ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

এই শতাব্দীর শুরু থেকে ৪৭’র দেশবিভাগের সময়টা বলা যেতে পারে শিল্পকলার প্রস্তুতিকাল।এ সময় চরম পরাবাস্তবতাবাদ,অনুকরণীয় প্রাচ্যবাদ, কার্লমার্ক্সের-লেলিন এর শ্রেণীহীন সমাজতান্ত্রিক আদর্শের একটা ঘেঁষাঘেঁষি দেখা যেত চিন্তা-চেতনা,শিল্প-সাহিত্য আর শিল্পকলায় ।তিরিশের শিল্প সাহিত্যকে নিয়ে প্রচন্ড ঘাঁটাঘাঁটি হয় যাতে মিলেছে এর গৌরবের জায়গা ও ফর্ম সচেতনতা।
স্কেচে স্কেচে ভরিয়ে তুলেছে চল্লিশের দশকের চিত্রশিল্পীরা যাতে মানবতা আর বাস্তবতা জীবন্ত।আগমন ঘটেছে জীবনবাদী জয়নুল আবেদীন,পটু কামরুল হাসানের জল রং,সফিউদ্দিনের তেল,কাঠ, খোদাই কর্মযজ্ঞ,আর আনোয়ারুল হকের মত শিল্পী প্রমুখ।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলা ছোঁয়া পেয়েছে প্রবীণ শিল্পীদের।সাথে সাথে বয়সে তরুণ কিন্তু কর্মে আত্মোত্সর্গকৃত, কাজমনা কিছুর তরুণ শিল্পীরা তাদের প্রকাশ ঘটায় কাজের মধ্য দিয়ে।তন্যেধ্যে যাদের নাম আসে তারা হলেন মোহাম্মদ কিবরিয়া,আমিনুল ইসলাম,দেবদাস চক্রবর্তী,মুর্তজা বশীর,রশীদ চৌধুরী,হামিদুর রহমান,আব্দুর রাজ্জাক,আব্দুল বাসেত,সৈয়দ জাহাঙ্গীর,আব্দুর রউফ,কাইয়ুম চৌধুরী আর নিতাই কুন্ডু প্রমুখ।

সত্তর দশকের প্রেক্ষাপট ছিল সব থেকে ভিন্ন।শিল্পীদের আঁকিয়ে ঢং ছিল একটু প্রতিবাদী স্বরের।চিত্রকলার বিমূর্ত রূপটা মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা, গণমানুষের মুক্তি, স্বাধীনতার ঢামাঢোল,সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সংকটাপূর্ণ মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিষয়বস্তুগুলোকে মুখরতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।এই সময়ের শিল্পীরা “লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি” টাইপের চিন্তাকে ছিঁড়ে ফেলে নিজস্ব ইডিয়ম তৈরীর পথে পা রেখেছিল।চিরায়ত বাস্তবতাকে জাদুঘরের কাচবন্দী করে নতুন বাস্তবতাকে সাদরে গ্রহণ করেছে।আগমন ঘটিয়েছেন লোকজ উৎসের বিমূর্ত বিষয়গুলো।বিমূর্ত শিল্পও যে মূর্ত হয়ে উঠতে পারে ,বিষয়বস্তুর বক্তব্য যে শানিত হয়ে উঠতে পারে।কাদা,মাটি,রং তুলি যে প্রতিবাদীর বড় অ¯্র হতে পারে তার কাজ করছেন হাশেম খান,রফিকুন্নবী(প্রথম কাটুনিস্ট),হামিদুজ্জামান খান,বীরেন সোম,এম.এ.কাউয়ুম,মমিনুল রেজা,শাহাবুদ্দিন,আসেম আনসারী,অলোক রায় প্রমুখ।

আশির দশকের রনজিৎ দাস,মোহাম্মদ ইউনুস,জামাল আহমেদ,ফরিদা জামান,শামীম শিকদার,রাসা,সুলতানুল ইসলাম ,নাসরীন বেগম,কাজী রকিব,নাইমা হক,জি.এস.কবির,ঢালী আল মামুন,শিশির ভট্টাচর্য,নীলুফার জামান তারা সকলেই নিজেদের কাজের স্বাক্ষর রেখেছন তাদের তৈরী শিল্পকর্মে আর চেতনাবাদে।

