ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

সম্প্রতি এটিএন বাংলা এবং এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন, তা পুনরায় দেশের সকলের মনে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। যেখানে পুরো দেশ আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য জানার জন্য, সেখানে তিনি তার বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে কি ইঙ্গিত দিতে চাইছেন তা কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেননি। তার কথা বলার ধরণ পুরোটাই সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছিল। তাছাড়া দেশজুড়ে চলমান সাংবাদিকদের আন্দোলনে কিন্তু ওনার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। অথচ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানলগুলোর মধ্যে এটিএন গ্রুপের নাম কিন্তু প্রথম সারিতেই আসে। তাছাড়া সাংবাদিক মেহরুন রুনি এটিএন পরিবারেরই সদস্য সে হিসাবে জনাব মাহফুজুর রহমানের নীরব ভূমিকা এই আন্দোলনকে নানাভাবে হতাশ করেছে।

যেদিন থেকে সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে নানান ধরনের কথাও শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যে জনাব মাহফুজর রহমান ছিল আলোচনার শীর্ষে। উপর মহলের চাপে তদন্ত অন্যদিকে ঘোরানোর পরিকল্পনা ছিল প্রথম থেকেই। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ হিসাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক কারণকে বেশি করে তুলে ধরা হয়েছিল। অথচ সাধারণ এই বানানো গল্পের পেছনে যে কতটা রহস্য লুকিয়ে আছে তা মাহফুজুর রহমান তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।

হয়তো, মাহফুজুর রহমান জানেন যে কেউ উনার কিছু করতে পারবে না, তাই এসব মন্তব্য করেছেন। তবে কেন এতদিন পরে? আমরা তো সাগর-রুনির হত্যার ঘটনা প্রায় ভুলই গিয়েছিলাম। অন্যদিকে রুনিকে তিনি যেভাবে কলঙ্কিত করেছেন, তাহলে জীবিত থাক অবস্থায় কেন তিনি রুনিকে বরখাস্ত করলেন না যদি রুনির চারিত্রিক সমস্যা থেকে থাকে? তাহলে অন্তত ওনার কথার কিছু একটা ভিত্তি পাওয়া যেত।
অন্যথায় ব্যক্তিগত জীবনে মাহফুজ সাহেব কতটুকু সমালোচনার উর্ধে যে উনি মৃত মানুষের সমালোচনায় মগ্ন? কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে মাহফুজ সাহেব কতটা নীতিবান আমার জানা নেই।

সাগর কিংবা রুনি আমার কাছে খুব একটা পরিচিত মুখ ছিল না। আমি তাদেরকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না, তা বলে তাদের হত্যার ঘটনা আর দশটা সাধারণ হত্যাকাণ্ডের মত সাজানো হলে মেনে নিতে কষ্ট হবে। আমার মনে হয় মাহফুজুর রহমান একটা বিড়াল খুজে পেয়েছেন যার গলায় ঘন্টাটা পরিয়ে দিলেই উনি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবেন। আমরা তো সকলে আসলেই অনেক বোকা, যে যে নাটক দেখাচ্ছে আমরা দেখে যাচ্ছি, তাই মাহফুজ সাহেবও এবারের নাটকটা ডিরেক্ট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাহফুজ সাহেব বোধ হয় নিজেই একটু বেশি মদ পান করে ফেলেছিলেন, তাই কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেলেছেন তাতেই তার আক্কেল গুড়ুম।

আর উনি যে ভিডিও ফুটেজের কথা বলেছেন, সেসব আজ বানানো সম্ভব। আমি পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্রী, এখন কম্পিউটার গ্রাফিক্স নিয়ে ছোট খাটো কিছু কোর্স করছি। ইচ্ছে আছে মিডিয়া লাইনে ক্যারিয়ার গড়ে তুলব। আমার মনে হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে অবিকল ফুটেজ বানানো সম্ভব। যেমন: একই মানুষের একাধিক চরিত্রে অভিনয়, চেহারা থেকে বয়সের ছাপ সরানো, মেকাপের মাধ্যমে চেহারার পরিবর্তন করা, স্পেশাল সাউন্ড ইফেক্ট ব্যাবহার করে কণ্ঠ ডাবিং করা এবং আরো অনেক কিছু। মাহফুজ সাহেব নিজে কয়েকটি টিভি চ্যনালের মালিক, তিনি আমার চেয়ে অনেক ভাল বলতে পারবেন এ ব্যাপারে। আর এদেশে সেই ফুটেজ দিয়ে নির্দোষকে দোষী প্রমাণ করা কোনো ব্যাপারই না। তাছাড়া রুনির ব্যক্তিগত জীবনে কি ঘটেছে তার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ উনি করেছেন, নিরসন্দেহে তার কোনো না কোনো পূর্ব পরিকল্পিত উদ্দেশ্য রয়েছে। রুনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাহফুজ সাহেব এত কিছু জানেন কী করে? নিশ্চয় উনি রুনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক স্টাডি করেছেন, রুনির মুভমেন্ট চোখে চোখে রেখেছেন। যখন দেখেছেন রুনি তার মুখোশ খুলে দিবেন, তাকে শেষ করে দেয় হল আর সাজানো হল পরকীয়ার লজ্জাজনক কাহিনী।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যাক্তি স্বাধীনতাকে অনেক বড় করে দেখা হয়। আর সেখানে ব্যক্তিগত জীবনের ভিডিও ফুটেজ জনসম্মুখে প্রকাশ করা তো মানবাধিকার লংঘন। এর জন্য কী তার শাস্তি হওয়া উচিত নয় কি? উন্নত দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শাস্তি ভয়াবহ, কিন্তু আমাদের দেশে মানবাধিকর হতাশাজনক তাই আর বেশি কিছু বল্লাম না। বাঘ মেরে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা আর হয় তিন বছরের জেল, আর মানুষ খুনে খুনীর গলাবাজি আজ আমরা দেখছি যা মনে হয় একমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব।

