ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

প্রাইভেট টিউশন ছাড়া ছাত্রছাত্রীরা ভাল পাশ করছে না । এযেন টিউশন পড়ার প্রতিযোগিতা, কে কত প্রাইভেট টিউটর বা কোচিং সে তত ভাল রেজাল্ট করবে । কিন্তু আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারে যাদের দুটি সন্তান পড়ালেখা করে এবং সে ব্যক্তির যদি মাসিক আয় পনের হাজার টাকা হয় । শুধু মাত্র প্রতি সন্তানের শিক্ষার পেছেনে তাকে স্কুলের মাসিক বেতন, যাতায়াত, টিফিন খরচ প্রাইভেট টিউটর বা কোচিং বাবত মাসে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সন্তানের পড়ালেখা বলে কথা। প্রিয় সন্তানদের শিক্ষার প্রতিযোগীতায় টিকিয়ে রাখার জন্য মাবাবা তাদর সকল কিছু উজাঢ় করে দিতে পিছিয়ে নেই। অনেক সময় বর্তমান পরিস্থিতির শিকার হয়ে বা প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য তার জীবেনর শেষ সঞ্চয়টুকু প্রিয় সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, বিজ্ঞানী বানাতে নি:শেষ করে দেন। শিক্ষাটা এখন যেন পন্যের মত হয়ে গেছে, যে যত বেশি টাকা খরচ করে বেশি বেশি টিউটর রাখতে পারবে বা কোচিং পড়তে পারবে সেই ভাল রেজাল্ট করতে পারবে। কারণ ক্লাসসে তো পড়ালেখা হয়না।

প্রতিটি ছাত্র ছাত্রী সকাল সাতটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত স্কুল-এ থাকে এবং ক্লাস করে। এই সময় অনেক সময়। যদি শিক্ষকরা উক্ত সময় সততার সহিত ছাত্র ছাত্রীদের পাঠ দানে মনোনিবেশ করেন তাহলে তাদের আলাদা কোচিং এর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। যে শিক্ষকগন ক্লাসএ পড়াতে পারেন না তাহার বেশি টাকার বিনিময়ে কোচিং বা টিউশান পড়ান কিভাবে ? সরকারী স্কুল কলেজের বেতন ভাতা এবং সকল সুযোগসুবিধা গ্রহন করে তার বিনিময় তারা কতটুকু দিয়ে থাকেন ? যেখানে শিক্ষকরা হলেন মানুষ গঢ়ার কারিগর এবং শিক্ষা হলো একটি জাতীর মেরুদন্ড, সেখানে আমরা আজ শিক্ষক সমাজের অবক্ষয় দেখছি। লোভের কাছে তারা আজ পরাভুত। তবে হাই কোটের্ রুল জারির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশান পড়ানো কি বন্ধ করা যাবে, যদি না নিজ থেকে মানসিকতার পরিবতর্ন ঘটানো যায়।

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগ নিলেও শিক্ষক নেতাদের ঘোর বিরোধিতার মুখে তা কার্যকর হয়নি। কোচিং সেন্টারের ব্যাপারে হাইকোর্ট এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ ছিল। শিক্ষকদের যে বেতন-ভাতা দেয়া হয়, তা সামান্য এই অজুহাতে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি বা কোচিংয়ে জড়িয়ে পড়েন।

২০০৮ সালে দেয়া হাই-কোর্টের নির্দেশনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কিন্তু ইচ্ছে করলে এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই কেবল ব্যবস্থা নিতে পারত। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না হওয়ার পেছনে শিক্ষক নেতাদের ভূমিকা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ যদি চান, কোন শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনি বা কোচিং করাতে পারবেন না, তবেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষকই কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনি সাথে জড়িত । ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বা ক্লাসে ঠিকমত পাঠদান না করে এ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন তারা । শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে বাধ্য করছেন কোন কোন শিক্ষক।

অনেকসময় সন্তানকে কোচিংয়ে না দিলে শিক্ষকরা কৌশলে পরীক্ষার খাতার কম নম্বর দেন। শ্রেণীকক্ষে তার প্রতি দুর্ব্যবহার করা হয়। ক্লাসে ঠিকমত পড়াশুনাও হয় না। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতিটি বিষয়ের জন্য সন্তানকে কোচিংয়ে ভর্তি করতে বাধ্য হন।
তাছাড়া বতর্মান শিক্ষমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে যে সকল উদ্দোগ গ্রহন করেছেন তাহা প্রশংসনীয়। তাই টিউশান বন্ধে তিনি একটি স্থায়ী সমাধান করে যাবেন এটা আমাদের প্রত্যাশা। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস ছেড়ে কোচিংয়ে গিয়ে পড়াবেন এটা আমাদের মোটেই কাম্য নয়।