ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল তার কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও ব্যক্তিপর্যায়ে জনগণ এখনো ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করতে পারছেনা। বিশেষত অনলাইনে টাকা আদান প্রদানের বিষয়টি এখনো সারাদেশে চালু হয়নি। ধরা যাক ষাট বছর বয়সী একজন আবু ইমাম ওনার বাড়ির বিদ্যুত বিল, পানির বিল, গ্যাস বিল, টেলিফোন বিল প্রতিমাসে অনলাইনে প্রদান করতে চান। সরকার কি এমন কোন উদ্দ্যোগ নিয়েছেন যে ঘরে বসে যে কেউ এই বিলগুলো পরিশোধ করতে পারবেন? অথবা ধরা যাক মিঊনিসিপ্যাল অফিসে না যেয়ে কি একজন নাগরিক মিঊনিসিপ্যাল কর বা সরকারী অফিসে না গিয়ে কি অনলাইনে আয়কর প্রদান করতে পারছেন? উত্তরটি হচ্ছে – না। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে , আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে এই সেবা গুলো পাবার জন্য?

সরকারের হাতে এখনো দুবছর সময় আছে। সরকার চাইলে এই সময়ের ভেতর এই সকল সেবা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নে জোর উদ্দ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বিশেষত গতকাল বর্তমান আওয়ামী সরকার বিএনপি থেকে যে পরোক্ষ অনুপ্রেরণা পেয়েছে তাকে আওয়ামীলীগ ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে পারে। বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া গতকাল তারেক জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ধামরাইয়ে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাপটপ প্রদান করেছেন…।।এতে বোঝা গেল রাজনৈতিকভাবে ডিজিটালের সমালোচনা করলেও নৈতিকভাবে বিএন পি ডিজিটাল বাংলাদেশের পক্ষে।নাহলে এতকিছু থাকতে ল্যাপ্টপ কেন? আশা করি সরকার অবিলম্বে সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে টাকা আদান প্রদানের সক্ষমতা অর্জনের জন্য কার্যকরী নির্দেশ প্রদান করবেন।

সরকার কি বাংলাদেশের সকল সরকারী, আধা সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)অনলাইনে সেবা প্রদানের সক্ষমতা অর্জনের জন্য একটি সময় বেঁধে দিতে পারে না? অনলাইনে আদানপ্রদান সম্ভব হলে একজন আবু ইমামের মত হাজার হাজার মানুষ আর বিল দিতে বাসা থেকে বের হবে না। হাজার হাজার মানুষের কর্মঘন্টা শুধু এতে বাঁচবেনা, বেঁচে যাবে তেল,কমবে যানজ্‌ কমবে কার্বন নিঃসরণ। লাল সবুজের দেশ আরো সবুজ হয়ে উঠবে!