ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি)’র শরনার্থী বিষয়ক সম্মেলনে উত্থাপন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। ধারনা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা শরনার্থী সমস্যাটি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে ।

প্রায় দুই যুগ ধরে চলা রোহিঙ্গা শরনার্থী সমস্যা সমাধানে এখন কার্যত অচলাবস্থা চলছে। কক্সবাজারের দুটি আন্তর্জাতিক শরনার্থী শিবিরে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা এখন বসবাস করছে। এইসব শরনার্থী ১৯৯১-৯২ সালে প্রবেশ করা দুই ল শরনার্থীর অংশ। এই ছাড়াও আরো কিছু রোহিঙ্গা অবস্থান করছে টেকনাফের একটি স্থানীয় শরনার্থী শিবিরে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরনার্থী দেশে ফেরত গেলেও সর্বশেষ বিশ হাজারের মত শরনার্থীকে নানা অজুহাতে ফেরত নেয়নি মায়ানমার। গত এক দশকেরও বেশি সময় এইসব শরনার্থী বসবাস করে আসছে শিবিরে।

এইসব শরনার্থীদের কারনে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে কক্সবাজার অঞ্চলে। শিবিরের আশপাশের বনভূমি, পাহাড় এইসব প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে শরনার্থীদের হাতে। তাছাড়া মাদক ও মানুষ পাচারের মত ঘটনাও ঘটছে শরনার্থীদের দ্বারা। বলতে গেলে এইসব শরনার্থীরা বড় ধরনের বোঝায় পরিনত হয়েছে বাংলাদেশের জন্য।

নানা দেন দরবার বিশেষ করে দ্বিপাকি আলোচনায় কোন সমাধান না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত ওআইসির শরনাপন্ন হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এখন দেখার বিষয় সমাধানের কি উদ্যোগ নেয় ওআইসি। অবশ্য মায়ানমার ওআইসির সদস্য না হওয়াতে বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেব্যাপারে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

ওআইসি আন্তরিক হলে জাতিসংঘসহ অনান্য বিশ্ব ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে ব্যাপাক ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুজে পাওয়া যেতে পারে। আর বাংলাদেশ যদি ওআইসি অথবা অন্য কোন ফোরামকে সাথে পায় তাহলে শরনার্থীদে’র ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার হয়তো বাধ্য হবে।

ওআইসিতে রোহিঙ্গা ইস্যূ উথাপন সময়োপযোগী হয়েছে আরো একটি কারনে আর তা হচ্ছে,মায়ানমার এখন কিছুটা হলেও গনতন্ত্রের পথে হাটা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের গৃহবন্দিত্ব শেষ করে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সূচী পার্লামেন্টে গেছেন। গনমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই এ সূচী ইতোমধ্যে প্রতীকে পরিনত হয়েছেন। তাই আশা করা যাচ্ছে সেখানকার অন্য অনেক জনগোষ্টির সাথে রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যও কাজ করবেন তিনি।

দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন আর দমবদ্ধ পরিবেশের কারনে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের মত আরো কয়েকটি জাতিগোষ্ঠী আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকারের সংগ্রামে লিপ্ত ছিল। যার কারনে দেশটির শরনার্থী সমস্যা ছিল থাইল্যান্ড ও লাওস সীমান্তেও । কিন্তু নৃতাত্বিক কারন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অব্যাহত তৎপরতায় মায়ানমার সেসব সমস্যা নিরসনে খুব বেশি এক গুয়েমী দেখায়নি।

ধর্মীয় কারন এবং মূল জনগোষ্টির সাথে নৃতাত্বিক পার্থক্য থকায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে খুব বেশি আন্তরিক নয় মায়ানমার। কিন্তু গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে সেখানকার মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরে আসার সাথে সাথে রোহিঙ্গারাও তাদের ভিটে মাটিতে ফিরে যেতে পারবে সে সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।

যেহেতু বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তাই এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ওআইসিতে সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করে বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে হয়তো অচিরে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।