ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

প্রাণহীন কোন যন্ত্র বা বস্তুর গতিশীল অবস্থাকে নিয়ন্ত্রন সম্ভব । এমনকি অনেক অসম্ভব চলাচলকেও পৃথিবীর মানুষ স্থির করতে সক্ষম হয়েছে।নদীর এলোমেলো তরঙ্গ ছাড়াও অবিরাম বয়ে চলা সময়কেও এ পৃথিবীর মানুষ বেঁধে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে।কোন কোন ক্ষেত্রে তারা সফলও।

কিন্তু আমার মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত শক্তি দিয়েও কল্পনার সাগরে মানুষের মনের অবাধ বিচরণকে স্থির করা সম্ভব নয়।জন্মের পর থেকে মৃত্যু অবধি পর্যন্ত মানুষ কল্পনার মাঝে বেঁচে থাকে।কারণ মানুষ্য মতিষ্কের শুধুমাত্র একটি চিন্তায় স্থির থাকার সর্বোচ্চ সময়সীমা হল মাত্র সাত সেকেন্ড।আর তাই মানুষ একের পর এক চিন্তা, একের পর এক স্বপ্ন কল্পনা করতে থাকে।

অবিরাম কল্পনা বা চিন্তায় গতিশীল মানুষের এই মন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। প্রকৃতি মনকে পরিবর্তিত হতে বাধ্য করে। তাছাড়াও বেশিরভাগ মানুষই বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রলূব্ধ হওয়ার কারণে ভালমন্দের বিভেদ উপলদ্ধি করতে পারে না।

মানুষ প্রতিনিয়তই প্রলুব্ধ, প্ররোচিত, প্রভাবিত বা প্রলোভিত হয়। আর এটা ঘটে থাকে মানুষের পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে।মানুষের পঞ্চইন্দ্রিয় হল চোখ, কান, নাক, মুখ আর ত্বক।কেউ চোখের মাধ্যমে এমন কিছু দৃশ্য দেখল যা দেখে সে প্রভাবিত হতে পারে। সেটা হতে পারে কোন পরঙ্গণা ও তার নরের সাথে কোন অন্তরঙ্গের দৃশ্য। যা দেখে মানুষ নিজেও তার দিকে ধাবিত হতে উৎসাহী হয়। অথবা হতে পারে কোন নিপীড়িত মানুষের অসহায়ত্বের দৃশ্য, যা দেখে মানুষের মন করুণা করতে চাইতে পারে।একই ভাবে অন্যান্য পঞ্চইন্দ্রিয় দ্বারাও মানুষ তার মনের নিয়ন্ত্রন হারাতে পারে। প্রলোভিত হতে পারে কোন আলেয়ার দিকে। আর তাই কাজটি ভাল বা মন্দ যাই হোক না কেন এর প্রতি প্রলুব্ধ হবার পূর্বে নিজের কাছ থেকে জেনে জেনে নেওয়া যেতে পারে-
 আমি কি তাই, আমি যা?
 আমার চাওয়ার পরিসীমা আমি কি জানি?
 আমার সীমাবদ্ধতা কতটুকু?
 আমি কি ভাবি আমার কি করা উচিত?

মানুষ অবশ্যই সফল হবে যদি তার মনের নিয়ন্ত্রন তার হাতে থাকে। ‘মনের সাথে যুদ্ধই বড় জিহাদ’-এটা হাদিসের কথা। মানুষকে প্রলোভিত করতে মানুষ অনেক পন্থা অবলম্বন করে। আমরা চারপাশে এটা দেখতে পাই, কিন্তু বুঝতে পারি না, বোঝার চেষ্টাও করি না।

ক্ষমতা ও পতিপত্তি লাভ পৃথিবীর মানুষের অন্যতম প্রধান আকাংক্ষা। আর তাই প্রতিনিয়তই আমরা অন্যকে প্রভাবিত করতে চাই। আমাদের পন হওয়া উচিত, আমরা প্রভাবিত হতে পারি, তবে কখনই প্রলোভিত হব না।তবে অবশ্যই সেই প্রভাবিতটা হতে হবে ভালকাজমুখিতা ও মন্দকাজবিমুখিতা। আসুন প্রতিটি জিনিসের মধ্যথেকে আমরা ভালটা বের করে আনার চেষ্টা করি। মন্দদিক গুলো ছুঁড়ে ফেলে দিই।আর মন্দ থেকে দূরে থাকতে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রন করি।