ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বাংলাদেশর মানুষ প্রতিদিন কোনো না আলোচিত বিষয় বা ঘটনা-দূর্ঘটনা নিয়ে এতো ব্যস্ত ও উত্তেজিত থাকেন যে, আগের দিনের ঘটনা দ্রুত ভুলে যান কিংবা ফিকে হয়ে আসে চেতনায়; নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে চারিদিকে। এখন যেমন মানুষ তুমুল উত্তেজিত সময় পার করেছন পদ্মা সেতু নিয়ে। মহাঝড় বইছে চারিদকে। এই ঝড় থেমে যেতে খুব বেশী সময় নিবে না। কিন্তু দূর সাগরে হয়তো আরেকটি ঝড় ধেয়ে আসছে, আমাদের জানার পরিধির বাইরে।

অঘটন ঘটন পটিয়শী শাসকশ্রেণী এখানে তাদের নিজেদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতাকে আড়াল করতে নানা ঘটনার জন্ম দেয়, আবার কখনোবা নিজেদের দুষ্কর্মে নানা ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটিয়ে তা’ সামাল দিতে গিয়ে বেসামাল হয়ে পড়ে। এই সময়ে শাসকশ্রেণী তাদেরই দোসর বিশ্বব্যাংকের করা দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে একদিকে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে, আরেকদিকে মান ভাঙ্গাতে দৌড়-ঝাঁপ দেয়া শুরু করেছে। এই প্রভুদের মান ভাঙ্গাতে কতো শত-হাজার লিটার ‘তেল’ ভর্তুকি দিতে হবে কে জানে!

বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের’ ডামাডোলে এই মুহুর্তে যা’ অপেক্ষাকৃতভাবে কম আলোচিত তা হলো’- কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের নামে দেশের সর্বনাশের বিষয়টি। কীর্তিনাশা পদ্মার বুকে সেতু নির্মাণ নিয়ে আমাদের যেমন ভবিষ্যতের শঙ্কা কাজ করছে, সর্বনাশা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ দেশের মানুষকে চরম এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতর মধ্যে ইতোমধ্যেই ফেলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের সংকট আমাদের দেশকে কোন অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করবে- তা’ ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়!!!

রেন্টাল বা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ এর উৎপাদন করতে গিয়ে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি’সহ সামগ্রিক ভর্ভুকির চেহারাটা একজন বিশেষজ্ঞের দেয়া হিসাব থেকে দেখা যাক:

“(১) টেন্ডার না করে ইচ্ছেমতো অবৈধভাবে দরবৃদ্ধির ফলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮০০০ কোটি টাকা। এর ফলে বিউবোর্ড প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১৪.৮০ টাকা দরে ক্রয় করে বিক্রয় করছে গড়ে ৭.৮০ টাকা। এতে বিউবোর্ড-এ ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে বার্ষিক ৮০০০ কোটি টাকা।

(২) টেন্ডার না করে ইচ্ছেমতো পুরনো কেন্দ্র বসানোর ফলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮০০০ কোটি টাকা। যেহেতু জ্বালানি সরবরাহ করছে সরকার এবং এর ফলে সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হচ্ছে বার্ষিক ৮০০০ কোটি টাকা।

(৩) ডিজেল লিটারপ্রতি ৭৩.০০ দরে এবং ফার্নেস অয়েল ৬৯.০০ টাকা দরে ক্রয় করে সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের কাছে যথাক্রমে লিটারপ্রতি ৬১.০০ টাকা ও ৬০.০০ টাকা দরে বিক্রি করার ফলে শুধু জ্বালানির মূল্য বাবদ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১২,০০০ কোটি টাকা।

সুতরাং সঠিক হিসাব করলে বর্তমানে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পদ্ধতিতে যদি ১০০০ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ আসে তাহলে আমরা মোট বার্ষিক ভর্তুকি দিচ্ছি (৮০০০+৮০০০+১২০০০) ২৮,০০০ কোটি টাকা।

…আর উল্টো হিসেবে আমরা যদি অন্তত ন্যায্যমতো টেন্ডার করে যথাযথ দর ও পুরনোর পরিবর্তে নতুন কেন্দ্র বসাতে পারতাম তাহলে কম জ্বালানির ব্যবহার হতো বিধায় ভর্তুকির সর্বাধিক পরিমাণ কিছুতেই ৪,০০০ কোটি টাকার বেশি দাঁড়াত না।”
(তথ্যসূত্র: রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল ধ্বংস করছে অর্থনীতি, বি.ডি. রহমতউল্লাহ্, সাপ্তাহিক, ২৮ জুন, ২০১২)

বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা কমবেশি ৬ হাজার মেগাওয়াট। অথচ স্থায়ী সমাধানে না গিয়ে রেন্টাল বিদ্যুৎ এর মাধ্যমেই অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিলো ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট! যদিও জ্বালানির (ডিজেল ও ফারনেস ওয়েল) অভাবে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর এই ১ হাজার মেগাওয়াটের জন্য বছরে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। যদি চাহিদামতো পুরো তেল সরবরাহ করা যেতো, তাহলে কুইক রেন্টালের উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে ভর্তুকি হতো ৮৪ হাজার কোটি টাকা!!! ‘তহবিল শূণ্য’ সরকার এখন আর তেলের যোগান যথাযথ দিতে পারছে না বলে বার্ষিক গড় ভর্তুকি এখন ২৮ হাজার কোটি টাকা! তেল না পাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেকগুলো ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে আছে। কোন প্রকার উৎপাদন না করলেও এরা অবশ্য ভাড়া ঠিকই পেয়ে যাচ্ছে-চুক্তিমতো! হায়, দরিদ্র দেশের উন্নয়নের নামে এমন আগ্রাসী লুণ্ঠন! …রাজার হস্তে কাঙালের ধন চুরি কাকে বলে!

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ- কেন প্রয়োজন পড়লো?
যেসব দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যেখানে রাষ্ট্র অকার্যকর, এমন দুর্গম অঞ্চল যেখানে রাষ্ট্রের উপস্থিতি বা প্রশাসন যন্ত্র নেই- এমন সব এলাকায় বিপুল ব্যয়বহুল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বসানো হয়।

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রথম চালু করে মার্কিনীরা ভিয়েতনাম যুদ্ধে। এরপর তারা ইরাক ও আফগানিস্তানেও যুদ্ধ পরিচালনার আবশ্যিক জ্বালানি হিসাবে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করে। সাধারণ বিদ্যুৎ কোম্পানীগুলো যখন ঝুঁকিপূর্ণ বা যুদ্বাবস্থা বিরাজমান কোনো স্থানে বিদ্যুৎ স্থাপনা বসাতে অপারগতা প্রকাশ করে তখন মার্কিন মুলুকেরই বড় বড় কিছু কোম্পানী তাদের সাবসিডিয়ারি হিসাবে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানী গঠন করে। এই হলো সংক্ষেপ রেন্টাল বা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ শুরুর কথা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে কী এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো, যার জন্য সরকার এই বিপুল ব্যয়বহুল পথে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গেলো?

আ.লীগ সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছিল, ২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে লোডশেডিং মুক্ত করবে। পূর্ববর্তী বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আ.লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকারে জনগণ আশায় বুক বেঁধেছিলো; এবার বুঝি জ্বালানীর একটা সমাধান হবে। আমাদের গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক স্থায়ী বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে- এমনই স্বপ্ন দেখেছিলো দেশের মানুষ। গ্যাস ও বিদ্যুতের উৎপাদনের সাথে দেশের উন্নয়ন জড়িত- মানুষ সেই উন্নয়নের স্বপ্নই দেখেছিল।

কিন্তু হায়! সেই পুরনো পথে, ভূতের পা’র হাঁটা ধরলো বর্তমান মহাজোট সরকার। এরা ক্ষমতায় এসে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করে, গ্যাস উত্তোলনকে গতিশীল না করে, পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ না করে সহজ পন্থা হিসেবে, স্বল্প সময়ে বিদুৎ দেয়ার নাম করে বেসরকারী খাতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার অনুমতি প্রদান করে। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতে ২৯টি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়, যাদের এই সেক্টরে কোনো প্রকার পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই!!

মহাজোট সরকার নিজেদের ও তাদের দোসর ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ পাশ করে। এই দায়মুক্তির আইনের মাধ্যমে সরকার বিনা টেন্ডারে, ইচ্ছেমতো দরে, যে কাউকে বিদ্যুৎ তৈরির লাইসেন্স দিতে থাকে। এই দায়মুক্তি আইনের মাধ্যেমে এই দুষ্ট চক্রের কোনো দুষ্কর্মের বিচারও করা সম্ভব হবে না।
বিশেষজ্ঞতের অভিমত, পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো (শুধুমাত্র ঘোড়াশালেই) রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন করলে আমরা এখন ১৬০০ মে.ওয়াট বিদ্যুৎ পেতাম, যার ফলে বিপুল ব্যয়বহুল ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাসানোর প্রশ্ন আসতো না।

