ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তুমুল প্রতিবাদের ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক সমাজ, বিরোধীদল ও সরকারি দলের নেতারা এ হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিনিয়ত বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি মানববন্ধন, বিক্ষোভ-সমাবেশ পালন করছে। সবাই অপেক্ষায় আছে কখন ধরা পড়বে নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের পিছনের কুশীলবসহ প্রত্যক্ষ খুনিরা।

আন্দোলন কর্মসূচিতে খুনিদের বিচার দাবির পাশাপাশি নিহত সাগর-রুনির পাঁচ বছরের ছেলে ‌‌‌‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍’মেঘ’ এর প্রসঙ্গ আসলেই কেউ আর চোখে পানি ধরে রাখতে পারছে না। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মেঘ এখন এতিম। যদিও মেঘ এর সেই বোধ এখনো তৈরি হয়নি এতিমের অর্থ বোঝার। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তো একজন এতিম। কারণ ওনার বাবা-মাও নির্মম হত্যার শিকার হয়ে পরকালে।

আশার কথা প্রধানমন্ত্রীর বাবা-মাসহ অন্যদের হত্যার বিচার হয়েছে, খুনিরা ফাঁসিতে ঝুলেছে, বাকি কয়েকজন মৃত্যু পরোয়না নিয়ে দেশান্তরে রয়েছে। আমি আশা করি, অন্য খুনিদের বর্তমান সরকার ফাঁসিতে ঝুলাতে পারবে। একজন এতিম অপর এতিমের কষ্ট তার চেয়ে আর কে ভালো বোঝে। তাই সাগর-রুনির খুনিদের বিচার প্রধানমন্ত্রী করতে পারবেন এ ভরসা রাখতে চাই। তবে এ ব্যাপারে শঙ্কিতও বটে!

কেননা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। বিগত ১১ দিনে খুনিদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ পুলিশ প্রশাসন। এমনকি পুলিশ প্রশাসন এলোমেলো কথা বলছে, যাতে ক্ষোভ বেড়েছে সাংবাদিক সমাজসহ সাধারণ মানুষের মাঝে। মজার ব্যাপার হলো স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু অনেকটা চুপচাপ! সদা হাস্যময় এই আইনজীবির নীরবতার কারণ জানতে চায় দেশের মানুষ।

ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপিয়ে রক্ষা পাবার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী আর কে আছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ মামলার দেখভাল করছেন। ভালো কথা এই প্রথম শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং কোনো মামলা দেখভাল করছেন। তার মানে এ হত্যার খুনিরা ধরা পড়বেই এবং বিচার হবেই।

কিন্তু সিঁদুরে পোড়া গরু মেঘ দেখলেই ভয় পায়। তাই তো সন্দেহ বাড়ছে। কেননা পুঁজিবাজার ধসের পরে তদন্ত কমিটি হয়েছে, কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দোষীদের শাস্তি না হওয়ায় এখনো পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে পারেনি। বরং তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।

পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বৈঠক করে নানা ধরনের ফর্মুলা দিয়েছেন তাতেও কাজ হয়নি। কারণ একটাই অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় না আনা, কেননা তারা প্রভাবশালী। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে তার সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।

তাই ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিষয় নিয়ে সত্যি যদি প্রধানমন্ত্রী তদারকি করে থাকেন, তবে ফের হেরে যাবেন না তো!