শিল্পের কোন দেশগন্ডি নেই ,নেই এর কোন সীমানাবেরী। মানবতা,বাস্তবতা,ইতিহাস,ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে এই শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলাবাহুল্য।তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করতে গেলে ঢাকাকেন্দ্রিক ভাস্কর্যের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়।সত্যিকার অর্থে ১৯৬৩ সালে আর্ট কলেজে ভাস্কর্য বিভাগ খোলার আগ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে খুবই সামান্য।এর কারণ অনুমান করা খুব কঠিন নয়। এই শতাব্দীর গোড়া থেকে মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেনী এই অঞ্চলের বিকাশমান শ্রেনী হিসেবে আবির্ভত হয়।ধর্মীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক কারণে যে কোন ধরনের ভিজুয়াল আর্ট বিশেষ করে ভাস্কর্যেও পৃষ্টপোষকাতা পাওয়া এ সময়ে সাহিত্য সহজ ছিল না।বলা যেতে পারে ৪০ এর দশকের শেষ পযর্ন্ত এই প্রবণতা বেশ প্রবলভাবেই বজায় ছিল।

ভাষা আন্দোলন এবং রাজনীতি শিল্পকে নতুন সম্ভাবনার দ্বারে পৌঁছে দিল।ঠিক এমনি সময় এলেন নভেরা আহমেদ।মধ্য৫০তিনি ঢাকায় আসেন ইতিমধ্যে ইউরোপে ভাস্কর্যের উপর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করেছেন।অর্ধদশক ঢাকায় কাজ করেন তিনি এবং ষাটের দশকের গোড়ায় একটি ভাস্কর্য প্রদশর্নী করেন ।আরোর একটু এগিয়ে ঢাকার কেন্দ্রবিন্দতেু উন্মুক্ত ভাস্কয স্থাপন করেন।

বলা যেত পারে এভাবেই এখানে ভাস্কর্য চর্চা শুরু হয়।১৯৬৩ সালে আর্ট কলেজে ভাস্কর্য় বিভাগের গোড়াপত্তন হয়।ততদিনে আর্ট কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী কলেজে উত্তীর্ণ হয়েছে।তবে ভাস্কর্য বিভাগ শুরু হয় সাবসিডিয়ারি বিভাগ হিসেবে।অনেক পড়ে উনিশ একাত্তর সালে বি.এফ.এ এবং ১৯৮৪ সালে এম.এফ.এ চালু হয়।ভাস্কর্য বিভাগের প্রথম শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন ঢাকা আর্ট কলেজের ২য় ব্যাচের ছাত্র আব্দুর রাজ্জাক।তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ড্রয়িং এবং পেইন্টিং বিভাগে।পরে আমেরিকায় তিনি ¯œাাকাত্তর ডিগ্রী এবং ভাস্কর্যের উপর দুই সেমিষ্টার এর একটি গ্রীস্মকালীন কোর্স করেন।শিল্পী নভেরা আহমেদ আগ্রহী হলেও অজ্ঞাত কারণ যোগ দিতে পারেননি।১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ এর চার বছর তিনি ফ্রান্সে ফ্রাঙ্ককো,পেইন্ট্ংি, এবং ভাস্কর্য শিক্ষা লাভ করে এবং দেশে ফিরেন।সাথে ছিলেন ফরাসী স্ত্রী।তখন পাকিস্তান সরকারের আইন ছিল স্বামী বা স্ত্রী বিদেশী হলে সরকারি চাকুরি করা যাবে না।অতএব রশীদ তালুকদার তার চাকুরিটা হারান।আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই ভাস্কর্য শিল্পকে আরো সমুন্নত রাখার জন্য মোড়ে মোড়ে ,হলে হলে আর স্মৃতি বিজরিত জায়গায় এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে ।

আপনাদের গল্প শোনাব ইতিহাসের এক বাস্তব কিংবদন্তী ,জীবন্ত ভাস্কর্যের।যার নাম শিল্পী সমাজ সবার কাছে সুপরিচিত ।একটু খেপাটে,নিগুঢ়,আত্মভোলা,অভিমানী, ঢাকার পিচঢালার রাস্তায় সাইকেল চালাতেন ,নিজেই নিজের গাড়ি চালাতেন সেই মানুষটি হল ভাস্কর শামীম সিকদার।এই ক্ষন্মজন্মা শিল্পীর জন্ম ২২ অক্টোবর,১৯৫৩ সালে বৃহত্তর ফরিদপুরে।

