ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের পক্ষে কারো বেডরুম পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। আপাত দৃষ্টিতে বাক্যটি সত্য। কারণ বেডরুম পাহারা দেওয়ার মতো সরকারি কর্মচারী তো সরকারের নেই। আবার সরকার বেডরুমে পাহারা দিতে লোকবল নিয়োগ করলেও সবাই তা মেনে নেবেন না।

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন পরও খুনিরা শনাক্ত হয়নি, বিচার তো দূরের কথা! খুনিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এ কথাও তো সত্য। তা হলে সবাই কেনো প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা শুরু করেছেন।

আমার মনে হয়, ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই সত্য ভাষণটি দিয়েছেন তিনি। হয়তো কয়েকদিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বলবেন, এটা একটা কৌশল ছিলো, আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, আপনিও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। তাই বলে আবেগের বহি‍:প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে এমন সত্য বক্তব্য দেবেন না যাতে জনগণের মনে কষ্ট লাগে।

আপনি না বললেও সবাই বোঝে সরকারের পক্ষে কারো বেডরুম পাহারা দেওয়া সম্ভব না। এ ধরনের রসালো উক্তি করে অপরাধকারীদের আড়াল করবেন না। গণমাধ্যমে বেশি লেখালেখির কারণে খুনিরা নাকি আড়ালে চলে গেছে- এ অভিযোগ করেছেন আপনি সংবাদকর্মীদের উপর। এমন অভিযোগ করাটাও কি ঠিক হয়েছে, একবার ভেবে দেখুন! এতোদিন খুনিরা গ্রেপ্তার হলে নিশ্চয় এতো লেখালেখিও হতো না।

এতসব লেখালেখির দায়ভারও তাই আপনার তথা সরকারের উপর বর্তাচ্ছে। তবে বলতে পারেন, জনগণ কী ধৈর্য ধরতে পারে না, তাদের কী কোনো দায়ভার নেই, অবশ্যই তা আছে। আপনি যেমন বলেছেন, মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব গোয়েন্দাদের সাংবাদিকদের নয়। তেমনি আপনার গোয়েন্দাদের কাছেও জিজ্ঞাসা করার দায়িত্ব আপনার, তারা কেনো এতো দিনেও এ হত্যাকাণ্ডের কূলকিনারা করতে পারেনি। আপনার বলিষ্ঠভাবে কেনো শুনতে পেলাম না, খুনিদের বিচার করবোই। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এর উত্তর না পেয়েই অনেকে ভাবতে শুরু করেছে, সত্য ও কৌশলী মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী কি ব্যর্থতাকে আড়াল করতে চাইছেন!

তবে এ ঘটনা কেউ আড়াল করতে চাইলেও সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই। সেই প্রতীক্ষায় সবাই।