ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

মনীষী আহমদ ছফা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ বুদ্ধিবৃত্তির নুতন বিন্যাস-এর শুরুতেই লিখেছিলেন-

“বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন, শুনলে বাঙলাদেশ স্বাধীন হতো না। এখন যা বলছেন, শুনলে বাঙলাদেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে না।”
ইতিহাসের সচেতন পাঠক হয়তো আমার সাথে একমত হবেন যে, আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শোষণের পরিণতি বিশ্লেষণ এবং জাতিগত নীপিড়ন থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের দিক-নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। একটি দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী, সমাজের নানা ধরণের স্রোত, ঘাত-প্রতিঘাত, ভাঙ্গা-গড়া ইত্যাদি বিষয়ে বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকেই বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যতের গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকে জনগণ। লেখক-বুদ্ধিজীবীদের লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক নানা প্রয়াসের মধ্য দিয়ে রাজনীতির ভবিষ্যত গন্তব্য অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পান জনগণ।

দু:খজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭১ সালের পূর্বে স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে আমাদের বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীগণ ইতিহাস বিশ্লেষণে যেমন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি তাদের কাছ থেকে কোনো দিক-নির্দেশনা না আসায় জনগণের পক্ষে কোনো প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী আ.লীগ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে থেকে ৬ দফার স্বাধীকারের দাবীতে সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। ৭০’-এর নির্বাচনের পর আ.লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানীরা যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চক্রান্ত করছিলো তখনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে থেকেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে ২৫ মার্চ রাত থেকে পাকিস্তানীদের হাতে এদেশের মানুষ ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যার শিকার হয় কোনো প্রকার আগাম সতর্কতা বা পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই। বিচ্ছিন্নভাবে দু’একটি জায়গায় প্রতিরোধের চেষ্টা চললেও তা’ পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও হিংস্র সেনাবাহিনীর হাতে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যায়।

অপরদিকে বামপন্থীরাও রুশ-চীন মহাবিতর্কের মধ্যে নিজেরাই বহু দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। তাত্ত্বিক বিভ্রান্তির ফলে তারা নিজ জাতিসত্ত্বার মুক্তি সংগ্রামের জন্য দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের প্রস্তুতি থেকে নিজেদের দূরে থাকেন। বড়ো অংশটি রুশপন্থী বলে পরিচিত তারা আ.লীগের সাথেই যুক্ত হয়ে যুদ্ধ করে। সিরাজ সিকদার সহ দু’একজন ব্যতিক্রম রাজনৈতিক নেতা বা গ্রুপ পাকিস্তান কাঠামো থেকে বের হওয়ার জন্য পূর্ব থেকেই তাত্ত্বিক ও সশ্রস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই অংশটি তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

সামিগ্রকভাবে যে যুদ্ধ আমাদের দিক থেকে শুরু থেকেই হতে পারতো আক্রমণাত্মক ও পরিকল্পিত এক দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ , তা’ হয়ে হয়ে উঠে আত্মরক্ষামূলক এক যুদ্ধ । এর ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে এই দেশের সাধারণ মানুষের। বিপুল আত্মত্যাগী মানুষগুলো যথাযথ নেতৃত্বের অভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রকৃত মুক্তির সংগ্রামে রূপান্তর করতে পারেনি। মূলত জনগণই তাদের মতো করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং রুখে দাঁড়ায় নিষ্ঠুর পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে। এরপর নয় মাসে নানা ফ্রন্টে জনতার বীরত্বপূর্ণ লড়াই, লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের পরও বেহাত হয়ে যায় মুক্তির সম্ভাবনা। আহমদ ছফার ভাষায় বেহাত বিপ্লব

সমাজ কাঠামো আমূল পরিবর্তনের এমন যুগান্তকারী সময় এবং বিপুল আত্মত্যাগকে কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতার ফল হচ্ছে আজকের এই চরম বৈষম্য ও নৈরাজ্যপূর্ণ বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধেও বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ করতে পারেননি। আহমদ ছফার লিখেছেন:

“স্বাধীনতার শুরু থেকেই বুদ্ধিজীবীরা একজোট হয়ে শেখ মুজিবের অগণতান্ত্রিক একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে যদি রুখে দাঁড়াতেন তাহলে আমাদের জাতিকে এতোটা পথ পশ্চাত প্রত্যাবর্তন করতে হতো না। যে কোনো দেশের বুদ্ধিজীবীরা যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অসম্মত হন সেই দেশটির দুর্দশার অন্ত থাকে না। বাংলাদেশ সেই রকম একটি দুর্দশাগ্রস্থ দেশ। এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উদ্যোগ, কোনো প্রয়াস কোথাও পরিদৃশ্যমান নয়।” (সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, আহমদ ছফা, পৃষ্ঠা-১২, প্রাচ্যবিদ্যা প্রকাশনী)