শিক্ষাজীবনে তার কমতি ছিল না ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এফ.এ কোর্স সম্পন্ন করেন।১৯৬৫-৬৭ সালে ঢাকায় বুলবুল একাডেমীর ফাইন আর্টসে ভাস্কর্যের উপর তিন বছরের একটি কোর্সে অংশগ্রহণ করে যা বিখ্যাত ফেঞ্চ ভাস্কর সিভিস্কি তত্তাবধায়ন করেছিলেন ।লন্ডনের স্যার জন স্কুল অফর আর্ট থেকে‘ সার্টিফিকেট অফ কমপিটেন্স’ ডিগ্রী লাভ করেন ১৯৭৬ সালে চায়নাতে বিখ্যাত চাইনিজ ভাস্কর মি: লি সাথে এক বছর কাজে করার পর।কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি যুক্তরাষ্ট,ইতালি,ইন্ডিয়া,সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড ভ্রমণ করে বেরিয়েছেন।দেখে এসেছেন বিশ্ব তার শিল্পকলাকে কেমন করে সমৃদ্ধ করে চলেছে ,ইতিহাসকে কি করে সমুন্নত রাখতে হয় আর ঐতিহ্য কি দিতে পারে একটি জাতির জন্য।

শিক্ষক হিসেবে তিনি ১৯৮০ সালে তার যাত্রা শুরু করেন।তার পরে ১৯৮৬ সালে এ্যাসিট্যান্ট প্রফেসর পদে উন্নীত হন।তারপরে তিনি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ১৯৯৩ সালে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছেন।১৯৯৯ সালে তিনি অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতলাভ করেন।তিনি এককভাবে অনেকগুলো প্রদশর্নী করেছেন তার মধ্যে ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে,১৯৭৬ সালে লন্ডনের দ্যা কমনওয়েলথ ইনষ্টিটিউশনে,১৯৮২ সালে ঢাকার প্যানপ্যাসিফিক হোটেলে,১৯৮২ সালে শিল্পকলা একাডেমীতে(একাডেমী অফ ফাইন আর্টস) উল্লেখ্যযোগ্য।এছাড়া গ্রুপ শো করেন।
ঞযব নধহমষধফবংয ড়নংবৎাবৎ

উধপপধ ঞঁবংফধু ঋবন ১১,১৯৭৫
উৎ.গঁংধভভধৎ অযসবফ পযড়ফিযঁৎু,গরহরংঃবৎ ভড়ৎ বফঁপধঃরড়হ ধহফ উৎ.জধঁহধশঔধযধহ,পযধরৎসধহ ফবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ চ/ঝ,উধপপধ টহরা. ঠ.ঈ ঃধষশরহম ঃড় ংপঁষঢ়ঃড়ৎ ংযধসরস অৎধ ঝরশফবৎ ধভঃবৎ ঃযব রহধঁমঁধৎধষ ভঁহপঃরড়হ ড়ভ যবৎ ভরৎংঃ ধষংড় ংড়ষড়-বীরনরঃরড়হ ড়হ ংপঁষঢ়ঃড়ৎ ধহফ সড়ফবষরহম ড়হ গড়হফধু ধঃ ঃযব পড়ষষবমব ড়ভ অৎঃং ধহফ পৎধভঃং.ঞযব নঁংঃ ড়ভ ইধহমষধফবংয ঝযবরশয গঁলরন রং ংববহ রহ ঃযব ঢ়যড়ঃড়

তিনি অনেকগুলো কাজ করেন তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রতিমূর্তি,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘সোপার্জিত স্বাধীনতা’(১৯৮৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগনাথ হলের স্বামী বিবেকানন্দ (১৯৯৪),স্বাধীনতার সংগ্রাম(১৯৯৯), অ ংবিবঃ ফৎবধসবৎ ংরঃঁধঃবফ ধঃ রহংঃরঃঁঃব ড়ভ ভরহব অৎঃং,উযধশধ ঁহরাবৎংরঃু রহ ১৯৮৩,অ ইরৎফ ড়ভ ঐড়ঢ়বং ধহফ অংঢ়রৎধঃরড়হং ংরঃঁধঃবফ ধঃ ধঃ ঃযব ঈযধৎরঃু ঐড়ংঢ়রঃধষ ড়ভ গড়ঃযবৎ ঞবৎধংধ,ঋরষস এধঃব,উযধশধ রহ ১৯৯৪;ঠরৎমড় ংরঃঁধঃবফ ধঃ ঃযব হধঃরড়হধষ এঁবংঃ যড়ঁংব(চধফসধ) ড়ভ ঃযব এড়াবৎহসবহঃ চবড়ঢ়ষব’ং জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ইধহমষধফবংয রহ ১৯৮২:ঘববফ ড়ভ ঃযব এড়রহম ডড়ৎষফ ধহফ ধ ষড়ঃ ড়ভ ংপঁষঢ়ঃঁৎব ধঃ অহধধিৎ চধংযধ,উযধশধ টহরাবৎংরঃু।

