধের তথ্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশের শাস্তির আইনটি কি তা আমার জানা নেই। যেহেতু আদালতে ব্যর্থতা স্বীকার করার পরও কোন পুলিশের শাস্তি হয়নি তাহলে ধরে নিতে হচ্ছে শাস্তির কোন বিধান নেই। এটা মনে করার কারন হচ্ছে, যে আদালত পুলিশকে সাগর রুনীর খুনীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলো সে আদালতে ব্যর্থতা স্বীকার করার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি পেতে হয়নি।

সাধারন ধারনা অনুযায়ী পুলিশ রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত জনগনের সেবক। তারা দেশের মানুষকে নিরাপত্তা সেবা দেবে। অথবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পুলিশ যে সাগর রুনির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি তা তাদেরকে খুন হয়ে প্রমান করতে হয়েছে। একই ভাবে প্রতিদিন রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের আনাচে কানাচে অনেক মানুষ খুন হয়ে প্রমান করছে তাদের নিরাপত্তাও পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

যে দায়িত্বের জন্য পুলিশকে নিয়োগ করা হয় সেই দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাদের শাস্তি হবেনা কেন? দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি পেতে হবে এই বিষয়টা নিশ্চিত হলে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালনে আরো মনেযোগী হতে বাধ্য হবে।

জনগনের জানমালের নিরাপত্তা একটা ব্যাপক বিষয়। মানব সভ্যতা কোন কালেই অপরাধ বিহীন ছিলনা, ভবিষ্যতেও হয়ত থাকবেনা। উন্নত দেশেও অপরাধ সংগঠিত হয়। তবে সেগুলোর ধরন আমাদের থেকে ভিন্নতর। কিন্তু যারা অপরাধ করে তাদের ধরা হয় এবং শাস্তিটাও নিশ্চিত হয়। সেজন্য অপরাধীরা যেমন বেপরোয়া হওয়ার সুযোগ পায়না তেমনি জনগন ও অনেকটা আশ্বস্ত থাকে।

আজ হোক কাল হোক সাগর-রুনীর হত্যাকারীরা চিহ্নিত হবে, এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কারন প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এটা হতে বাধ্য। অন্যায় করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ প্রকৃতি আমাদের জন্য রাখেননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুনের বিচার হওয়া এটার সবচেয়ে বড় প্রমান।

যারা সাগর-রুনীর খুনীদের ধরছেনা অথবা ধরার চেষ্টা করছেনা প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী তারা কিন্তু পরোক্ষভাবে এই খুনের দায়ভার নিজেদের কাধে তুলে নিচ্ছে। কার হাতে সাংবাদিক দম্পতি খুন হয়েছে এটা নিশ্চিত হতে না পারলেও অচিরেই হয়ত সেই সব খুনী অথবা খুনীদের সহযোগীদের চিহ্নিত করা যাবে। যারা খুনীদের ধরবে না তারাই তো সহযোগী। আর এই সহযোগীদের সূত্র ধরে খুনীদের হয়ত চিহ্নিত করা সহজ হবে।