ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সব কিছুর শেষ আছে, কিন্তু আমাদের সংঘাত সংঘর্ষের রাজনীতির শেষ দেখতে না পেয়ে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। কারন বিগত ওয়ান ইলেভেনের পর ধারনা তৈরী হয়েছিলো, একজন ব্যবসায়ীকে ধরলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের বারোটা বাজবে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের ধরলে কিছু হবেনা।

তখন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল জলিলের কাদো কাদো মুখে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আর দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের স্ট্রেচারে শুয়ে নির্বাসনে যাওয়াতে মনে হয়েছিলো আসলে এদেশের রাজনীতিবিদরা কতো অসহায়…!?

‌‌’ওয়ান ইলেভেনের শিক্ষা’ বলে রাজনীতিতে একটা কথাও এরমধ্যে চালু হয়েছে। বুদ্ধিজীবী সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে আমজনতা পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের সমানে নসিহত করে যাচ্ছেন ওয়ান ইলেভেনের শিক্ষায় সহনশীলতা আর সহমতের চর্চা করার জন্য। কিস্তু কে শুনে কার কথা।

ইলিয়াস আলী গুম হওয়া ও ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি জোটের শীর্ষ ৩৪ জন নেতা এক সাথে জেলে যাওয়াতে আবারো প্রমান হয়েছে রাজনীতিবিদদের সহজে খাচায় পুড়ে রাখা যায়। ওয়ান ইলেভেনের এই ধারনা বারবার স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠলেও দেখা যাচ্ছে এই শিক্ষায় কেউ শিক্ষিত হননি।

কুকুরের লেজের মতো আবারো একই অবস্থানে আমাদের রাজনীতিবিদরা। মতায় থাকা রাজনীতিবিদরা আছেন বিরোধী দলকে সাইজ করার তালে আর বিরোধীরা আছেন প্রতিবাদের নামে হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে জনগনকে সাইজ করার তালে। অবশ্য বিদ্যুত সংকট, আর শেয়ার বাজারে লুটপাটের মত ঘটনাগুলোতে অন্যভাবেও জনগন সাইজ হচ্ছে সরকারের হাতে।

১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সফলতার পর আশায় বুক বেধে ছিলাম এবার হয়তো রাজনৈতিক অস্থিরতার যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে আসছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। রাস্তায় হরতাল, জ্বালাও পোড়াও থেকে রেহাই পাচ্ছি আমরা। কিন্তু এর মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে দুই দশক। রেহায় মেলেনি এসব থেকে।

ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে পেছনে ২০০৭ এ অন্ধকার গ্রাস করেছিলো আমাদেরকে। যাহোক শেষ পর্যন্ত সে অন্ধকারও কেটেছে। আবারো নিয়মতান্ত্রিক সরকার, নির্বাচিত সরকার।

কিন্তু আবারো অন্ধকার,দমন পীড়ন আর জ্বালাও পোড়াও এর চক্রে আমরা। আমরা কেবল অন্ধকারের পর অন্ধকারই পাচ্ছি। অথচ অন্ধকারের পর অন্ধকার নয়, আলো আসার কথা। প্রকৃতির এই চিরাচরিত নিয়মও কি আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়?

এই অন্ধকার আসছে তাদের হাত ধরে যাদের নামে আমরা দিনে রাতে শ্লোগান দিচ্ছি। যাদের নামে আমরা আমাদের ভূত ভবিষ্যত বাজি ধরি সেই রাজনীতিবিদরাই আমাদেরকে বারবার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্ধকারের সময় এই রাজনীতিবিদরা যখন সর্বস্ব খুইয়ে গর্তে লুকিয়ে থাকেন তখন আমরাই আবার তাদেরকে উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করি। অন্ধকার ঠেলে যখন আলোর প্রতিক্ষায় থাকি তখন সেই রাজনীতিবিদরাই আমাদের কথা ভুলে যান, এটাকেই হয়তো বলে দুর্ভাগ্য।

এই দুর্ভাগ্যের কানা গলি দিয়ে ওয়ান ইলেভেন চক্র বারবার হানা দেয়। অথচ আমাদের ভূত ভবিষ্যত গিলে খাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ’ওয়ান ইলেভেন চক্র’ এবং তাদের সামনে আসার সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত রাজনীতিবিদের বিচার করার কথা আমরা কেউ আর বলিনা।

৩৫ বছর আগের ঘটনার বিচার যেমন এই দেশে হয়েছে, তেমনি ৪০ বছর আগের অপরাধের বিচারও হচ্ছে । ‘বিচার করার অভ্যাস’ তৈরী হওয়া এই জাতির সামনে একদিন হয়ত বিচারের ইস্যু হবে “ওয়ান ইলেভেন”।