ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “সরকারের পক্ষে কারও বেডরুমে গিয়ে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সাগর-রুনি তাদের বাসায় বেডরুমে মারা গেছে। আমরা কী মানুষের বেডরুমে বেডরুমে পুলিশ বসাতে পারব? তাতো পারব না।”

বাংলাদেশে প্রতিদিন অনেক মানুষ খুন হচ্ছে। সরকার কোন মানুষের বাসার বেডরুমেই পুলিশ বসান না। কিন্তু প্রায় খুনেরই সঠিক তদন্ত হয়, খুনিরা ধরা পড়ে। কিন্তু সাগর-রুনির তদন্ত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু খুনিরা ধরা পড়ছে না। এটা আসলেই দুঃখর বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিগত সরকার এর আমলে সাংবাদিকরা খুন হলেও সাংবাদিক ভাইরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেননি। তারা কেন নামেন নি তা তিনি জানেন না । আবার এটাও বলেছেন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল বলে তারা মাঠে নামেননি। আর আজ তিনি ক্ষমতায় আছেন বলে তারা মাঠে নেমেছেন বা নামার সাহস পেয়েছেন।

আমার মনে হয় একমাত্র বাংলাদেশেরই সরকার প্রধানরাই এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন যার সিংহভাগ অংশ জুড়েই থাকে বিরোধীদের প্রতি সমালোচনা। এগুলো বলতে গিয়ে তারা ভুলে জান নিজ নিজ অবস্থানের কথা। আজ সাংবাদিকদের যদি প্রধানমন্ত্রী সাহসই দিয়ে থাকবেন তবে তারা মাঠে নামবেন কেন বা নামতে হবেই বা কেন। তাদের সাহস দেওয়া মানে কি তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া নয়? আর তাই যদি হয় তাহলে সাগর-রুনি খুন হবে কেন?

সাগর-রুণির হত্যাকান্ড আমাদের জাতির জন্য এক বিরাট কলঙ্ক। এর সুষ্ঠু তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েও এখনও কোন সুরহা হয়নি। এটা সত্যিই দুঃখজনক। একজন সাংবাদিক হ্ত্যা- এটা কেন হতে পারে। কি অপরাধ ছিল তার। সাহসী হাতে কলম ধরে সত্য কথা লেখা যাওয়াই কি একজন সাংবাদিকের অপরাধ হতে পারে?

সকল সাংবাদিক ভাইদের সাথে আমরা এক হয়ে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।