তার এতো কাজের পরও তার সাথে সাক্ষাৎ চলা ফেরা ছিল ভিন্ন নানা মতের মানুষের সাথে।তার খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল আহমদ সফার সাথে তেমনি তার কাছে লেখা একটা চিঠি
অধ্যাপিকা
কামীম আরা শিকদার
ভাস্কর্য শিল্প
চারু ও কলা মহাবিদ্যালয়
শামীম,
তুমি বোধ হয় শুনেছো আমরা একটা সাপ্তাহিক কাগজ বের করেছি।তোমার কাছে দুকপি পাঠালাম।সুলতান ভাই কি তোমর বাসায় আছেন।আজ সকালে জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সাহেব এসে খবর দিলেন।তার কাছে সুলতান ভায়ের পাঁচহাজার টাকা আছে এবং দুখানি ক্যালেন্ডার আছে।আরব-বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ক্যালেন্ডার ছাপিয়েছে।তাদের ছবি ছাপিয়েছে সেজন্য টাকাটা তোমার মেয়েরা কেমন আছে।
প্রীতি শুভেচ্ছা দিও
আহমদ সফা
১২.০৮.৮৪

তিনি তার কাজের জন্য ব্যবহার করতেন সিমেন্ট,ব্রোজ্ঞ,কাঠ,প্যারিসের প্লাস্টার,কাদা,স্টিল এবং গ্লাস ফাইবার এর মতো নানা রকমারি বস্তু।সাথে থাকত তার অক্লান্ত প্রয়াস তার কাজের প্রতি তীব্র মনোযোগ। সাথে থাকে একদল তরুণ উদ্যোমী কাজপ্রিয় কিছু নতুন বা শিক্ষানবিশরা যারা তার কাজকে আরো গতিময় করার জন্য নিজেদের বিলিয়ে দেয় সবকিছু উদার করে।

শামীম সিকদার তার ভাষ্যে ভাস্কর্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন,“আমাদের আবহমান ঐতিহ্যেও বিমূর্ত ধারক ভাস্কর্য শিল্প।এই শিল্প অনাধিকালের হলেও আজও এদেশে নিদারূণভাবে অবহেলিত এবং একটি কূপমন্ডুক গোষ্ঠীর নিকট ঘৃনিত।বিশ্বের সমস্ত বিশ্বেও সমস্ত উন্নত দেশে ভাস্কর্য শিল্পকে শিল্প জগতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়।ফ্রান্স,যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,ইরাক,ইতালিসহ অনেনক দেশে ভাস্করগণ জাতির অহংকার।তারা ভাস্কর্যকে পরম পূজনীয় জ্ঞান করে থাকে।বাংলাদেশে অভিমানী নভেরা আহমেদ সে আধুনিক ভাস্কর্যের উন্নেষ ঘটিয়েছেন।আমি সে ভাস্কর্যে শিল্প ধরে রাখার ক্ষেত্রে আমার চেষ্টায় আমূল বিপ্লব আনতে চাই।আমার ভাস্কর্য দেশে-বিদেশে প্রায় সহ¯্রাধিক। সংরক্ষণের অভাবে আমর নির্মিত দুই শতাধিক মহামূল্যবান ভাস্কর্য বিনষ্ট ও চুরি হয়ে গেছে।সর্বশেষ আমার নির্মিত “স্বাধীনতার সংগ্রাম”(১৯৯৯,৭ মার্চ,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্র্তৃক উদ্বোধন হয়)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর এস.এম হল ও জগন্নাথ হলের সংযোগ মোহনায় সুবিশাল এ ভাস্কর্যটি তৈরী করা হয়েছে যা ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণও বটে।আমি আমার এই বিশাল শিল্পকর্মটির সংরক্ষণে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি।নিরবিচ্ছন্ন মনোযোগে ভাস্কর্য শিল্প সংরক্ষণ বিষয়ক চাঞ্চল্যের কারণে অখন্ডতায় ছেদ পড়েছে।চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যেও এক দিপ্ত অহংকার এই ভাস্কর্যশিল্প।