জানি এদের কোনও শাস্তি হবে না, দেশের যত শত আইন তো হল সাধারণ মানুষদের বেকায়দায় আরে হয়রানিতে ফেলার জন্য। উনারা তো হলেন মহামানব, আইনের উর্দ্বে। দেখা যাবে যে ভাবে চার মাস পার হতে চলল, সে ভাবে পার হয়ে যাবে বছরের পর বছর, আমরাও হয়তো ভুলে যাবে সাগর-রুনি বলে কেউ কোনদিন নির্মম ভাবে হত্যার শিকার হয়েছিল।

উদ্দেশ্য ছাড়া এসব কখনো সম্ভব নয়। মাহফুজ সাহেবের কথা থেকে আমার মনে হচ্ছে, নিশ্চয় মাহফুজুর রহমানের কোনো গুপ্তচর রয়েছে যার কিনা নিয়মিত সাগর-রুনির বাসায় আনাগোনা ছিল। শুধু তাই নয় সাগর-রুনির ভাল বন্ধুও বটে যাকে হয়তো সাগর-রুনির সন্তান “মেঘ” অংকেল বলে ডাকতো। যার মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ মাহফুজ সাহেবের হাতে এসেছে। হতে পারে এটা আমার ভুল ধারনা মাত্র, আবার হতে পারে এটাই আসল সত্য। তারপরও প্রতিটা স্টেপে সমীকরণ যেন মিলে যাচ্ছে আর মাহফুজুর রহমানের দিকে সন্দেহ আরোও প্রবল হচ্ছে।

যারা আমার এ ব্লগ পড়ছেন তাদের কি মনে হচ্ছে? আপনার কি আমার সাথে একমত?

একবারও কি জানতে ইচ্ছে করছে না:

** কি সেই উদ্দেশ্য যে মাহফুজ সাহেব রুনির ব্যক্তিগত জীবনকে এতটাই কলঙ্কিত করেছিলেন?
** কি এমন কারণ ছিল যার কারণে রুনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উনি এতটাই স্টাডি করেছেন, রুনিকে চোখে চোখে না রাখলে বা রুনির প্রত্যেকটা স্টেপকে গভীর ভাবে মনিটর না করলে এতো কিছু কি একজন মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব?
** রুনির একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের ভিডিও ফুটেজ উনার কাছে কেন এবং কি ভাবে এলো, বা এসব সংরক্ষণের উদ্দেশ্যই বা কি, তা মাহফুজুর রহমনর কি সকলকে জানান উচিত না?
** মাহফুজ সাহেব কি কোনও আধ্যাতিক ক্ষমতার অধিকারী, যে মন্ত্র বা জ্বীন চালান দিয়ে উনি এটকিছু জেনেছেন?

এসব প্রশ্নের মুধ্যেই লুকিয়ে আছে সাগর-রুনির হত্যার প্রকৃত রহস্য, এসবের উত্তর যে সয়ং মাহফুজ সাহেব দিতে পারেন, উনি উনার বক্তিতায় বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সকল ব্লগারদের বলছি: আসুন আমরা সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তুলি; এটি একটি নিয়ন্ত্রিত এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। প্রকৃত খুনী বেচে যাবে আর শাস্তি চাপিয়ে দেয়া হবে নির্দোষ করো উপর। এটা এ দেশে সম্ভব।

আমার মনে হচ্ছে আমরা সত্যের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি, এমত অবস্থায় আর দেরি করা কী উচিত হবে? মাহফুজ সাহেবের মন্তব্যে উনি অনেক “কিন্তু” রেখে গেছেন তার উত্তর উনিই দিতে পারবেন। এ ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতাই পারে সকল অজানার অবসান ঘটাতে।

সত্য কখনো গোপন থাকে না, সে এতই শক্তিশালী যে নিজের শক্তিতেই বাড়িয়ে আসবে। এটা আমার কথা না, মহান আল্লাহর পবিত্র কুরআনের বাণী।

তাই বলছি সত্য সামনে আসবেই এবং আসতেই হবে।