ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

আপনারা হয়তো শুনেছেন মাহফুজুর রহমান আমাদের প্রধান মন্ত্রীকে “বাচাল” বলে অবিহিত করেছেন অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এর পরও কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। যুবলীগের একজন নেতা এমদাদুলের, মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করা, পক্ষান্তরে দুইদিন পরে নিজ থেকে মামলা প্রত্যাহার করাটা কে কিভাবে নিচ্ছেন আমার আসলে জানতে ইচ্ছে হচ্ছে।

মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে কি এমদাদ সাহেব বোঝাতে চাইছেন যে মাহফুজুর রহমান ভুল কোনো কথা বলেননি। যে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তারা সব কিছু করতে প্রস্তুত তাদের এমন আচরণ কতটাই রহস্যজনক?

আমাদের মন্ত্রীদের মধ্যে এলজিআরডি মন্ত্রী আশরফ সাহেব, সাবেক রেল মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, সরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন, সরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আপনারা সবাই মিডিয়ার সামনে প্রতি মুহূর্তে বিরোধীদলকে ধুয়ে ফেলছেন অথচ কোথাকার কোন মাহফুজুর রহমান এসে আপনাদের দলের নেত্রীকে “বাচাল” বলে গেল আর আপনারা আজ নীরব।

আপনাদের নীরব ভূমিকায় কি আমরা ধরে নিব যে আপনারাও মাহফুজুর রহমানের মন্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করছেন?

আমাদের বর্তমান সরকারের মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন করছি একটু জানাবেন কি:

আজ হয়তো মাহফুজুর রহমানের জায়গায় সাধারণ কোনও মানুষ এমন কথা সরকার কি ব্যবস্থা নিত?
মাহফুজুর রহমান কি আসলেই অনেক প্রভাবশালী যার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে কেউই খুলছেন না?
যুবলীগ নেতা এমদাদুল কি স্বেচ্ছায় মামলা প্রত্যাহার করেছেন নাকি তার উপর চাপ ছিল?
অনেক জায়গায় মানুষকে বলতে শুনেছি, সরকারের বর্তমান মনোভাবের কারণে, শরীক দলগুলোও সরকারকে ছেড়ে দিচ্ছে। আমাদের মন্ত্রীরা কি প্রধানমন্ত্রীর সাথে ওরকম কিছু করছেন না তো?

এসব সত্য একদিন অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। তবে আমার মনে হয় মাহফুজুর রহমান আসলেই বর্তমান সরকারের অনেক সেনসিটিভ কিছু জানেন, তা না হলে এমন মন্তব্য হজম করার মত মানুষ আমাদের প্রধান মন্ত্রী নন।

দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের এসব সমস্যার সমাধান দিতে হবে। অথচ সরকার কোনও কিছুই গায়ে লাগাচ্ছে না। নাকি সরকার ভুলে গেছে এই জনগণের ভোটেই আপনাদের নির্বাচিত হতে হবে, নাকি আপনাদের অন্য কোনও পন্থা আছে?