ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

জনাব শিক্ষামন্ত্রী, লম্বা কোন ভূমিকায় যাবে না, একটু আগে পত্রিকা মারফত আপনার দুটো উক্তি জানতে পারলাম, প্রথম কথাটি বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ছাত্রদের ব্যবহার করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে – আপনার সাথে মোটাদাগে আমি একমত, খুটিনাটি যুক্তিতর্ক পরিহার করলাম – কারণ এ বিষয়টি নিয়ে লিখছি না। লিখছি আপনার অপর কথাটি নিয়ে, আপনি বলেছেন যেসব শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিং বাণিজ্যে নিয়োজিত আছেন, তাঁদের তালিকা করা হচ্ছে। এ রকম বেশ কিছু শিক্ষককে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। বাকিদের সতর্ক করা হয়েছে। কোচিং ব্যবসা যে বন্ধ হবে, তা বলা যাবে না। কারণ, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। তাঁরা যদি ছেলেমেয়েদের বেশি ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পেছনে ছোটেন, তাহলে কড়াকড়ি করেও কোচিং ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না।

জনাব শিক্ষামন্ত্রী, আপনি এই পরিষদের মোটামোটি গ্রহনযোগ্য মন্ত্রীদের একজন, অনেক ক্ষেত্রেই আপনার সাফল্যের কথা বিরোধীরাও অস্বীকার করেন না। তবুও আপনার এই ’কোচিং বন্ধ করা যাবে না’ ধরনের কথা মানতে পারা গেলনা। আপনি কি জনগণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই প্রশ্নগুলোর সদুত্তর দিতে পারবেন?

১. যুগ যুগ ধরে ক্লাশ সেভেনে বীজগণিত শুরু করে যদি জেনারেশনের পর জেনারেশন বাংলাদেশীরা গণিতজ্ঞ, প্রকৌশলী হতে পারে এখন তা ক্লাশ সিক্সে আনা কেন প্রয়োজন হয়ে পড়লো? তারা কি এক বছর আগে শুরু করে আইনস্টাইন হয়ে যাবে?

২. যুগ যুগ ধরে ক্লাশ থ্রীতে প্রথম ইংরেজি বর্ণমালা শিখে যদি আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী জেনারেশনের (আপনিসহ) যার দরকার প্রয়োজন মাফিক ইংরেজি ভাষাজ্ঞান আয়ত্ব করে নিয়ে থাকতে পারি, এখন কেন ক্লাশ ওয়ানের ছাত্রদের ট্রান্সলেশন করতে হচ্ছে? এরা কি সেক্সপিয়ার হবে বড় হয়ে?

৩. ৫ম, ৮ম, ১০ম, ১২শ – চার চারটা পাবলিক পরীক্ষার যন্ত্রনায় যে শিশু-কিশোরদের ফেললেন এর মধ্যে আপনার সমীক্ষা কী বলে, কোন দীর্ঘমেয়াদী সুফল কী দেশ পেতে যাচ্ছে? অন্য উন্নত দেশগুলোয় কলেজে যাবার আগে কয়টা পাবলিক পরীক্ষা হয় বলতে পারেন মন্ত্রী?

৪. পশু-পাখির কষ্টে দূরে থাক মানুষের কষ্টেও এখনকার শিশুকিশোরদের খুব কম সংখ্যকের চোখে পানি আসতে দেখা যায়; কেন বলুনতো? ফিজিক্স কেমিস্ট্রি অ্যালজেব্রা কম্পিউটার সায়েন্স পড়িয়ে জানোয়ার বানিয়ে লাভ কী জনা্ব মন্ত্রী? মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে মানুষ বানান আগে। প্রাইমারীতে এত এত বিশাল বিশাল সাবজেক্টের বোঝা কমিয়ে দিন, শুধু মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে থাকুন – কোন অভিভাবক আর কোচিং সেন্টারে যাবে না। আপনি ভাবছেন কোচিং সেন্টারে গেলে অভিভাবকেরা পয়সা পায়? আরামে এসির বাতাস খায়? জ্বি না জনা্ব, কঠোর রোদে ঘন্টার ঘন্টার পর অভিভাবদের রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে দেখি প্রতিদিন – মাসে মাসে ফী-এর টাকাতো আছেই? কেন এই কষ্ট অভিভাবকরা করছেন – আমাদের অথর্ব শিক্ষা ব্যবস্থার অনাবশ্যক চাপ সামলাতেই তারা এই কঠিন পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন, এটা যত দ্রুত বুঝবেন ততই আপনি সফল মন্ত্রী হবেন, অন্যথায় স্থান হবে ইতিহাসের অচল সামগ্রীর বস্তায়।