জিয়াউর রহমানের আমলে দাস বুদ্ধিজীবী কেনাবেচার হাট জমজমাট হয়ে উঠে। বহু ডাকসাইটে ‘বাঙালী জতীয়তাবাদী’ বুদ্ধিজীবী রাতারাতি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে’র ঝান্ডা হাতে নিয়ে হায়দরী হাক দিতে শুরু করে। জেনারেল এরশাদ দাস মনোবৃত্তির কবি-সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের পাইকারী বাজার খুলে বসেছিলো। যথানিয়মে এরশাদের পতনের সাথে সাথে এরাও অদৃশ্য হয়ে যায়। খালেদা-হাসিনার সংসদীয় ব্যবস্থার তল্পিবাহক ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদী’ ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী’ বুদ্ধিজীবীরা এখন অনেকটা লোল-চর্মসার, শারীরিক ও মানসিকভাবে বার্ধক্যগ্রস্থ। চিন্তার বিষবৃক্ষ উৎপাদন শক্তি এদের প্রায় নি:শেষিত। এরা ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ‘হাইব্রিড বিষবৃক্ষ বুদ্ধিজীবী’ উৎপাদনের জন্য। ‘হাইব্রিড বিষবৃক্ষ’ আগাছা হিসাবে কিছুদিন টিকে থাকলেও জনগণ এই আগাছা পরিষ্কার করতে খুব বেশি সময় নিবে বলে মনে হয় না।

১৯৭১-এর পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মূলধারার বুদ্ধিজীবীরা কখনোই সমাজ কাঠামো আমূল পরিবর্তনের কথা বলেননি। বরং তারা প্রগতিশীলতার নামে যে প্রহেলিকার সৃষ্টি করেন, তা’ জনগণকে কেবল বিভ্রান্তই করেছে। ফলে জনগণের প্রকৃত মুক্তি সংগ্রাম অধরাই থেকে গেছে।

গত চল্লিশ বছরে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা নানা প্রহেলিকা বা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বা স্টাব্লিশমেন্টকে যেমন পাকাপোক্ত করেছেন, তেমনি জনতার কাছে ‘সুশীল’ বা ‘ভালো মানুষ’ সেজে জনগণের সাথে প্রতারণা করে চলেছেন সমানতালে। সাপও মরলো লাঠিও ভাঙলো না। এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণী সরকারী-বেসরকারী কনসালটেন্সী, বহুজাতিক কোম্পানীর দেশীয় এজেন্ট, এনজিও’র পরামর্শক অথবা নিজেই এর কর্তা হয়ে পরিপুষ্ট করে যাচ্ছেন নিজেদেরকে। আহমদ ছফার ভাষায়-“…এক কথায় রাষ্ট্রযন্ত্রের এপাশে ওপাশে যে সমস্ত বুদ্ধিজীবীর অবস্থান তাঁরা জাতি এবং সমাজকে কিছু দেন না, বরং গবাদি পশুর গায়ের এটুলি পোকার মতো সমাজের মানুষের রক্তপান করে নিজেরা মোটা তাজা হতে থাকেন।” (প্রাগুক্ত, পৃ-১৪)

এই বর্ণচোরা বুদ্ধিজীবীদের চরিত্র বোঝাটা সাধারণ মানুষের পক্ষে কিছুটা কঠিন বৈকি।

সমাজ পরিবর্তনে বাংলাদেশর বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা খুবই নগণ্য। গত চল্লিশ বছরে শাসক শ্রেণী যে যখন ক্ষমতায় এসেছে, সে তখন বুদ্ধিজীবীদের কেনা বেচার হাটের পণ্যে পরিণত করেছে। বুদ্ধিজীবীরাও নিজেদের মাথা বিক্রি করে দিয়েছে কখনো ‘বুটওয়ালা’দের হাটে, আবার কখনোবা ‘কোটওয়ালা’দের হাটে। বাংলাদেশের ভেজালের রাজ্যে সবচাইতে নিকৃষ্ট ভেজাল পণ্যে পরিণত হয়েছে এদেশের বুদ্ধিজীবীরা।

স্বাধীনতার পর বুদ্ধিজীবীদের শতকরা আশি ভাগই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সরাসরি দালালিতে নিজেদের নাম লিখিয়েছিলো। এর ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রেখেছেন তারা। বর্তমানে এরাই তেল-গ্যাস-কয়লা’সহ খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বিদেশী কোম্পানীকে ইজারা দেয়া সম্পর্কে শাসক শ্রেণীর প্রতিনিধি হয়ে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন ইত্যাদিতে গলা ফাটিয়ে প্রচারণা করে যাচ্ছে ; এরাই অর্থনীতির নানা বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ও তথ্য দিয়ে দেশের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করছে; এরাই ভারতের সাথে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট নিয়ে নানা রহস্য সৃষ্টি করে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে; সবকিছুর বিনিময়ে এরা অর্থসহ নানা রকমের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণী আবার যাঁরা দেশের খনিজ সম্পদ রক্ষার্থে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, দেশের বিদ্যুৎ, বন্দর ও ভূমি রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন তাদেরকে অবলীলায় ‘দেশদ্রোহী’ তকমা লাগিয়ে নিজেদেরকে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসাবে জাহির করছে।

