ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 
20110504PHT18680_original

ছবিসূত্র: http://www.europarl.europa.eu

সাগর-উপকূলে অধীর আ্গ্রহে বসে আছে ক্ষুধার্ত আধা-নাঙ্গা আফ্রিকার কালো মানুষেরা। হঠাৎ সাগরে দেখা গেল জাহাজের চিমনির অস্পষ্ট রেখা। সহসা মানুষগুলো শিহরিত হয়ে উঠল। আশান্বিত হয়ে উঠল তাদের চোখ। ধীরে ধীরে তীরের কাছে আসে বিশাল জাহাজ। পড়িমড়ি করে জড়ো হয় মানুষ। এ জাহাজ আর কিছুর নয়, ইউরোপীয় বর্জ্যের। জাহাজ থেকে ডাম্পিং করামাত্র গারবেজে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ, কুকুর,কাক-চিলসহ উচ্ছিষ্টভোগী প্রাণীরা। কাড়াকাড়ি পড়ে যায় মানুষে ও প্রাণীতে, মানুষেরই ফেলে দেয়া বিষাক্ত বর্জ্যে।

একসময় প্রায় সমগ্র আফ্রিকা উপনিবেশ ছিল ইউরোপের। আফ্রিকার সম্পদ শুষে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড প্রভৃতি দেশ। মাটির তলের ও ভূ-উপরিভাগের সম্পদ, দাসকৃত মানুষের শ্রম–সব নিংড়ে নিয়ে ইউরোপ আলোকিত হলেও আফ্রিকাকে করে রেখেছে আঁধারিত। এখনও আফ্রিকার অধিকাংশ খনিজসম্পদের নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের বেনিয়াদের হাতে। শাসকদের সাথে বেনিয়াদের সম্পদ ভাগাভাগির অশুভ আঁতাতে আফ্রিকার অধিকাংশ মানুষ পড়ে আছে মধ্যযুগীয় বাতাবরণে।

আগে আফ্রিকা ছিল ইউরোপীয়দের সম্পদের হান্টিং গ্রাউন্ড, এখন আফ্রিকার অনেক দেশ ইউরোপের ডাম্পিং গ্রাউন্ড। ঘানা, কেনিয়া, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট প্রভৃতি দেশের উপকুল ভাড়া নিয়ে বর্জ্য ফেলছে সভ্য ইউরোপ। ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের ওপাড়ে ভরা হচ্ছে বর্জ্য, খালাস হচ্ছে এপাড়ে। নিজেদের মাটিতে ইউরোপীয়রা ফেলবে না নিজেদেরই খাওয়া কলার খোসাটা পর্যন্ত। কী পবিত্র সভ্যদের মাটি! তাদের এ ডাম্পিং নীতির কারণে আফ্রিকায় বাড়ছে উচ্ছিষ্টভোগী মানুষের সংখ্যা। আফিকার রেস্টুরেন্টগুলো এখন অনেকখানি নির্ভর করে ইউরোপের পরিত্যক্ত আধা-পচা চিকেনরে ওপর।

এই বর্জ্যে কী নেই! গৃহস্থালি, কারখানা, হাসপাতাল, পারমাণবিক স্থাপনা–সব জায়গা থেকে আসছে বর্জ্য। আজকাল ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা ই-বর্জ্য আসছে সবচেয়ে বেশি। আসছে পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক সামগ্রী। এসব নিয়ে রমরমা এখন আফ্রিকার সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেট। পরিবেশবিদ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উদ্বিগ্ন। নতুন নতুন রোগ আর স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে এগুচ্ছে পশ্চাৎপদ আফ্রিকা। আফ্রিকার বাতাসে বিষ, ঘরে বিষ, দোকানে বিষ। বিষ আর বিষ! তথাকথিত সভ্য ও মানবতাবাদী ইউরোপীয়দের এই স্বার্থান্ধতা আর আফ্রিকার শাসকদের অবিমৃশ্যকারিতার মূল্য আফ্রিকাকে দিতেই হবে। হয়তো বেঘোরে মরবে অগণিত মানুষ। কিন্তু সভ্যদের অসভ্যতার মুখোশ উন্মোচিত হবে না কোনদিনই। তারাই থেকে যাবে বিশ্বের মানবতার ধ্বজাধারী।