ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

প্রিয় দেশবাসী,
সিনেমার নায়কের ভূমিকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেখতে কেমন লাগবে! বাস্তবে সিনেমায় অভিনয় না করেও একদিন আগে (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি নায়কের মতো একটি কাজ করেছেন। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছরেও বেশি সময় পরে। যারা ভুক্তভোগী তারা সবাই জানে, দেশের সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র। সরকারি হাসপাতালে গেলে স্বাস্থ্যসেবা পেতে যেমন গলদঘর্ম হয়, তেমনি বেসরকারি হাসপাতালে গেলে পকেটের টাকার বারোটা বেজে যায়।

যদিও উভয় হাসপাতালে গিয়ে কতটা সেবা পাওয়া সম্ভব হয়, তার বর্ণনা দিলে নাগরিক হিসেবে আমাদের উপরও দায় বর্তাবে। কারণ আমরাই তো আমাদের নেতাদের নির্বাচিত করি, ভালো সেবা পাওয়ার জন্য।

বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকরা সত্য ও সঠিক চিত্র তুলে ধরেন। আর সরকারি সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট সরকারের গুণকীর্তন করে সংবাদ প্রচার করে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট একটি সংবাদ প্রচার করেছে, এটি গুণকীর্তন না স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নায়কোচিত ভূমিকা তুলে ধরার জন্য সেই বিচার আপনারা করবেন।

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আপনি সদর্পে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ গিয়ে মারাত্মক অপরাধের অভিযোগে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) দেওয়ান সোহেল বিল্লাহ এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

কিন্তু আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা কিংবা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে কয়েকদিন পর অপরাধী সোহেল বিল্লাহ মুক্ত হয়ে গেল কিনা সেই খবর কি নেবেন?

তাই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, যদি পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা মনিটরিং করা না হয় তবে একদিনের এই নায়কোচিত ঘটনার জন্য আপনাকে ধিক্কার জানাই।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সরকারের তথ্যবিবরণীটি হুবুহু নিম্মে দেওয়া হলো:

তথ্যবিবরণী নম্বরঃ ৬৬৯
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন
ছয় বছর পড়ে থাকা অচল এক্স-রে মেশিন
স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ছোঁয়ায় সচল হয়ে গেল

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল), ১২ ফাল্গুন (২৪ ফেব্র“য়ারি) :
সচল এক্সরে মেশিন অচল দেখিয়ে ছয় বছর বন্ধ করে রেখেছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) দেওয়ান সোহেল বিল্লাহ।
আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক আকস্মিকভাবে এ কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এক্স-রে মেশিন কক্ষে প্রবেশ করলে কৌশলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ সংযোগের সার্কিট ব্রেকার পরীক্ষা করলে দেখা যায় ইচ্ছাকৃতভাবে কে বা কারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সার্কিট ব্রেকার মেরামত করার পর বিদ্যুৎ আসলে মন্ত্রী এক্স-রে মেশিন চালু করে দেখেন এটি পুরোপুরি সচল এবং কার্যক্ষম। অথচ কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মেশিন নষ্ট বলে ইতঃপূর্বে একটি চিঠিও দেন।

এ ঘটনায় দেওয়ান সোহেল বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে নির্দেশ দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কমপ্লেক্স-এর কাগজপত্র এবং হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু অনিয়মের সন্ধান পান। এর মধ্যে বিনা অনুমতিতে দুই চিকিৎসক এবং দুই কর্মচারীর কয়েকদিন যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এ সময়ে সংসদ সদস্য পারভীন তালুকদার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু তাহের, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ সৈয়দ খায়রুল আনাম, সিভিল সার্জন ডাঃ এ টি এম মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে চিকিৎসকগণ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলে মন্ত্রী সেগুলোর সমাধানের আশ্বাস দেন।

এসময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র ডাঃ শফিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধা, সিভিল সার্জন জিতেন্দ্র চন্দ্র দত্ত এবং পটুয়াখালী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এ বি এম সামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সকালে মন্ত্রী বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউ পরিদর্শন করেন।

তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করে আইসিইউটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি বরিশাল জেলা ডায়াবেটিক হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।

=০=
পরীক্ষিৎ/ফায়জুল/নবী/আব্বাস/২০১২/১৮১৬ ঘণ্টা