শ্রেণী স্বার্থের বাইরে আমাদের আলোচ্য বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় একচুলও নড়বে না। এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণী কখনো সরাসরি, আবার কখনো’বা আওয়ামী লীগ অথবা বিএনিপ’র পরোক্ষ সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী। যেসকল বুদ্ধিজীবী সরাসরি ঘোষণা দিয়ে আ.লীগ বা বিএনপি’পন্থী বা জামাতপন্থী তাদেরকে জনগণ সহজেই চিনতে পারে। এদের সম্পর্কে জনগণের বিভ্রান্তির কিছু নেই। কারণ এরা ইতোমধ্যে দালালীর কারণে ব্যাপক জনগণের কাছে চিহ্নিত হয়ে বর্জিত বা প্রায় বর্জিত হয়েছে।

আরেক শ্রেণীর বর্ণচোরা বুদ্ধিজীবী আছে তারা নিজের শ্রেণী অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন, মুখে আদর্শবাদ ও প্রগতিশীলতার কথা বলেন অন্তরে লালন করেন প্রতিক্রিয়াশীলতা। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, কলামিস্ট হিসাবে খ্যাত এইসব বুদ্ধিজীবীর দল অনেক বেশি ভয়ংকর। কারণ জনগণ এদের সম্পর্কে অনেক ধোঁয়াশার মধ্যে থাকেন, অনেকে এদের অনুসারী হয়ে উঠেন, ফলে এই ধারার বুদ্ধিজীবীরাই দেশের ক্ষতি করেন সবচাইতে বেশী। মনীষী আহমদ ছফা এই শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন-“আমাদের কবি-সাহিত্যিকেরা সমাজের সবচেয়ে নোংরা মানুষ। তাঁরা দেশকে যে হারে ফাঁকি দিয়েছেন কোনো কালোবাজারীর সঙ্গে তার তুলনা হয় না। তাঁদের ছদ্ম আদর্শবাদিতার সঙ্গে গণিকাদের সতীপনার তুলনা করা যায়।” অবশ্য স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর মানুষ দলীয় বা নির্দলীয় ভন্ড বুদ্ধিজীবীদের প্রহেলিকাময় লেখালেখি, ব্ক্তৃতাবাজি বা প্রচারণা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছেন।

দলীয় বুদ্ধিজীবী বা প্রহেলিকা সৃষ্টিকারী বুদ্ধিজীবীদের বাইরে সত্যিকার দেশপ্রেমিক ও সমাজ পরিবর্তনকামী বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা দেশে খুব নগণ্য হলেও আছেন এবং এঁরাই দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এই ধারা যতোই ক্ষুদ্র হোক, যেহেতু জনগণের প্রকৃত সংকট থেকে উত্তরণের কথা এঁরাই বলছেন- তাই কিছুটা প্রলম্বিত হলেও এই ধারা এক সময় সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জনগণের দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে- এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আহমদ ছফার উক্তি দিয়ে শুরু করেছিলাম, তাঁর উল্লেখিত গ্রন্থের শেষ ক’টি লাইনে আশাবাদেরই প্রতিফলন ঘটেছে এভাবে:

“বাংলাদেশের নাড়ীর স্পন্দনে আজ যা ধ্বনিত হচ্ছে তার সুরটি আন্তর্জাতিক। তার নিজের যা আছে তাই নিয়ে বিশ্বের সামনে তাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে পাকিস্তানী সমাজ বা বাঙলার কৃষিনির্ভর সামন্ত সমাজের কোন স্থান যদি থাকে, থাকবে স্মৃতি হিসেবে, কখনও তা প্রধান ধারা নয়। তার প্রধান ধারাটি হবে এ দেশীয় হয়েও আন্তর্দেশীয়, বাঙলাদেশের মানুষের হয়েও হবে সর্ব মানুষের। এই ধারাটি এখন প্রমত্তা পদ্মার মতো ফুলে ফুলে উঠার কথা- এবং এই ধারাস্রোতে অবগাহিত হয়ে বাঙলার এই অংশে জন্ম নেবে নুতন কালের রবীন্দ্রনাথ, নতুন কালের বিদ্যাসাগর, নতুন কালের জগদীশচন্দ্র বসু এবং নতুন কালের নজরুল ইসলাম।” (প্রাগুক্ত, পৃ-৯৭)

পরিশেষে বলবো, অস্থি-লোল-চর্মসার ও হাইব্রিড সকল ধরনের রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও বুদ্ধিজীবীদের ফাঁদ থেকে এই দেশের মানুষকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন নতুন কালের সমাজ পরিবর্তনকামী বুদ্ধিজীবীদের। এই নতুন কালের বিপ্লবী চেতনা সম্পন্ন বুদ্ধিজীবীদের দিক-নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী দিনের ভবিষ্যত।