ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

ঢাকাকে যানজটের নগরী বলে কিছুমাত্র অত্যুক্তি হয়না বরং একটু বেশিই সঠিক বলা হয় । যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী এখন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে ঝিমিয়ে পড়েছে । যানজট যত বাড়ছে আমরা ততই এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি । ভাবখানা এমন যেন যানজট ছাড়া নগর সে কখনও হতে পারে ! তারপরও মাঝে মাঝেই যানজট প্রসঙ্গ উঠে আসে খবরের কাগজে । মাঝে মাঝে টিভি টক-শোতে । ঢাকা মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষও মাঝে মাঝে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে । এমনকি মহান সংসদে পর্যন্ত ২/১ বার এই প্রসঙ্গ উঠে জাতির অলস তন্দ্রার ব্যাঘাত ঘটিয়েছে । আর তাই স্কুল-কলেজ আর অফিস-আদালতের টাইম-টেবল নিয়ে কিঞ্চিত নাড়াচাড়া হয়ে গেল । কিন্তু মাগার যানজটের গর্দানখানা বড় বেশি পুরুষ্ট । কিছতেই তার কিছু হয় না । অগত্যা বাধ্য হয়ে মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষ কিছু কিছু রাস্তাকে ভিআইপি সিল লাগিয়ে দিচ্ছে । যেন লক্ষ্মীছাড়া রিক্সাই সব অনিষ্টের মূল । তাই সেসব রাস্তায় রিক্সা চলাচল বন্ধ । কয়েকদিন আগে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা চোখের সামনে ভিআইপি হয়ে গেল । কালকে ভিআইপি খেতাব পেল নীলক্ষেত-নিউমার্কেটের সামনের রাস্তা । এখন হয়ত ঢাকা শহরের সব রাস্তাই মরিয়া হয়ে উঠবে ভিআইপি তকমা লাগাতে ।

সব রাস্তা একদিন একে একে ভিআইপি হয়ে গেলে মন্দ হয় না । কিন্তু নিন্দুকেরা বলে অন্য কথা । তারা বলেন এটা শুধু পুঁজিপতিদের সুবিধার জন্য, তোমার-আমার জন্য নয় । যাদের মার্সিডিজ বেঞ্জ আর হ্যামার আছে তারা যেনে তড়িগড়ি করে চলে যেতে পারে, পুঁচকে রিক্সা যেন তাদের দামি গাড়িতে ঠোকা মেরে না দেয় তার জন্যই এ দাওয়াই । যেহেতু আমাদের নীতি-নির্ধারকরা সবাই পুঁজিপতি তাই তারা এই দাওয়াই গিলাচ্ছেন আমাদের । আমরা জনগন নিরুপায়। তাই মুখ বুজে কেবল গিলে যাচ্ছি ।

যেহেতু আমিও অভাজনদের দলে তাই মেনে নেই তাদের যুক্তি । তাদেরকে সত্যিকারে শত্রু-জ্ঞান করে কিভাবে এ থেকে নিজের গা বাঁচানো যায় তার বিকল্প দাওয়াই খুঁজতে শুরু করি । সেই দাওয়াই দেয়ার আগে পূর্বোক্ত দাওয়াই যে সমস্যা সমাধানে অক্ষম তা একটু বলে নিতে চাই । এতে যদি আমাদের মহান পুঁজিপতি নীতি-নির্ধারকদের গোস্যা থেকে একটু মুক্তি মেলে । তারাও আমার পক্ষে থাকেন, আবার আমাদের সুবিধাটুকুও হয় ।

ছেঁড়া জুতোয় পেরেক ঠুকলে কেবল জুতোই ভারি হয়, জুতোর আয়ূ বাড়ে না । যানজট নিরসনে এমন পেরেক ঠোকাঠুকিও যানজটের কোন সূরাহা করতে পারছে না, বরং সমস্যার গোড়ায় হাত না দেয়ায় সমস্যার গভীরতা ক্রমশই বেড়ে চলছে । ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকছি । হাতে সময় নিয়ে বের হওয়ার পরও সঠিক সময় গন্তব্যে পৌঁছতে পারছি না । মার্সিডিজঅলারাও রেহাই পাচ্ছেন না জ্যাম থেকে । তারাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে থাকেন । পার্থক্য এই টুকু যে তারা জ্যামে বসে এসির বাতাস খেতে পায় আর আমরা বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঘামতে থাকি ।
——————–
চলবে…