ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অর্থ কেলেঙ্কারির দায় থেকে মুক্তি পেতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তুরস্ক থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই তার কাছে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরবেন এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছের কয়েকজন তাকে পদত্যাগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সুরঞ্জিত আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যেদিন পদত্যাগ করবেন তার এক ঘন্টা আগে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরবেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তার কাছের কয়েকজনকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে এ মনোভাব জানিয়েছেন।

কেনো পদত্যাগ?
কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ড্যান্ট এনামুল হক জানিয়েছেন, তারা ওই রাতে মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন। তাই প্রশ্ন উঠেছেন এতো টাকা নিয়ে রাতে কেনো মন্ত্রীর বাসায়? এনামুল ওই গাড়িতেই ছিলেন, এই বিষয়টি প্রথমে সংবাদ মাধ্যমে তেমন প্রচার পায়নি। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জিগাতলায় মন্ত্রীর বাসা অল্প কিছুদূরে।

জনমনে প্রশ্ন, সুরঞ্জিত কী ছাড় পাবে?
না, আওয়ামী লীগও ছাড় দিতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে বিদ্যুত সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সরকার বিব্রত। সামনে ডিসিসি নির্বাচন, তাই অন্য অনেক ঘটনার মতো এটা ধাপাচাপা দিতে রাজি নয় সরকারের নীতি নির্ধারক মহল।

গাড়ী চালক নায়ক না খলনায়ক
গাড়ী চালক আলী আজম নায়কোচিত কাজ করেছেন বলে তার সহকর্মীরা মনে করছেন। অথচ তাকে খলনায়কের ভূমিকায় তুলে ধরার জন্য একটা মহল উঠে পড়ে লেগেছে।

শাস্তি পাচ্ছে ওমর ফারুক এবং ইউসুফ
ইতোমধ্যে এপিএস ওমর ফারুকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, এরপর তার গন্তব্য হবে জেলখানা। আর ইউসুফ আলী মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাকেও হয়তো জেলখানায় যেতে হচ্ছে।

নিজের মন্তব্যে নিজেই ব্রিবত
সালমান এফ রহমানকে নিয়ে দরবেশ ও শুটকির বাজারে বিড়াল, মওদুদ, সাকা, সৈয়দ আবুল হোসেনসহ বিভিন্নজনকে নিয়ে করা নানা মন্তব্যে নিজেই বিব্রত হয়ে মনোকষ্টের কথা সাংবাদিকদের জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেছেন “আজীবন তীর ছুঁড়েছি। এবার তীরবিদ্ধ হয়েছি। এবার তীরের যন্ত্রণা বুঝেছি।”

নতুন উপাধি সুরঞ্জিতের মুকুটে ‌‌’কালো বিড়াল’
মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর রেলওয়ের কালো বিড়াল ধরতে চেয়েছিলেন সুরঞ্জিত। সময়ের ব্যবধানে সেই উপাধি তার মুকুটে জুটেছে।

সাবধান দেশবাসী
এরাই এদেশের রাজনীতির সংস্কারের জন্য উথলে উঠে সুযোগ বুঝে! এরাই আবার সংবিধান প্রণেতা। ভন্ড রাজনৈতিকের উপযুক্ত একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বাবু সেনগুপ্ত।

ভণ্ড রাজনীতিবিদরা কী শিক্ষা নেবে?
দেশবাসীর কাছে আবেদন, যারা রাজনীতিজীবী হয়ে মুখোশ পরে নেতৃত্ব দেওয়ার মতলবে লিপ্ত তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করুন। আর ভন্ড রাজনীতিবিদরাও এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে আশা করি।