বিপুল ভর্তুকি দিয়েও বিদ্যুৎ সংকট কাটছে না
বিপুল অংকের টাকা ভর্তুকি দিয়ে ক্ষণস্থায়ী সমাধান করার ফল হচ্ছে- দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের পথে শুরু হলো বাংলাদেশের যাত্রা। ইতোমধ্যে কয়েক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। জুলাই-২০১২ থেকে পাইকারী পর্যায়ে ৩০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৩৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হতে পারে। ক্রমাগতভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে কৃষি, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী, ছোট-বড় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। বিকল্প পদ্ধতিতে জেনারেটর ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা হলেও উৎপাদিত পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুন। এরফলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ভয়াবহ রকমের। মানুষ এখন আর আয়ের সাথে কোনভাবেই ব্যয় সংকুলান করতে পারছে না। বেকার মানুষের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ক্রমাগত ঋনের জালে জড়িয়ে পড়ছে দেশ ও দেশের মানুষ। সবমিলিয়ে এক চরম উৎকণ্ঠা, হতাশা ও অনিশ্চয়তায় মধ্যে আজকের বাংলদেশের মানুষের বসবাস।

রেন্টাল বিদ্যুৎ: কয়েকটি দেশের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা
১৯৮৮ সালে ফিলিপাইনে স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ মার্কোস মার্কিনীদের সহায়তায় ১ বছরের চুক্তিতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বসায়। এরপর পাকিস্তানের দুর্নীতিবাজ সরকার রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলেও পাকিস্তানের বিচার বিভাগ তা’ বন্ধ করে দেয়। শ্রীলঙ্কায় অনাবৃষ্টির ফলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে পরও শ্রীলঙ্কা সরকার রেন্টাল বিদ্যুৎ স্থাপন করেনি। বরং তারা চালু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে, সিস্টেম লস কমিয়ে, লোড ব্যবস্থপনাকে উন্নত করে তাদের বিদুৎ সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান করেছে।

অথচ আমরা হাঁটলাম উল্টোপথে। দেশকে নিয়ে গেলাম এক অনিশ্চয়তার দিকে। পাকিস্তানের মতো নানা সমস্যা জর্জরিতও যুদ্ধপীড়িত রাষ্ট্র যেখানে আদলতের রায়ের মাধ্যমে লুটেরাদের হাত থেকে তাদের বিদ্যুৎখাত রক্ষা করেছে, আমরা সেখানে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ এনে লুটপাটকারীদের বিনাবিচারে লুন্ঠনের পথ আরো সহজতর করে দিলাম। সেলুকাস! বিচিত্র এই দেশ!!!

‘জনতার আদালতে’ কি দায়মুক্তি সম্ভব?
সবকিছুর পর ‘জনতার আদালত’ বলতে একটা আপাত অদৃশ্য আদালত আছে। এই আদালত যখন দৃশ্যমান হয় তখন কোনো লুটেরা-শাসক পার পেয়ে গেছে- ইতিহাস এমন সাক্ষ্য দেয় না। জ্বালানি উপদেষ্টা নিজেকে যতোই ‘দেশপ্রেমিক’ দাবী করুন আর অন্যদের যতোই ‘মূর্খ’, ‘দেশদ্রোহী’ বলুন না কেনো, ভবিষ্যত’ই নির্ধারণ করবে কারা আসলে দেশপ্রেমিক আর কারা দেশদ্রোহী।
আমরা এতোদিন শুনেছি, মাছের পচন ধরে মাথা থেকে, তারপর সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশের “দেশপ্রেমিক” রাজনীতিবিদ ও আমলানির্ভর পুঁজিবাদীদের পচন ধরেছে অনেক আগেই। ‘ফরমালিন’ দিয়ে আপাদমস্তক সংরক্ষিত এই “দেশপ্রেমিক”দের দেখে জনগণের বিভ্রান্তির কিছু নেই। একটু কষ্ট করে আপনার নিজস্ব বিবেক-বিবেচনা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন, এদেরকে বাইরে থেকে এমন তরতাজা দেখালেও ভিতরটা কিন্তু একেবারেই পচে গেছে। ফরমালিন যেমন মানব-দেহের ক্যান্সার’সহ নানা প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে, এই নষ্ট-ভ্রষ্টরাও সমাজদেহে ছড়িয়ে দিচ্ছে নানা প্রাণঘাতী রোগ।

পরিশেষে বলবো, কুইক রেন্টাল বা রেন্টাল বিদ্যুতের নামে হরিলুটের ফলে জ্বালানি সংকট আমাদের দেশের অর্থনীতিকে যেমন এক দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে, এটা যেমন সত্য; আবার এটাও সত্য যে, আমরা নিজেরা যদি নিজেদের সর্বনাশের দিকটা এড়িয়ে যাই, তা’হলে খুব বেশিদিন লাগবে না আমাদের চিরস্থায়ী অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে।