ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

তখনও ভারতবর্ষ ভাগ হয় নাই ৷ যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে পায়ে হাটা ৷ দুই কৃপণ তাহাদের সন্তানের জন্য উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর খোঁজে নিজ নিজ গ্রাম হইতে বাহির হইল ৷ একজন পূর্ব আর এক জন পশ্চিম দিক হইতে যাত্রা শুরু করলি ৷ গ্রীষ্ম কাল ৷ বাংলার গ্রাম্য পথ ৷ প্রচন্ড তাপদাহ ৷ দুপর সময় ৷ অশ্বত্থবৃক্ষ ঘেষা একটা পুষ্করণীর নিকট তাহার আসিয়া থামিল৷ দুজনেরই প্রচন্ড খুদা পেয়েছে৷ এক কৃপণের নিকট চল চিরা ৷ ইনি চিরা লইয়া দিঘীর নিকট গেল ৷ গামছা তে চিরা বাধিয়া তাহা দীঘিতে ভিজাইয়া মুখের উপর তুলিল ও চিরা ভিজা জল পান করিতে লাগিল৷ ইহা দেখিয়া ওপর কৃপণ রাগ হইয়া মনে মনে বলিতে লাগিল ‘ বেটা তুই কী কৃপণ, আমার কৃপনতা দেখ এখন”৷ অতপর অপর কৃপণ দীঘির দিকে অগ্রসর হইল ৷ এই কৃপনের কাছে ছিল বাতাসা ৷ ইনি দিঘীতে হাঁটু জলে নামিয়া এক হাতে বাতাসা জলের উপর ধরে অন্য হাতে বাতাসার ছায়া যেখানে পড়িল সেই জল সেবন করতে লাগলো ৷ ইহা দেখিয়া চিরা আলা কৃপনের কপালের ভাঁজ উপরে উঠিল ৷ অতপর তাহারা একে অপরের পরিচয় জানিয়া পরস্পর বিয়াই হইতে রাজি হইল ৷

আজ এই স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমান দুই প্রধান দল তাহাদের রাজনৈতিক কৃপণতা সম্পর্কে ভালভাবেই ওয়াকিবহাল ৷ ভাল হয় যদি তারা সংসদ ছাড়িয়া, এই ঢাকা শহর ছাড়িয়া , বাংলার কোনও এক অশ্বত্থবৃক্ষ ঘেরা পুষ্করণীর পাশে বসিয়া চিরা ও বাতাসা বিনিময় করিয়া একটি সমাধানে আসিয়া আমদের প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামকে রুপময় করিত !!!!