ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

বিদেশি মিডিয়ায় প্রচারণার পর দেশি মিডিয়ায় মাতামাতি দেখে আজ কাসেম বিন আবুবাকারের শ্রেষ্ঠ রচনা বলে খ্যাত ‘ফুটন্ত গোলাপ’ এর পিডিএফ কপি পড়তে চেষ্টা করলাম। একটি জায়গায় গিয়ে পড়াটা আর টেনে নিতে পারলাম না। এই পাঠের ফলে আমি যা বলব তা অনেককে খুশি করবে না জানি। তবু সত্যের খাতিরে বলতেই হচ্ছে।

কাহিনী আর গল্প মাত্রই সাহিত্য নয়। আধুনিককালে কাহিনী বা প্লট ছাড়াই মহৎ সাহিত্য হচ্ছে। কাসেম বিন আবু বাকার কাহিনীর বর্ণণাকারী। বর্ণণারীতিতে সমকালীন ভাষা ও শিল্পরীতির অনুগামী নন। সিনেমাটিক কাহিনীর বয়ানে ডেকোরাম, সাবলিমিটি কিছুই মানেননি। তার পাত্রপাত্রীদের আচরণ পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিহীন।

একবার ভাবুন তো, ভার্সিটিতে ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান হচ্ছে। নায়ক সেখানে খুঁছে তার মানসীকে। শেষে প্রেমনিবেদনের বাহারি গান গেয়ে নায়ক নেকাব উন্মোচন করতে চাইলেন নায়িকার। সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে এরপর আর আমি এগোতে পারি না।

ইসলাম নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যাবে না এটা আমি বলছি না। কিন্তু মানুষের ইসলামপ্রিয়তার সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাতে ইসলামকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাহিত্যে টেনে আনা অন্যায়। মানবসম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামের সীমারেখা সুস্পষ্ট। কোরআনের  রূপরেখা দেওয়া আছে। কাসেম কিন আবুবাকার তার উপন্যাসের শুরুতে “উদখুলু ফিসসিলমি কাআফফা” অর্থাৎ তোমরা ইসলামে পুরোপুরি প্রবৃষ্ট হও—এই আয়াত উল্লেখ করে নিজেই এর বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। এই আয়াত বলার পর নর-নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের দিকে আর যাওয়া যায় না।
আমার মত হচ্ছে হাজারটা কাসেমের সৃষ্টিতে বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারের এতটুকু সমৃদ্ধি আসার সম্ভাবনা নেই। আবার ইসলামেরও কোনো উপকার হবে এমনটাও কল্পনা করা যায় না। বরং ইসলাম সম্পর্কে ভুল বার্তাটিই ছড়াবে। সাহিত্যপাঠ মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ, চিন্তাকে শাণিত এবং চিত্তকে পবিত্র করে। কাসেমের সাহিত্য সুরুচির বাহন হবার যোগ্য নয়।

আমি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একবারে শুরুতেই মায়ের কাছে থাকা বিষাদসিন্ধু-আনোয়ারা-বিষবৃক্ষ জাতীয় রচনা পড়ে ফেলেছিলাম। শুরুতে গুরুপাচ্য গেলার কারণে হুমায়ূন, মিলনও আর মুখে রোচেনি। কাজেই আমার কথা আলাদা। সাধারণ মানুষ কাসেম বিন আবুবাকারেই মন ভরাবে এটাও জানি। তারপরেও বলতে চাই, সাহিত্য নামে যা বিকাবে তা সাহিত্যই হওয়া উচিত। সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মানুষের মনোরঞ্জন এবং পকেট স্ফীত করা কোনটাই হওয়া সমীচীন নয়। এ ধরনের অপসাহিত্যের জঞ্জাল যত কম সৃষ্টি হবে আমাদের ততই মঙ্গল।
হিরো আলমকে নিয়েও দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় হৈ চৈ কম হয়নি। হিরো আলমের শত শত ভিডিও কোটি দর্শক দেখতে পারে কিন্তু তাকে ‘হিরো’ মানলে জাতি হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তি অনুজ্জ্বলই হবে, এটা মনে রাখতে হবে।