শামীম সিকদারকে নিয়ে এস.এম সুলতানের একটা চিঠি
শামীম একটি প্রতিভাবান । আমাদের দেশের চিত্র শিল্পীদের অল্প বিস্তর প্রতিভার কথা দেশেবিদেশে পরিচিত,কিন্তু ভাস্কর্যের জগতে এমন বিশেষ কোনো নাম বিদেশে এবং দেশে পরিচিত হতে এখনো সময় লাগিবে।একজন সুদক্ষ ভাস্কর্রের পরিচয় কর্মকে জানায় মাস্টারী যথেষ্ট প্রশংনীয় ,সুদক্ষ ভাস্কযের একটা গুনের প্রশংসা না করে পারি না,সে হল তার অতিরিক্ত পরিশ্রমের গুণ,এটি ভাস্করের মহৎ গুণ।আমদের স্বনামধন্য শামীমের সেগুণ আছে।আমি তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।
শুভাকাঙ্খী
তাকে পড়তে হয়েছে হুমকির মাঝে ধর্মীয় গোড়ামি থেকে বের হয়ে চেতনাবাদী চিন্তাচেতনার কারণে।তেমনি তালেবানরা তাকে একটা চিঠি পাঠায়।নিচে চিঠিটি দেয়া হল:
এই পত্রে উল্লেখিত আল্লাহ ও রাসূল (সা:) নির্দেশিত পথ পবিত্র কোরানের সূরা আহজাব ও নূরের আলোকে না চলিলে আপনার মত দাজ্জাল নারীকে (মুসলিম নামধারী) অত্যাচার ও নির্যাতনের মাধ্যমে দুনিয় থেকে বিদায় দেয়া হবে।সময় দেয়া হল ১৯৯৯ সালে।

সকল মুরতাদদের একই পরিণতি হবে।ইনশাল্লাহ আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দেক।
আমি কমান্ডার
তালেবান বাহিনী

এই ভাস্করের ঘরের এসেছে দেশি বিদেশী অনেক সম্মাননা আর পুরস্কার।১৯৬৯,৭০,৭৩,৭৪ সালে চারুকলা অনুষদ থেকে পুরস্কিত হয়েছেন। মিলেছে চারুকলা অনুষদের সিলভার জুবিলী পুরস্কার ১৯৭৩ সালে।তাছাড়া “চৎরসব সরহরংঃবৎ অধিৎফ ভড়ৎ ংপঁষঢ়ঃঁৎব’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ১৯৭৪ সালে।তার কপালে জুটেছে একুশে পদক ২০০০ সালে ,২০১২ সালে সম্মাননা মিলিয়েছে নিজ জেলা শরিয়তপুর জেলা থেকে।তিনি বেশ কয়েকটা বই বের করেছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ,ঐতিহ্যকে ভাস্কর্যে রুপদানে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।এদেশে অবশ্য প্রেক্ষাপট ভিন্ন এই ইতিহাসের কারিগরদের সেকুলারিটি পুজি করে একদল তাদের অপপ্রচার করে যাচ্ছে হরহামেশ দেশে-বিদেশে।ধর্মান্ধতা যেন এদেশের সেনটমেন্টকে বর্হিবিশ্বের কাছে সত্যিই যায় তার প্রমান তিনি তার ভাস্কর্যে প্রমাণ দিয়েছেন।তিনি নিজেকে ইতিহাস ,ঐতিহ্যে একনিষ্ট সেবক হিসেবেই বিবেনা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।তিনি আশাব্যক্ত করেন আমদের দেশ অরক্ষিত মূল্যবান ভাস্কর্য গুরো যেন সত্যিকার অথের্ই বেচে থাকে ,বলতে গেলে একটি জাতির জাতির পরিচায়ক হিসেবে নিজদের অবস্থান দাড় করেছে এই ভাস্কর্যগুলো।

শফিকুল ইসলাম রাসেল
সাপ্তাহিক রোববার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি